মুসলমানদের কাছে সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন শুক্রবার বা জুমার দিন। ইবাদত-বন্দেগি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। হাদিসে জুমার দিনের ফজিলত এবং এ দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিন তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিন তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৮৬১)
জুমার দিনের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে যখন কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার কথা হাদিসে এসেছে। তবে সেই বিশেষ সময়টি ঠিক কখন—এ নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনায় ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া যায়। দোয়া কবুলের বিষয়টি নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ না থাকলেও নির্দিষ্ট সময় নিয়ে একাধিক মত রয়েছে।
এ বিষয়ে জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে ১২ ঘণ্টা রয়েছে। তাতে এমন একটা সময় রয়েছে, সে সময়ে আল্লাহর বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায় আল্লাহ তা-ই দেন। অতএব তোমরা আসরের শেষ সময়ে তা তালাশ করো।’ (আবু দাউদ, হাদিস নং : ১০৪৮; নাসাঈ, হাদিস নং : ১৩৮৯)
আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) থেকে বর্ণিত, শুক্রবারে আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়। বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ ‘যাদুল মাআদ’-এও জুমার দিন আসরের নামাজের পর দোয়া কবুলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (২/৩৯৪) ইমাম আহমদ (রহ.)-এর মতও একই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় নিয়ে আরও কয়েকটি মত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—জুমার নামাজে সুরা ফাতিহার পর আমিন বলার সময়, আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়, মুয়াজ্জিন আজান দেওয়ার সময়, সূর্য ঢলে পড়ার সময়, ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য মিম্বরে দাঁড়ানোর সময়, দুই খুতবার মধ্যবর্তী সময় এবং জুমার দিন ফজরের আজানের সময়।
হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা ও আলেমদের মতামত থেকে বোঝা যায়, জুমার দিনে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। তবে সেই সময়টি নির্দিষ্ট করে না দেওয়ার কারণে বান্দা যেন পুরো দিনই ইবাদত, দোয়া ও আল্লাহর স্মরণে মশগুল থাকে—এমন ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়।
জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত হলো, এ দিনে গুনাহ মাফের ঘোষণা রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও এক জুমা থেকে অন্য জুমা মাঝের সব গুনাহকে মাফ করে দেয়; যতক্ষণ পর্যন্ত সে কবিরা গুনাহে লিপ্ত না হয়।’ (মুসলিম)
আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন,‘নিশ্চয়ই জুমার দিন এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, সে সময়টিতে একজন মুসলমান যে কল্যাণের দোয়া করবে, অবশ্যই আল্লাহ তাকে তা দান করবেন।’ (মুসলিম)
এ ছাড়া হাদিসে আসরের পর জুমার দিনের শেষ সময়ে দোয়া করার কথাও এসেছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আসরের পরে একবারে শেষ সময়ে দোয়া করো।’ (আবু দাউদ) l ফলে জুমার দিন মুসলমানদের জন্য ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বিশেষ সুযোগ নিয়ে আসে। বিশেষ করে দোয়া কবুলের সম্ভাব্য সময়গুলোতে বেশি বেশি দোয়া ও ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ প্রতিনিধি 





















