আজ ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
কুশোডাঙ্গায় সড়ক ও সাঁকো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি সাত্তার মোড়লের আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের হেফাজত করা জরুরি গাজী নজরুলসহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ৬ এমপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি আশাশুনিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে দুই দোকানে ৪ হাজার টাকা জরিমান আশাশুনির দু’টি ভূমি অফিস পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক শ্যামনগরে পিকেএসএফ প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ ১৭ বছর পর কাজ শুরু, ৩১ শতাংশেই থমকে সাতক্ষীরা-ভেটখালী সড়ক নদী শাসনের অপ-প্রভাব আজ সাতক্ষীরা স্থায়ী জলবদ্ধতা সাতক্ষীরায় এনজিও পরিচালন ব্যবস্থায় সুশাসন জোরদারকরণ” শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
মহান আল্লাহ আমাদের অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন এবং তা সংরক্ষণ করা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার অন্তর্ভুক্ত

আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের হেফাজত করা জরুরি

  • বিশেষ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময়: ০৩:২৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

হায়াতুন হুসনা

মহান আল্লাহ আমাদের অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন। এসব নিয়ামতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামত হলো খাদ্য।

খাদ্য মানুষের জীবনধারণের ভিত্তি, শরীরের পুষ্টির উপায় এবং শক্তি ও সামর্থ্যের উৎস। আল্লাহ তাআলা আমাদের এই খাদ্য কীভাবে সৃষ্টি হয় এবং এর বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে চিন্তা করতে বলেছেন।

তিনি বলেন, ‘অতএব, মানুষ যেন তার খাদ্যের দিকে লক্ষ্য করে। আমিই প্রচুর পরিমাণে পানি বর্ষণ করেছি। তারপর ভূমিকে যথাযথভাবে বিদীর্ণ করেছি। অতঃপর তাতে উৎপন্ন করেছি শস্য, আঙুর, তাজা ঘাস, জলপাই, খেজুর, ঘন উদ্যান, ফলমূল ও ঘাস—তোমাদের ও তোমাদের গবাদি পশুর উপকারের জন্য।’
(সুরা : আবাসা, আয়াত : ২৪-৩২)

এই নিয়ামত সম্পর্কে আমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে এবং এর জন্য আমাদের হিসাব দিতে হবে। তাই যিনি এই নিয়ামত দান করেছেন, সেই আল্লাহর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা কর্তব্য।

খাদ্যের নিয়ামত সংরক্ষণ এবং অপচয় থেকে বেঁচে থাকা

আল্লাহ তাআলা আমাদের খাদ্যের নিয়ামত সংরক্ষণ করতে এবং এতে অপচয় না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা : আল-আরাফ, আয়াত : ৩১)

আমাদের নবী (সা.) নিয়ামতের সম্মান করা এবং এর অপব্যবহার থেকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে বিশেষভাবে উপদেশ দিয়েছেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) পথে একটি খেজুর দেখতে পেলেন।

তিনি বলেন, ‘যদি আমার আশঙ্কা না হতো যে এটি সদকার খেজুর, তাহলে আমি এটি খেয়ে নিতাম।’ (বুখারি ও মুসলিম)

খাদ্যের প্রতি নবীজির বিশেষ যত্ন

খাদ্যের নিয়ামতের প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কতটা যত্ন ছিল, তা নিম্নোক্ত হাদিস থেকে স্পষ্ট। তিনি যখন খাবার খেতেন, তখন তাঁর তিনটি আঙুল চেটে নিতেন। তিনি আরো বলেন, ‘তোমাদের কারো লোকমা যদি পড়ে যায়, তাহলে সে যেন তা থেকে ময়লা দূর করে তা খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা ছেড়ে না দেয়। আর তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা পাত্রটিও ভালোভাবে পরিষ্কার করি। তিনি বলেছেন, তোমরা জানো না, তোমাদের কোন খাবারের মধ্যে বরকত রয়েছে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৮০৩)

এ থেকে বোঝা যায়, খাবারের সামান্য অংশকেও অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ কোন অংশে আল্লাহ বরকত রেখেছেন, তা আমরা জানি না।

অপচয় ও অপব্যয় একটি মারাত্মক রোগ

ইসরাফ বা অতিরিক্ত ব্যয় এবং তাবজির বা অপচয় অত্যন্ত বিপজ্জনক পথ। এটি ধ্বংসাত্মক ব্যাধি। এর ফলে মানুষের মধ্যে খারাপ চরিত্র সৃষ্টি হয়, সুখী ও সমৃদ্ধ পরিবার ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এবং মানুষের মধ্যে লাঞ্ছনা ও অধীনতার জন্ম হয়। আল্লাহর কিতাব ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহে এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে। ফেরাউন সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই সে ছিল অহংকারী ও সীমা লঙ্ঘনকারীদের একজন।’
(সুরা : আদ-দুখান, আয়াত : ৩১)

আল্লাহ আরও বলেন, ‘…নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানদের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা : আল-ইসরা/বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৬-২৭)

নিয়ামতের সম্মান করা আল্লাহর শুকরিয়া

নিয়ামতের সম্মান করা এবং তা সংরক্ষণ করা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তাহলে অবশ্যই আমি তোমাদের আরো বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৭)

অতএব, একজন মুসলিমের উচিত আল্লাহর দেওয়া খাদ্য ও সম্পদের নিয়ামতের মূল্য বোঝা, তাঁর শুকরিয়া আদায় করা, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা, অন্যকে দান করা এবং কোনোভাবেই অপচয় ও লোক-দেখানো থেকে বেঁচে থাকা।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

কুশোডাঙ্গায় সড়ক ও সাঁকো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি সাত্তার মোড়লের

মহান আল্লাহ আমাদের অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন এবং তা সংরক্ষণ করা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার অন্তর্ভুক্ত

আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের হেফাজত করা জরুরি

আপডেট সময়: ০৩:২৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

হায়াতুন হুসনা

মহান আল্লাহ আমাদের অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন। এসব নিয়ামতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামত হলো খাদ্য।

খাদ্য মানুষের জীবনধারণের ভিত্তি, শরীরের পুষ্টির উপায় এবং শক্তি ও সামর্থ্যের উৎস। আল্লাহ তাআলা আমাদের এই খাদ্য কীভাবে সৃষ্টি হয় এবং এর বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে চিন্তা করতে বলেছেন।

তিনি বলেন, ‘অতএব, মানুষ যেন তার খাদ্যের দিকে লক্ষ্য করে। আমিই প্রচুর পরিমাণে পানি বর্ষণ করেছি। তারপর ভূমিকে যথাযথভাবে বিদীর্ণ করেছি। অতঃপর তাতে উৎপন্ন করেছি শস্য, আঙুর, তাজা ঘাস, জলপাই, খেজুর, ঘন উদ্যান, ফলমূল ও ঘাস—তোমাদের ও তোমাদের গবাদি পশুর উপকারের জন্য।’
(সুরা : আবাসা, আয়াত : ২৪-৩২)

এই নিয়ামত সম্পর্কে আমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে এবং এর জন্য আমাদের হিসাব দিতে হবে। তাই যিনি এই নিয়ামত দান করেছেন, সেই আল্লাহর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা কর্তব্য।

খাদ্যের নিয়ামত সংরক্ষণ এবং অপচয় থেকে বেঁচে থাকা

আল্লাহ তাআলা আমাদের খাদ্যের নিয়ামত সংরক্ষণ করতে এবং এতে অপচয় না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা : আল-আরাফ, আয়াত : ৩১)

আমাদের নবী (সা.) নিয়ামতের সম্মান করা এবং এর অপব্যবহার থেকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে বিশেষভাবে উপদেশ দিয়েছেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) পথে একটি খেজুর দেখতে পেলেন।

তিনি বলেন, ‘যদি আমার আশঙ্কা না হতো যে এটি সদকার খেজুর, তাহলে আমি এটি খেয়ে নিতাম।’ (বুখারি ও মুসলিম)

খাদ্যের প্রতি নবীজির বিশেষ যত্ন

খাদ্যের নিয়ামতের প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কতটা যত্ন ছিল, তা নিম্নোক্ত হাদিস থেকে স্পষ্ট। তিনি যখন খাবার খেতেন, তখন তাঁর তিনটি আঙুল চেটে নিতেন। তিনি আরো বলেন, ‘তোমাদের কারো লোকমা যদি পড়ে যায়, তাহলে সে যেন তা থেকে ময়লা দূর করে তা খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা ছেড়ে না দেয়। আর তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা পাত্রটিও ভালোভাবে পরিষ্কার করি। তিনি বলেছেন, তোমরা জানো না, তোমাদের কোন খাবারের মধ্যে বরকত রয়েছে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৮০৩)

এ থেকে বোঝা যায়, খাবারের সামান্য অংশকেও অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ কোন অংশে আল্লাহ বরকত রেখেছেন, তা আমরা জানি না।

অপচয় ও অপব্যয় একটি মারাত্মক রোগ

ইসরাফ বা অতিরিক্ত ব্যয় এবং তাবজির বা অপচয় অত্যন্ত বিপজ্জনক পথ। এটি ধ্বংসাত্মক ব্যাধি। এর ফলে মানুষের মধ্যে খারাপ চরিত্র সৃষ্টি হয়, সুখী ও সমৃদ্ধ পরিবার ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এবং মানুষের মধ্যে লাঞ্ছনা ও অধীনতার জন্ম হয়। আল্লাহর কিতাব ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহে এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে। ফেরাউন সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই সে ছিল অহংকারী ও সীমা লঙ্ঘনকারীদের একজন।’
(সুরা : আদ-দুখান, আয়াত : ৩১)

আল্লাহ আরও বলেন, ‘…নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানদের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা : আল-ইসরা/বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৬-২৭)

নিয়ামতের সম্মান করা আল্লাহর শুকরিয়া

নিয়ামতের সম্মান করা এবং তা সংরক্ষণ করা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তাহলে অবশ্যই আমি তোমাদের আরো বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৭)

অতএব, একজন মুসলিমের উচিত আল্লাহর দেওয়া খাদ্য ও সম্পদের নিয়ামতের মূল্য বোঝা, তাঁর শুকরিয়া আদায় করা, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা, অন্যকে দান করা এবং কোনোভাবেই অপচয় ও লোক-দেখানো থেকে বেঁচে থাকা।