আজ ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
১৮০ দিনের মূল্যায়ন শেষে মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তনের আভাস শ্যামনগরের উপকূলীয় কৈখালী ভূমি অফিসে জরাজীর্ণ টিন সেটে চলছে দুই ইউনিয়নের ভূমি সেবা আশাশুনির তেতুলিয়া-টিকা সড়কের কোদালশাহ স্লুইস গেটে ধস,প্লাবনের শঙ্কায় ১০ গ্রামের মানুষ দেবহাটা-কালিগঞ্জে সরকারি বরাদ্দের টাকা গিলে খাচ্ছে পিআইও মফিজুর ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ’, মিরাজকে গিলক্রিস্ট ট্রলের ‘লর্ড শান্ত’ এখন সত্যিকারের ‘লর্ড’ সাতক্ষীরায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা, র‍্যালি মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণ সাতক্ষীরায় বল্লী ইউনিয়নে জমিজমা বিরোধের জেরে নারীসহ পরিবারের ওপর হামলায় থানায় লিখিত অভিযোগ চিকিৎসার আশ্বাসে তালায় এনে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় নারীসহ গ্রেপ্তার ২ শ্যামনগরের উপকূলে রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসী ধান রোপন করে প্রতিবাদ

দেবহাটা-কালিগঞ্জে সরকারি বরাদ্দের টাকা গিলে খাচ্ছে পিআইও মফিজুর

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলায় টিআর, কাবিখা, কাবিটাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে ঘুষ আদায় করেন তিনি। এমনকি কোনো কোনো প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অর্থ ভাগাভাগি করে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় কাজ না করেও বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

ওই সময়ে তিনি নিজেকে তৎকালীন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না বলে স্থানীয়দের দাবি।

বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মফিজুর রহমান তার এক চাচাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির শূরা সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ এলাকায় তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

দেবহাটা উপজেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান ঘুষ ছাড়া কিছুই বোঝেন না।

প্রকল্পের টাকা ছাড় ও কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাকে টাকা দিতে হয়।” তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রকল্পে নির্ধারিত কাজের বাইরে অর্থ লেনদেনের চাপ সৃষ্টি করা হয়।

কালিগঞ্জ উপজেলার এক চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, কালিগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করার পর থেকেই দেখছি “তার শুধু টাকা আর টাকা দরকার। ঘুষের টাকায় এলাকায় আলিশান বাড়ি করেছেন। নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি করেছেন।

জেলা কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তাও মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের কথা জানান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে ঘুষখোর পিআইও যদি কেউ থাকে, তাহলে কালিগঞ্জ উপজেলার মফিজুর রহমানকে আমি তার মধ্যে একজন হিসেবে মনে করি। আমার দেখা মতে, এতো নিকৃষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আর দেখিনি।

তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকার পরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, এটা বাংলাদেশ, ইচ্ছে করলেই সবকিছু সম্ভব হয় না।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত হলে প্রকল্পের বরাদ্দ, বাস্তবায়ন, বিল-ভাউচার এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

১৮০ দিনের মূল্যায়ন শেষে মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তনের আভাস

দেবহাটা-কালিগঞ্জে সরকারি বরাদ্দের টাকা গিলে খাচ্ছে পিআইও মফিজুর

আপডেট সময়: ১২:১৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলায় টিআর, কাবিখা, কাবিটাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে ঘুষ আদায় করেন তিনি। এমনকি কোনো কোনো প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অর্থ ভাগাভাগি করে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় কাজ না করেও বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

ওই সময়ে তিনি নিজেকে তৎকালীন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না বলে স্থানীয়দের দাবি।

বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মফিজুর রহমান তার এক চাচাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির শূরা সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ এলাকায় তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

দেবহাটা উপজেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান ঘুষ ছাড়া কিছুই বোঝেন না।

প্রকল্পের টাকা ছাড় ও কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাকে টাকা দিতে হয়।” তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রকল্পে নির্ধারিত কাজের বাইরে অর্থ লেনদেনের চাপ সৃষ্টি করা হয়।

কালিগঞ্জ উপজেলার এক চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, কালিগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করার পর থেকেই দেখছি “তার শুধু টাকা আর টাকা দরকার। ঘুষের টাকায় এলাকায় আলিশান বাড়ি করেছেন। নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি করেছেন।

জেলা কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তাও মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের কথা জানান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে ঘুষখোর পিআইও যদি কেউ থাকে, তাহলে কালিগঞ্জ উপজেলার মফিজুর রহমানকে আমি তার মধ্যে একজন হিসেবে মনে করি। আমার দেখা মতে, এতো নিকৃষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আর দেখিনি।

তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকার পরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, এটা বাংলাদেশ, ইচ্ছে করলেই সবকিছু সম্ভব হয় না।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত হলে প্রকল্পের বরাদ্দ, বাস্তবায়ন, বিল-ভাউচার এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।