সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলায় টিআর, কাবিখা, কাবিটাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে ঘুষ আদায় করেন তিনি। এমনকি কোনো কোনো প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অর্থ ভাগাভাগি করে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় কাজ না করেও বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
ওই সময়ে তিনি নিজেকে তৎকালীন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না বলে স্থানীয়দের দাবি।
বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মফিজুর রহমান তার এক চাচাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির শূরা সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ এলাকায় তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
দেবহাটা উপজেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান ঘুষ ছাড়া কিছুই বোঝেন না।
প্রকল্পের টাকা ছাড় ও কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাকে টাকা দিতে হয়।” তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রকল্পে নির্ধারিত কাজের বাইরে অর্থ লেনদেনের চাপ সৃষ্টি করা হয়।
কালিগঞ্জ উপজেলার এক চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, কালিগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করার পর থেকেই দেখছি “তার শুধু টাকা আর টাকা দরকার। ঘুষের টাকায় এলাকায় আলিশান বাড়ি করেছেন। নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি করেছেন।
জেলা কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তাও মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের কথা জানান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে ঘুষখোর পিআইও যদি কেউ থাকে, তাহলে কালিগঞ্জ উপজেলার মফিজুর রহমানকে আমি তার মধ্যে একজন হিসেবে মনে করি। আমার দেখা মতে, এতো নিকৃষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আর দেখিনি।
তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকার পরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, এটা বাংলাদেশ, ইচ্ছে করলেই সবকিছু সম্ভব হয় না।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত হলে প্রকল্পের বরাদ্দ, বাস্তবায়ন, বিল-ভাউচার এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নিজস্ব প্রতিনিধি, 



















