আজ ০৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
যশোরের শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৮টি স্বর্ণের বার সহ ১ জন আটক। এসিল্যান্ড অফিসের নাকের ডগায় সংস্কারের নামে নতুন দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ সাতক্ষীরার কালারোয়ায় মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, আগুন আতঙ্কে দিন কাটছে এক পরিবারের। আলিপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন ধানদিয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী তৎপরতা ও গণসংযোগ করেছেন আলহাজ্ব মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ সাতক্ষীরার কালারোয়ায় মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, আগুন আতঙ্কে দিন কাটছে এক পরিবারের। সাতক্ষীরায় আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের প্রস্তুতি সভা তালায় ১৯টি দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতা ও তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ মো. রেজাউল ইসলাম রেজা তামাকমুক্ত সাতক্ষীরা পৌরসভা গড়তে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্যসেবায় যত্নের ছোঁয়া: সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে সার্ভিস উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত
জুমার দিনের ফজিলত

জুমার দিনের যে মুহূর্তে দোয়া কবুলের কথা এসেছে হাদিসে

  • বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময়: ০৩:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

মুসলমানদের কাছে সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন শুক্রবার বা জুমার দিন। ইবাদত-বন্দেগি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। হাদিসে জুমার দিনের ফজিলত এবং এ দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিন তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিন তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৮৬১)

জুমার দিনের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে যখন কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার কথা হাদিসে এসেছে। তবে সেই বিশেষ সময়টি ঠিক কখন—এ নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনায় ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া যায়। দোয়া কবুলের বিষয়টি নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ না থাকলেও নির্দিষ্ট সময় নিয়ে একাধিক মত রয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) একদিন শুক্রবারের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তিনি বলেন, *‘জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, সেই সময়টায় যদি কোনো মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন।’* এরপর রাসুল (সা.) তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন। (বুখারি)
আরেক হাদিসে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, *ইমামের মিম্বরে বসার সময় থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত সময়টিই সেই বিশেষ মুহূর্ত।* (মুসলিম, ইবনে খুজাইমা, বায়হাকি)

এ বিষয়ে জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে ১২ ঘণ্টা রয়েছে। তাতে এমন একটা সময় রয়েছে, সে সময়ে আল্লাহর বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায় আল্লাহ তা-ই দেন। অতএব তোমরা আসরের শেষ সময়ে তা তালাশ করো।’ (আবু দাউদ, হাদিস নং : ১০৪৮; নাসাঈ, হাদিস নং : ১৩৮৯)

আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) থেকে বর্ণিত, শুক্রবারে আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়। বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ ‘যাদুল মাআদ’-এও জুমার দিন আসরের নামাজের পর দোয়া কবুলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (২/৩৯৪) ইমাম আহমদ (রহ.)-এর মতও একই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় নিয়ে আরও কয়েকটি মত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—জুমার নামাজে সুরা ফাতিহার পর আমিন বলার সময়, আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়, মুয়াজ্জিন আজান দেওয়ার সময়, সূর্য ঢলে পড়ার সময়, ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য মিম্বরে দাঁড়ানোর সময়, দুই খুতবার মধ্যবর্তী সময় এবং জুমার দিন ফজরের আজানের সময়।

হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা ও আলেমদের মতামত থেকে বোঝা যায়, জুমার দিনে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। তবে সেই সময়টি নির্দিষ্ট করে না দেওয়ার কারণে বান্দা যেন পুরো দিনই ইবাদত, দোয়া ও আল্লাহর স্মরণে মশগুল থাকে—এমন ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়।

জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত হলো, এ দিনে গুনাহ মাফের ঘোষণা রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও এক জুমা থেকে অন্য জুমা মাঝের সব গুনাহকে মাফ করে দেয়; যতক্ষণ পর্যন্ত সে কবিরা গুনাহে লিপ্ত না হয়।’ (মুসলিম)

আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন,‘নিশ্চয়ই জুমার দিন এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, সে সময়টিতে একজন মুসলমান যে কল্যাণের দোয়া করবে, অবশ্যই আল্লাহ তাকে তা দান করবেন।’ (মুসলিম)

এ ছাড়া হাদিসে আসরের পর জুমার দিনের শেষ সময়ে দোয়া করার কথাও এসেছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আসরের পরে একবারে শেষ সময়ে দোয়া করো।’ (আবু দাউদ)  l ফলে জুমার দিন মুসলমানদের জন্য ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বিশেষ সুযোগ নিয়ে আসে। বিশেষ করে দোয়া কবুলের সম্ভাব্য সময়গুলোতে বেশি বেশি দোয়া ও ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

যশোরের শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৮টি স্বর্ণের বার সহ ১ জন আটক।

জুমার দিনের ফজিলত

জুমার দিনের যে মুহূর্তে দোয়া কবুলের কথা এসেছে হাদিসে

আপডেট সময়: ০৩:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

মুসলমানদের কাছে সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন শুক্রবার বা জুমার দিন। ইবাদত-বন্দেগি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। হাদিসে জুমার দিনের ফজিলত এবং এ দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিন তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিন তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৮৬১)

জুমার দিনের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে যখন কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার কথা হাদিসে এসেছে। তবে সেই বিশেষ সময়টি ঠিক কখন—এ নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনায় ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া যায়। দোয়া কবুলের বিষয়টি নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ না থাকলেও নির্দিষ্ট সময় নিয়ে একাধিক মত রয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) একদিন শুক্রবারের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তিনি বলেন, *‘জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, সেই সময়টায় যদি কোনো মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন।’* এরপর রাসুল (সা.) তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন। (বুখারি)
আরেক হাদিসে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, *ইমামের মিম্বরে বসার সময় থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত সময়টিই সেই বিশেষ মুহূর্ত।* (মুসলিম, ইবনে খুজাইমা, বায়হাকি)

এ বিষয়ে জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে ১২ ঘণ্টা রয়েছে। তাতে এমন একটা সময় রয়েছে, সে সময়ে আল্লাহর বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায় আল্লাহ তা-ই দেন। অতএব তোমরা আসরের শেষ সময়ে তা তালাশ করো।’ (আবু দাউদ, হাদিস নং : ১০৪৮; নাসাঈ, হাদিস নং : ১৩৮৯)

আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) থেকে বর্ণিত, শুক্রবারে আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়। বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ ‘যাদুল মাআদ’-এও জুমার দিন আসরের নামাজের পর দোয়া কবুলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (২/৩৯৪) ইমাম আহমদ (রহ.)-এর মতও একই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় নিয়ে আরও কয়েকটি মত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—জুমার নামাজে সুরা ফাতিহার পর আমিন বলার সময়, আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়, মুয়াজ্জিন আজান দেওয়ার সময়, সূর্য ঢলে পড়ার সময়, ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য মিম্বরে দাঁড়ানোর সময়, দুই খুতবার মধ্যবর্তী সময় এবং জুমার দিন ফজরের আজানের সময়।

হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা ও আলেমদের মতামত থেকে বোঝা যায়, জুমার দিনে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। তবে সেই সময়টি নির্দিষ্ট করে না দেওয়ার কারণে বান্দা যেন পুরো দিনই ইবাদত, দোয়া ও আল্লাহর স্মরণে মশগুল থাকে—এমন ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়।

জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত হলো, এ দিনে গুনাহ মাফের ঘোষণা রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও এক জুমা থেকে অন্য জুমা মাঝের সব গুনাহকে মাফ করে দেয়; যতক্ষণ পর্যন্ত সে কবিরা গুনাহে লিপ্ত না হয়।’ (মুসলিম)

আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন,‘নিশ্চয়ই জুমার দিন এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, সে সময়টিতে একজন মুসলমান যে কল্যাণের দোয়া করবে, অবশ্যই আল্লাহ তাকে তা দান করবেন।’ (মুসলিম)

এ ছাড়া হাদিসে আসরের পর জুমার দিনের শেষ সময়ে দোয়া করার কথাও এসেছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আসরের পরে একবারে শেষ সময়ে দোয়া করো।’ (আবু দাউদ)  l ফলে জুমার দিন মুসলমানদের জন্য ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বিশেষ সুযোগ নিয়ে আসে। বিশেষ করে দোয়া কবুলের সম্ভাব্য সময়গুলোতে বেশি বেশি দোয়া ও ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।