সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে গুড়পুকুর মেলা চলাকালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং পার্কসংলগ্ন দীঘির পানি ময়লা-আবর্জনা থেকে রক্ষার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পার্কটিকে সব ধরনের মেলা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
এ লক্ষ্যে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবেদনে মেলা চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, দীঘির পানিদূষণ রোধ এবং পৌরবাসীর জন্য পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক সাতক্ষীরা পৌরবাসীর উন্মুক্ত পরিবেশে হাঁটাচলা, প্রাতর্ভ্রমণ, শরীরচর্চা ও অবসর কাটানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। পার্কসংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী দীঘিটিও স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে মেলা চলাকালে সৃষ্ট বর্জ্য ও দূষিত পানি পরিবেশের ক্ষতি করার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
নাগরিক প্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, মেলা চলাকালে এবং মেলা শেষ হওয়ার পর পার্কের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। এতে শিশু, প্রবীণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের হাঁটাচলা, শরীরচর্চা ও খেলাধুলার সুযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে দীঘির পানিতে ময়লা-আবর্জনা মিশে গেলে পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
আবেদনে গুড়পুকুর মেলা ঘিরে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথমত, মেলার প্রতিটি দোকানের উদ্যোগে বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট বাক্স রাখতে হবে। পাশাপাশি মেলা কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য সংগ্রহের বাক্স স্থাপন করতে হবে। পৌর কর্তৃপক্ষকে প্রতিদিন এসব বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, মেলার মাঠের ময়লা-আবর্জনা ও দূষিত পানি যাতে কোনোভাবেই দীঘিতে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দীঘিতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে প্রয়োজনীয় নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ককে সব ধরনের মেলা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে মুক্ত রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে পার্কটির পরিবেশগত ও সামাজিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ন থাকে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, পার্ক ও দীঘির পরিবেশ রক্ষা শুধু পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়; এটি পৌরবাসীর জনস্বাস্থ্য, নাগরিক অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ নগর পরিবেশ নিশ্চিত করার সঙ্গেও জড়িত। তাই মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানিদূষণ প্রতিরোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এবিষয়ে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সভাপতি অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী এবং সাধারণ সম্পাদক তাপসী মন্ডল কমিটির পক্ষ থেকে আবেদনটি করেছেন। তাঁরা পৌর কর্তৃপক্ষের সদয় বিবেচনা ও কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা পৌরবাসীর স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন আবেদনকারীরা।
আরাফাত আলী, 











