আজ ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
ঘুষ-বাণিজ্য থেকে কালিগঞ্জের নায়েব আশরাফুজ্জামানের সম্পদের পাহাড় সাতক্ষীরা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন নিয়ে বিরোধ, প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন বাঘের ভয় নয়, বনদস্যুর আতঙ্কে জেলেরা! সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করার দাবিতে ভেটখালীতে জনতার ঢল যশোরের শার্শায় বাবার মৃত্যুর ১৫ মিনিট আগে এক পুত্রসন্তান জন্ম ঝিকরগাছায় জমির বিরোধে হামলায় এক যুবক নিহত আহত ৩। ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন, নারী বিভাগে অ্যালেক্সিয়া পূর্ব শত্রুতা জেরে মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে আনুমানিক ১৩ লক্ষ টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ শ্যামনগরে দুর্গাপূজার ডিউটি বন্টনে লাখ লাখ টাকা ঘুষ বানিজ্য: উপজেলা কর্মকর্তা তাহমিনা ও টিআই আলমগীর এর শাস্তি দাবি GAROP-এর স্টিয়ারিং গ্রুপ নির্বাচনে প্রার্থী বাংলাদেশের প্রবীণ মানবাধিকারকর্মী আশেক-ই-এলাহী যশোরের শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৮টি স্বর্ণের বার সহ ১ জন আটক।

ঘুষ-বাণিজ্য থেকে কালিগঞ্জের নায়েব আশরাফুজ্জামানের সম্পদের পাহাড়

  • আরাফাত আলী,
  • আপডেট সময়: ১১:০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ৬২ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মো. আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন, সরকারি জমি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং দালালদের মাধ্যমে ভূমিসেবা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক বাড়ি, জমি এবং ব্যাংক হিসাবে বিপুল অর্থ থাকার অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন করেছেন আশরাফ খাঁ নামের এক ব্যক্তি।

অভিযোগে একজন সরকারি কর্মচারীর বৈধ আয়ের সঙ্গে তার অর্জিত সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না,তা অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে কথিত অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন এবং ভূমি অফিসকেন্দ্রিক দালালদের তৎপরতা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

জানাযায়,আশরাফুজ্জামান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা রাজ হোটেলের পেছনে তিনতলা একটি বাড়ি, আমতলা মোড়ে একটি বাড়ি এবং শহরের সুলতানপুর এলাকায় পাঁচ শতক জমির ওপর নির্মিত একতলা বাড়ির সন্ধ্যান পাওয়া গেছে।

এছাড়া আশাশুনিতে তার শ্বশুরবাড়ির এলাকায় প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অসমাপ্ত বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। খুলনার সৈকত ট্রেড সেন্টারের সামনে হুগলাডাঙ্গার মোড়সংলগ্ন একটি হাইস্কুলের সামনে তার ও স্ত্রীর নামে জমি ও বাড়ি থাকার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী দাবি করেছেন, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবেও কোটি কোটি টাকা জমা রয়েছে। এসব সম্পত্তি ও ব্যাংক জমার অর্থের উৎস কী? সরকারি চাকরির আয় দিয়ে এসব সম্পদ অর্জন সম্ভব হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

তার বসবাসরত তিনতলা বাড়িটি প্রায় এক কোটি টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে। বাড়িটির মালিকানা নিয়ে সাতক্ষীরা আদালতে মামলা চলমান থাকার কথাও বলা হয়েছে।

আশরাফুজ্জামান এর আগে কালিগঞ্জের রতনপুর, তালা উপজেলার খলিষখালি, কলারোয়া উপজেলার বামনখালী ও জালালাবাদ এবং শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেছেন। পুরাতন সব কর্মস্থলে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম,দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

ওই সব কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে জলমহালসহ বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, জমির খাজনা আদায় এবং ভূমিসংক্রান্ত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিশেষ করে শ্যামনগরের আটুলিয়া, কালিগঞ্জের রতনপুরে,তালার খলিষখালি এবং কলারোয়ার বামনখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

বর্তমানে চাম্পাফুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে কলিবাড়ি বাজার ও উজিরপুর বাজারের জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া ঘুষুড়ী মৌজার বি.আর.এস ৩৫ নম্বর খতিয়ানের ৪০১/২৪ নম্বর মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিপুল অর্থের বিনিময়ে ওই খতিয়ানের জমির খাজনা-দাখিলা দেওয়া হয়েছে।

ভূমি অফিসকেন্দ্রিক কথিত দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন নায়েব আশরাফুজ্জামান বর্তমানে কামরুজ্জামান ওরফে কামু এবং ঘুষুড়ির মোবারেক নামে দুই ব্যক্তিকে দিয়ে রমরমা ঘুষ বাণিজ্যে চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চম্পাফুল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো.আশরাফুজ্জামান বলেন, সাতক্ষীরায় তার শ্বশুরের দেওয়া জমিতে তিনি বাড়ি করেছেন। এছাড়া কিছু জমি জায়গা তিনি কিনেছেন বলে স্বীকার করেন। আরো কিছু প্রশ্ন করলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। তবে দুদকে অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছু জানেননা বলে জানান।

এখন দেখার বিষয়, দুদক অভিযোগটি আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে কি না। অভিযোগে উল্লিখিত সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস, ব্যাংক লেনদেন এবং বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত কথিত অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত হয় কিনা।

 

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ঘুষ-বাণিজ্য থেকে কালিগঞ্জের নায়েব আশরাফুজ্জামানের সম্পদের পাহাড়

ঘুষ-বাণিজ্য থেকে কালিগঞ্জের নায়েব আশরাফুজ্জামানের সম্পদের পাহাড়

আপডেট সময়: ১১:০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মো. আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন, সরকারি জমি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং দালালদের মাধ্যমে ভূমিসেবা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক বাড়ি, জমি এবং ব্যাংক হিসাবে বিপুল অর্থ থাকার অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন করেছেন আশরাফ খাঁ নামের এক ব্যক্তি।

অভিযোগে একজন সরকারি কর্মচারীর বৈধ আয়ের সঙ্গে তার অর্জিত সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না,তা অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে কথিত অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন এবং ভূমি অফিসকেন্দ্রিক দালালদের তৎপরতা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

জানাযায়,আশরাফুজ্জামান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা রাজ হোটেলের পেছনে তিনতলা একটি বাড়ি, আমতলা মোড়ে একটি বাড়ি এবং শহরের সুলতানপুর এলাকায় পাঁচ শতক জমির ওপর নির্মিত একতলা বাড়ির সন্ধ্যান পাওয়া গেছে।

এছাড়া আশাশুনিতে তার শ্বশুরবাড়ির এলাকায় প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অসমাপ্ত বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। খুলনার সৈকত ট্রেড সেন্টারের সামনে হুগলাডাঙ্গার মোড়সংলগ্ন একটি হাইস্কুলের সামনে তার ও স্ত্রীর নামে জমি ও বাড়ি থাকার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী দাবি করেছেন, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবেও কোটি কোটি টাকা জমা রয়েছে। এসব সম্পত্তি ও ব্যাংক জমার অর্থের উৎস কী? সরকারি চাকরির আয় দিয়ে এসব সম্পদ অর্জন সম্ভব হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

তার বসবাসরত তিনতলা বাড়িটি প্রায় এক কোটি টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে। বাড়িটির মালিকানা নিয়ে সাতক্ষীরা আদালতে মামলা চলমান থাকার কথাও বলা হয়েছে।

আশরাফুজ্জামান এর আগে কালিগঞ্জের রতনপুর, তালা উপজেলার খলিষখালি, কলারোয়া উপজেলার বামনখালী ও জালালাবাদ এবং শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেছেন। পুরাতন সব কর্মস্থলে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম,দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

ওই সব কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে জলমহালসহ বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, জমির খাজনা আদায় এবং ভূমিসংক্রান্ত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিশেষ করে শ্যামনগরের আটুলিয়া, কালিগঞ্জের রতনপুরে,তালার খলিষখালি এবং কলারোয়ার বামনখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

বর্তমানে চাম্পাফুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে কলিবাড়ি বাজার ও উজিরপুর বাজারের জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া ঘুষুড়ী মৌজার বি.আর.এস ৩৫ নম্বর খতিয়ানের ৪০১/২৪ নম্বর মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিপুল অর্থের বিনিময়ে ওই খতিয়ানের জমির খাজনা-দাখিলা দেওয়া হয়েছে।

ভূমি অফিসকেন্দ্রিক কথিত দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন নায়েব আশরাফুজ্জামান বর্তমানে কামরুজ্জামান ওরফে কামু এবং ঘুষুড়ির মোবারেক নামে দুই ব্যক্তিকে দিয়ে রমরমা ঘুষ বাণিজ্যে চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চম্পাফুল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো.আশরাফুজ্জামান বলেন, সাতক্ষীরায় তার শ্বশুরের দেওয়া জমিতে তিনি বাড়ি করেছেন। এছাড়া কিছু জমি জায়গা তিনি কিনেছেন বলে স্বীকার করেন। আরো কিছু প্রশ্ন করলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। তবে দুদকে অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছু জানেননা বলে জানান।

এখন দেখার বিষয়, দুদক অভিযোগটি আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে কি না। অভিযোগে উল্লিখিত সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস, ব্যাংক লেনদেন এবং বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত কথিত অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত হয় কিনা।