মহিলা কলেজের মাস্টাররোলের চাকরি হারিয়ে এখন সদর থানার সামনে কলা বিক্রি করে চলছে সংসার, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিন চাকরি করার পর কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ তুলে পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন সাতক্ষীরা মহিলা কলেজের সাবেক মাস্টাররোল কর্মচারী মো. জাকির হোসেন। চাকরি হারিয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে সংসার চালাতে জীবিকার তাগিদে এখন সাতক্ষীরা সদর থানার সামনে পাকা কলা বিক্রি করছেন।
নিজের হারানো চাকরি ফিরে পেতে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অসহায় এই ব্যক্তি। সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করে চাকরিচ্যুতির ঘটনা তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনে জাকির হোসেন উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের শেষের দিকে তিনি সাতক্ষীরা মহিলা কলেজে মাস্টাররোল কর্মচারী হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার পর ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে বিভিন্ন খুঁটিনাটি অজুহাত দেখিয়ে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তার অভিযোগ, তৎকালীন কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু এবং সদ্য যোগদানকারী ভাইস প্রিন্সিপাল আবু হেনা মোস্তফার ক্ষমতার অপব্যবহার ও একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে তাকে চাকরি হারাতে হয়েছে। চোখের অসুস্থতার কারণে কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকাকালে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জাকির হোসেনের দাবি, চোখের সমস্যার কারণে রাতে দায়িত্ব পালন করতে তার অসুবিধা হচ্ছিল। বিষয়টি বিবেচনা না করে তাকে রাতের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাতের দায়িত্ব পালনে অসুবিধাকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, দীর্ঘদিন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষটি চাকরি হারানোর পর এখন দিশেহারা। পরিবারের ছোট ছোট সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে প্রতিদিন সাতক্ষীরা সদর থানার সামনে পাকা কলা বিক্রি করছেন তিনি। একসময় যে মানুষটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন, আজ জীবিকার তাগিদে তাকে ফুটপাতে বসে ব্যবসা করতে হচ্ছে।
জাকির হোসেনের অভিযোগ, চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি। বরং সংশ্লিষ্ট কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বাসুদেব বসুর ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের কারণে তিনি বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, মাস্টাররোলের চাকরি হলেও এই আয় দিয়েই দীর্ঘদিন তার সংসার চলেছে। চাকরিটি ফিরে পেলে আবারও সম্মানের সঙ্গে কাজ করে সন্তানদের নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। এ জন্য তিনি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মানবিক ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করা একজন কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না? তার অসুস্থতা ও চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টি কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল? অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
অসহায় জাকির হোসেনের আবেদন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে চাকরিচ্যুতির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং বিধি অনুযায়ী তাকে পুনরায় কর্মস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন জেলা প্রশাসক।
সংবাদ শিরোনাম:
চাকরি ফিরে পেতে জেলা প্রশাসকের দ্বারে দ্বারে অসহায় জাকির হোসেন
-
রিপোর্টার - আপডেট সময়: ০৪:৫৮:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- ৪ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস:














