সাতক্ষীরার শ্যামনগরের উপকূলীয় কৈখালী ভূমি অফিসের জরাজীর্ণ টিন সেট ভবনেই চলছে দুই ইউনিয়নের ভূমি সেবা কার্যক্রম। উপজেলার কৈখালী ভূমি অফিসের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে চরম জরাজীর্ণ ও বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিদিন চলছে রমজান নগর ও কৈখালী দুই ইউনিয়ন ভূমি সেবার গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কার্যক্রম। ফলে কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ প্রতিদিন আসা শত শত সেবাগ্রহীতাকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির দেয়ালের অংশের প্লাস্টার ধসে পড়ছে। বর্ষা আসলে ভবনের টিনের চাল চুইয়ে পানি পড়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, বালাম বই এবং কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরকারি সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং দরজা-জানলাগুলোর ও বেহাল দশা। সামান্য বৃষ্টি হলেই অফিসের আশপাশে পানি জমে একাকার হয়ে যায়, তখন চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে।
স্থানীয় ৭০ বছরের বেশি এক মুরুব্বী মোজাহার হোসেন জানান ৮৩ কি ৮৪ সালের দিকে তৈরি হয় টিন সেট এই অফিসটি। চার দশকের বেশি সময় ধরে এই টিন সেটে দুটি ইউনিয়নের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এরকম ভাঙা ঘরে সেবা প্রদান করে নায়েব সাহেব খুব কষ্ট করে। টিনের চাল থেকে পানি পড়ায় বহু বছরের পুরোনো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বালাম বই নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এগুলো একবার নষ্ট হলে এলাকার সাধারণ মানুষজন স্থায়ীভাবে ব্যাপক ভূমি বিরোধের সম্মুখীন হবেন বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। ভূমি অফিসে এসে সারাণ ভয়ে থাকতে হয়, কখন দেওয়াল ধসে ভেঙে পড়ে। আর একটু বৃষ্টি হলেই নাজুক অবস্থা। এত রাজস্ব আদায় হয় এই অফিস থেকে, অথচ ভবনের এই দশা!
অফিস থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব সরকারের কোষাগারে জমা হয়। কিন্তু ভবনটির সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ভাঙা চালের নিচে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন কাজ করতে হয় অফিসের কর্মকর্তা ও সেবা নিতে আসা গ্রাহকের।
এ বিষয়ে ৮ নং ওয়ার্ড ইউ,পি সদস্য মো: আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন , কৈখালী ভূমি অফিসের জরজীর্ণ অবস্থা। বহু বছর ধরে ভবনটি অবহেলিত। এ ভবনে কৈখালী ও রমজাননগর ইউনিয়নের সর্ব সাধারণের গুরুত্বপুন্ন নথিপত্র সংরক্ষিত থাকে। ভবনটির বেহাল দশার কারনে আমরা সব সময় দু:চিন্তায় থাকি। দ্রুত ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
এ বিষয়ে শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজেরে প্রভাষক মো: ওমর ফারুক বলেন , কৈখালী ভূমি অফিসে রমজাননগর ও কৈখালী ইউনিয়নের সর্ব সাধারনের ভূমি সংক্রান্ত কাগজ পত্র সংরক্ষন থাকে। অফিসটির জরাজীর্ণ অবস্থা। দেওয়াল ধসে পড়ছে। আমাদের ঝুঁকির মধ্যে সেবা গ্রহন করতে হয়। অতি দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে কৈখালী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো: রেজাউল ইসলাম বলেন , অফিসের জরাজীর্ণ ভবনেই চলছে আমাদের কার্যক্রম । ইতি মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে কিছু টিন পেয়েছিলাম। যেটা দিয়ে অফিস আংশিক ভাবে সংস্কার করা হয়েছে। যতটুকু জানি খুব দ্রুত একটি নতুন ভবনের কাজ শুরু হবে।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক এবং উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এম, আব্দুস সামাদ বলেন , কৈখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মানের অনুমোদন হয়েছে। খুব দ্রুত ভবনের কাজ শুরু হবে।
শ্যামনগর প্রতিনিধি: 




















