আরাফাত আলী, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমির দলিল নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ঘুষ বাণিজ্য ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সাব-রেজিস্ট্রার মিন্টু চক্রবর্তীর নাম ব্যবহার করে অফিসের প্রধান কেরানি আব্দুল জব্বার ও নকলনবিশ নির্মল কুমার মণ্ডল এসব অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আশাশুনি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতি মাসে গড়ে ৩৬০ থেকে ৩৮০টি দলিল নিবন্ধন হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিটি দলিলের বিপরীতে সরকারি ফির বাইরে প্রতি লাখে অতিরিক্ত এক হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। সেই হিসাবে প্রতি মাসে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পরিমাণ ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দলিল নিবন্ধন করতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী জানান, সাব-রেজিস্ট্রার মিন্টু চক্রবর্তীর নাম করে প্রতিটি দলিলে প্রতি লাখে এক হাজার টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। অফিসের প্রধান কেরানি আব্দুল জব্বার ও নকলনবিশ হিসেবে কর্মরত নির্মল কুমার মণ্ডল এ অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত বলে তাদের অভিযোগ। প্রতিদিন সন্ধ্যায় দলিল লেখকদের কাছ থেকে এসব অতিরিক্ত অর্থ বুঝে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন তারা। পরবর্তীতে ওই টাকার সিংহভাগ পৌঁছে যায় সাব রেজিস্ট্রারের কাছে।
অফিস-সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিভিন্ন ধরনের প্রত্যয়ন ও কাগজপত্রের অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। নামের প্রত্যয়ন বাবদ দুই হাজার টাকা দাবি করা হয়। একটি দলিলে তিনজনের নাম থাকলে প্রত্যেকের জন্য পৃথকভাবে টাকা দিতে হয়। পিট বা বায়া দলিল না থাকলে ফটোকপি দেখানোর ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া এসএ খতিয়ান ভিপি থাকলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে প্রত্যয়ন আনার পরও দলিল নিবন্ধনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ডিগ্রিপ্রাপ্ত জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, দলিলের টিকিটের নামে মসজিদ, মন্দির ও মাদ্রাসার কথা উল্লেখ করে কোবলা দলিলে ৬০০ টাকা এবং হেবা দলিলে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করার পরও বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। কেউ টাকা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে তার দলিল নিবন্ধনের কাজে বিলম্ব করা হয় এবং নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। জমি কেনাবেচার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এসে সাধারণ মানুষকে এভাবে আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আশাশুনি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ নির্মল কুমার মণ্ডলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আশাশুনি রেজিস্ট্রি অফিসের প্রধান কেরানি আব্দুল জব্বারের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, তুমি আমাকে চেনো? আমার বাড়ি কিন্তু সাতক্ষীরা সদরে। পরে তিনি বলেন, এসব তথ্য নিয়ে কী লাভ হবে?
অভিযোগের বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মিন্টু চক্রবর্তীর বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে, জমি নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আরাফাত আলী, 










