আজ ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ঘেরের ভেড়ি বাঁধ কেটে মাছ ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আশাশুনিতে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামীসহ গ্রেফতার-৩ সাতক্ষীরায় সারের ডিলারশিপ নিয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ সাতক্ষীরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শ্যামনগরে মুন্ডা নারী ও যুবদের জলবায়ু সহনশীলতা ও ডিজিটাল নেতৃত্ব উন্নয়নে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা আলিপুরে জেলা যুবদল ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধনা সাতক্ষীরায় চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন করলেন জেলা আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল উপজেলা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের সমন্বয় সভা   সাতক্ষীরা সদরের ঝাউডাঙ্গায় ‘নতুনকুঁড়ি ২০২৬-২৭এর ইউনিয়ন পর্যায়ের বাছাই পর্ব সম্পন্ন

স্ত্রী-সন্তানের কাছ থেকে বন্ডে স্বাক্ষর করিয়ে আন,ভবলীলা শেষ করে দিব

  • স্টাফ রিপোর্টার,
  • আপডেট সময়: ১১:৫১:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২১ বার পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"resize":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘেরের ভোগদখল এবং হারির টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এঘটনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আশাশুনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শোভনালী ইউনিয়নের সরাফপুর গ্রামের সামছুর রহমানের ছেলে মনিরুজ্জামান (৪০)।

জিডিতে অভিযুক্ত করা হয়েছে একই গ্রামের ইকবাল সরদারের ছেলে সাইমুন সরদার (২৫) ও নূর ইসলাম সরদারের ছেলে আপেল সরদারকে (২৬)।

মনিরুজ্জামান অভিযোগ করেন, তার আপন ভাই বসির আহমেদ প্রায় আট বছর আগে মারা যান। এরপর স্বরাফপুর মৌজায় তাদের প্রায় ৯ বিঘা জমি দখলে নেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী রিঙ্কু ও আজাদ।

পরবর্তীতে ২৪ আগস্টের পর ওই মৎস্য ঘেরের জমি স্থানীয় বিএনপির কর্মী আপেল, সাইমুন, আঙুর ও বিশাল দখলে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মনিরুজ্জামানের দাবি, গত দুই বছর ধরে অভিযুক্তরা তাদের পৈত্রিক জমিতে মৎস্য ঘের পরিচালনা করলেও জমির মালিকদের কোনো হারির টাকা দেননি। গত ২৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সরাফপুর চার রাস্তার মোড়ে আলাউল নামের এক ব্যক্তির চায়ের দোকানের সামনে ঘেরের জমির হারির টাকা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মনিরুজ্জামানের কথা কাটাকাটি হয়।এসময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাকে উদ্দেশ করে বলেন, তুই তোর স্ত্রী-সন্তানদের কাছ থেকে বন্ডে স্বাক্ষর করিয়ে আন। তোর ভবলীলা শেষ করে দেব। এমন হুমকির পর থেকে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেন মনিরুজ্জামান। তার আশঙ্কা, অভিযুক্তদের মাধ্যমে যেকোনো সময় তার বা পরিবারের সদস্যদের জানমালের ক্ষতি হতে পারে।

এদিকে জিডির তদন্ত কর্মকর্তা আশাশুনি থানার উপপরিদর্শক কাছেদ মুন্সী জানান, আদালতের নির্দেশে জিডির তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিবেদন যথাসময়ে আদালতে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে বিরোধের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা বিএনপির নেতা রুহুল আমিন, আক্তার, মিন্টু ও পলাশ স্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশের আয়োজন করেন। সালিশে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, জমির মালিকদের কাছে ঘেরের বাসার চাবি থাকবে এবং সেখানে সাইনবোর্ড লাগিয়ে রাখা হবে। দুই দিন পর জমি মাপজরিপ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথাও বলা হয়।

তবে মনিরুজ্জামানের অভিযোগ, সালিশের সিদ্ধান্ত দিয়ে নেতাকর্মীরা চলে যাওয়ার পরপরই জমির মালিকদের লাগানো সাইনবোর্ড তুলে পানিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং ঘেরের বাসার চাবিও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে সাইমুন সরদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জমির মালিকদের কাছ থেকে হারি নিয়ে তারা ৬-৭ জন মিলে ওই ঘেরটি পরিচালনা করেছেন। তবে জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে আপেল সরদার, আঙুর সরদার ও বিশালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

স্ত্রী-সন্তানের কাছ থেকে বন্ডে স্বাক্ষর করিয়ে আন,ভবলীলা শেষ করে দিব

আপডেট সময়: ১১:৫১:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘেরের ভোগদখল এবং হারির টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এঘটনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আশাশুনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শোভনালী ইউনিয়নের সরাফপুর গ্রামের সামছুর রহমানের ছেলে মনিরুজ্জামান (৪০)।

জিডিতে অভিযুক্ত করা হয়েছে একই গ্রামের ইকবাল সরদারের ছেলে সাইমুন সরদার (২৫) ও নূর ইসলাম সরদারের ছেলে আপেল সরদারকে (২৬)।

মনিরুজ্জামান অভিযোগ করেন, তার আপন ভাই বসির আহমেদ প্রায় আট বছর আগে মারা যান। এরপর স্বরাফপুর মৌজায় তাদের প্রায় ৯ বিঘা জমি দখলে নেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী রিঙ্কু ও আজাদ।

পরবর্তীতে ২৪ আগস্টের পর ওই মৎস্য ঘেরের জমি স্থানীয় বিএনপির কর্মী আপেল, সাইমুন, আঙুর ও বিশাল দখলে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মনিরুজ্জামানের দাবি, গত দুই বছর ধরে অভিযুক্তরা তাদের পৈত্রিক জমিতে মৎস্য ঘের পরিচালনা করলেও জমির মালিকদের কোনো হারির টাকা দেননি। গত ২৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সরাফপুর চার রাস্তার মোড়ে আলাউল নামের এক ব্যক্তির চায়ের দোকানের সামনে ঘেরের জমির হারির টাকা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মনিরুজ্জামানের কথা কাটাকাটি হয়।এসময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাকে উদ্দেশ করে বলেন, তুই তোর স্ত্রী-সন্তানদের কাছ থেকে বন্ডে স্বাক্ষর করিয়ে আন। তোর ভবলীলা শেষ করে দেব। এমন হুমকির পর থেকে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেন মনিরুজ্জামান। তার আশঙ্কা, অভিযুক্তদের মাধ্যমে যেকোনো সময় তার বা পরিবারের সদস্যদের জানমালের ক্ষতি হতে পারে।

এদিকে জিডির তদন্ত কর্মকর্তা আশাশুনি থানার উপপরিদর্শক কাছেদ মুন্সী জানান, আদালতের নির্দেশে জিডির তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিবেদন যথাসময়ে আদালতে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে বিরোধের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা বিএনপির নেতা রুহুল আমিন, আক্তার, মিন্টু ও পলাশ স্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশের আয়োজন করেন। সালিশে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, জমির মালিকদের কাছে ঘেরের বাসার চাবি থাকবে এবং সেখানে সাইনবোর্ড লাগিয়ে রাখা হবে। দুই দিন পর জমি মাপজরিপ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথাও বলা হয়।

তবে মনিরুজ্জামানের অভিযোগ, সালিশের সিদ্ধান্ত দিয়ে নেতাকর্মীরা চলে যাওয়ার পরপরই জমির মালিকদের লাগানো সাইনবোর্ড তুলে পানিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং ঘেরের বাসার চাবিও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে সাইমুন সরদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জমির মালিকদের কাছ থেকে হারি নিয়ে তারা ৬-৭ জন মিলে ওই ঘেরটি পরিচালনা করেছেন। তবে জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে আপেল সরদার, আঙুর সরদার ও বিশালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।