আজ ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ঘেরের ভেড়ি বাঁধ কেটে মাছ ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আশাশুনিতে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামীসহ গ্রেফতার-৩ সাতক্ষীরায় সারের ডিলারশিপ নিয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ সাতক্ষীরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শ্যামনগরে মুন্ডা নারী ও যুবদের জলবায়ু সহনশীলতা ও ডিজিটাল নেতৃত্ব উন্নয়নে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা আলিপুরে জেলা যুবদল ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধনা সাতক্ষীরায় চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন করলেন জেলা আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল উপজেলা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের সমন্বয় সভা   সাতক্ষীরা সদরের ঝাউডাঙ্গায় ‘নতুনকুঁড়ি ২০২৬-২৭এর ইউনিয়ন পর্যায়ের বাছাই পর্ব সম্পন্ন

পুলিশের উপস্থিতিতে চাঁদা দাবি, বিএনপির দুই নেতার মুক্তি

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"resize":1,"adjust":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

উত্তম বিশ্বাস নামের এক যুবককে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ক্ষমতাসীন দলের তিন নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে পুলিশ আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে উত্তম বিশ্বাসকে ছাড়িয়ে নিতে সহযোগিতা করা, জমি ও গরু বিক্রি করে ভারতে টাকা পাঠানোর জন্য ওই তিন নেতা কর্মী উত্তমের ভাই স্বপন ও তার বাবা হারানের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে ২৫ হাজার টাকা আদায় করেছে। বিষয়টি বিভিন্ন লোকজনের কাছে প্রকাশ করায় স্বপন বিশ্বাসকে মারপিট করা হয়েছে।

শনিবার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারডাঙা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ বিএনপি কর্মী সুধীর বিশ্বাসকে আটক করলে তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় আটক হওয়া ক্ষমতাসীন দলের দুই নেতা নাসিরউদ্দিন ও আমিনুর রহমানকে আটক করলেও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তারা দুইজন মুক্ত হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের নেতা- কর্মীরা হলেন, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি কাজী নাসিরউদ্দিন ও আহছানিয়া মিশন মাদ্রাসা ছাত্রদলের আহবায়ক আমিনুর রহমান ও কামারডাঙা গ্রামের বিএনপি কর্মী সুধীর বিশ্বাস।

সদর উপজেলার কামারডাঙা গ্রামের হারান বিশ্বাসের ছেলে আইনজীবী সহকারী স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, ১৫ আগষ্ট শনিবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ লেখা জ্যাকেট পরিহিত সদর থানার উপ-পরিদর্শক সোহেলসহ তিন পুলিশ সদস্য ও তাদের গ্রামের বিএনপি কর্মী সুধীর বিশ্বাস, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি কাজী নাসিরউদ্দিন ও আহছানিয়া মিশন মাদ্রাসা ছাত্রদলের আহবায়ক আমিনুর রহমান তাদের বাড়িতে আসে।

দাদা উত্তম বিশ্বাসকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে পুলিশ তাকে বাড়ির নিকটবর্তী স্থানে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ছেড়ে দেয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই সুধীর, নাসির ও আমিনুর তার ও তার বাবার কাছে জমি ও গরু বিক্রি করে ভারতে অবস্থানকারি ছেলের জন্য টাকা পাঠানোর কারণে ও উত্তমকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে সহযোগিতা করায় তার (স্বপন) কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে ২৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়। বাকী পাঁচ হাজার টাকা পরে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন সুধীর বিশ্বাস। পুলিশের উপস্থিতিতে টাকা আদায় করার বিষয়টি তাদের ভাল না লাগায় বিষয়টি কয়েকজনকে অবহিত করেন তিনি(স্বপন)।

একপর্যায়ে শনিবার দুপুর একটার পর কাজী নাসিরউদ্দিনের দোকানের সামনে নাসিরউদ্দিন, সুধীর ও আমিনুর তাকে মারপিট করে। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ সুধীর বিশ্বাসকে আটক করে। তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় গেলে কাজী নাসিরউদ্দিন ও আমিনুরকে পুলিশ আটক করে। পরে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তারা মুক্তি পায়। এ ব্যাপারে সুধীর বিশ্বাস, আমিনুর ও কাজী নাসিরউদ্দিনের নামে মামলা করায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিনিয়ত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আহছানিয়া মিশন মাদ্রাসা ছাত্রদলের আহবায়ক আমিনুর রহমান তার ও কাজী নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শনিবার ভোর চারটার দিকে মুঠোফোনে সুধীর বিশ্বাসের ছেলে সুজন বিশাস তাকে তাদের বাড়িতে যেতে বলে। সকালে যাওয়ার কথা বলায় সুজন তাৎক্ষণিক তাদের বাড়িতে চলে আসে। তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে সুধীর বিশ্বাসের বাড়িতে যাওয়ার পথে সদর থানার উপপরিদর্শক পুলিশ জ্যাকেট পরিহিত সোহেল ও দুইজন পুলিশ সদস্যকে মটর সাইকেলে হারান বিশ্বাসের বাড়ির দিক থেকে চলে যেতে দেখেন। পরে তিনি জানতে পারেন উত্তম বিশ্বাসের সঙ্গে আওয়ামী সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে পুলিশ ছেড়ে দিয়ে গেছে।

দুপুরের পর কাজী নাসিরের দোকানের পাশে কয়েকজন স্বপন বিশ্বাসকে মারপিট করেছে মর্মে তিনি জানতে পারেন। তিনি ও কাজী নাসিরউদ্দিন কোন চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। সাবেক থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কথা মত তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা রেকর্ড করতে বাধ্য হয়েছেন মর্মে তাকে জানিয়েছেন। থানায় আটকের পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক মোঃ সোহেল বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আদালতে রয়েছেন পরে কথা বলবেন। বিকেলে তাকে আবারো মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

পুলিশের উপস্থিতিতে চাঁদা দাবি, বিএনপির দুই নেতার মুক্তি

আপডেট সময়: ০১:১৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

উত্তম বিশ্বাস নামের এক যুবককে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ক্ষমতাসীন দলের তিন নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে পুলিশ আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে উত্তম বিশ্বাসকে ছাড়িয়ে নিতে সহযোগিতা করা, জমি ও গরু বিক্রি করে ভারতে টাকা পাঠানোর জন্য ওই তিন নেতা কর্মী উত্তমের ভাই স্বপন ও তার বাবা হারানের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে ২৫ হাজার টাকা আদায় করেছে। বিষয়টি বিভিন্ন লোকজনের কাছে প্রকাশ করায় স্বপন বিশ্বাসকে মারপিট করা হয়েছে।

শনিবার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারডাঙা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ বিএনপি কর্মী সুধীর বিশ্বাসকে আটক করলে তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় আটক হওয়া ক্ষমতাসীন দলের দুই নেতা নাসিরউদ্দিন ও আমিনুর রহমানকে আটক করলেও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তারা দুইজন মুক্ত হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের নেতা- কর্মীরা হলেন, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি কাজী নাসিরউদ্দিন ও আহছানিয়া মিশন মাদ্রাসা ছাত্রদলের আহবায়ক আমিনুর রহমান ও কামারডাঙা গ্রামের বিএনপি কর্মী সুধীর বিশ্বাস।

সদর উপজেলার কামারডাঙা গ্রামের হারান বিশ্বাসের ছেলে আইনজীবী সহকারী স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, ১৫ আগষ্ট শনিবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ লেখা জ্যাকেট পরিহিত সদর থানার উপ-পরিদর্শক সোহেলসহ তিন পুলিশ সদস্য ও তাদের গ্রামের বিএনপি কর্মী সুধীর বিশ্বাস, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি কাজী নাসিরউদ্দিন ও আহছানিয়া মিশন মাদ্রাসা ছাত্রদলের আহবায়ক আমিনুর রহমান তাদের বাড়িতে আসে।

দাদা উত্তম বিশ্বাসকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে পুলিশ তাকে বাড়ির নিকটবর্তী স্থানে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ছেড়ে দেয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই সুধীর, নাসির ও আমিনুর তার ও তার বাবার কাছে জমি ও গরু বিক্রি করে ভারতে অবস্থানকারি ছেলের জন্য টাকা পাঠানোর কারণে ও উত্তমকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে সহযোগিতা করায় তার (স্বপন) কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে ২৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়। বাকী পাঁচ হাজার টাকা পরে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন সুধীর বিশ্বাস। পুলিশের উপস্থিতিতে টাকা আদায় করার বিষয়টি তাদের ভাল না লাগায় বিষয়টি কয়েকজনকে অবহিত করেন তিনি(স্বপন)।

একপর্যায়ে শনিবার দুপুর একটার পর কাজী নাসিরউদ্দিনের দোকানের সামনে নাসিরউদ্দিন, সুধীর ও আমিনুর তাকে মারপিট করে। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ সুধীর বিশ্বাসকে আটক করে। তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় গেলে কাজী নাসিরউদ্দিন ও আমিনুরকে পুলিশ আটক করে। পরে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তারা মুক্তি পায়। এ ব্যাপারে সুধীর বিশ্বাস, আমিনুর ও কাজী নাসিরউদ্দিনের নামে মামলা করায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিনিয়ত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আহছানিয়া মিশন মাদ্রাসা ছাত্রদলের আহবায়ক আমিনুর রহমান তার ও কাজী নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শনিবার ভোর চারটার দিকে মুঠোফোনে সুধীর বিশ্বাসের ছেলে সুজন বিশাস তাকে তাদের বাড়িতে যেতে বলে। সকালে যাওয়ার কথা বলায় সুজন তাৎক্ষণিক তাদের বাড়িতে চলে আসে। তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে সুধীর বিশ্বাসের বাড়িতে যাওয়ার পথে সদর থানার উপপরিদর্শক পুলিশ জ্যাকেট পরিহিত সোহেল ও দুইজন পুলিশ সদস্যকে মটর সাইকেলে হারান বিশ্বাসের বাড়ির দিক থেকে চলে যেতে দেখেন। পরে তিনি জানতে পারেন উত্তম বিশ্বাসের সঙ্গে আওয়ামী সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে পুলিশ ছেড়ে দিয়ে গেছে।

দুপুরের পর কাজী নাসিরের দোকানের পাশে কয়েকজন স্বপন বিশ্বাসকে মারপিট করেছে মর্মে তিনি জানতে পারেন। তিনি ও কাজী নাসিরউদ্দিন কোন চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। সাবেক থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কথা মত তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা রেকর্ড করতে বাধ্য হয়েছেন মর্মে তাকে জানিয়েছেন। থানায় আটকের পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক মোঃ সোহেল বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আদালতে রয়েছেন পরে কথা বলবেন। বিকেলে তাকে আবারো মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।