আজ ০৬:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
১৮০ দিনের মূল্যায়ন শেষে মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তনের আভাস শ্যামনগরের উপকূলীয় কৈখালী ভূমি অফিসে জরাজীর্ণ টিন সেটে চলছে দুই ইউনিয়নের ভূমি সেবা আশাশুনির তেতুলিয়া-টিকা সড়কের কোদালশাহ স্লুইস গেটে ধস,প্লাবনের শঙ্কায় ১০ গ্রামের মানুষ দেবহাটা-কালিগঞ্জে সরকারি বরাদ্দের টাকা গিলে খাচ্ছে পিআইও মফিজুর ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ’, মিরাজকে গিলক্রিস্ট ট্রলের ‘লর্ড শান্ত’ এখন সত্যিকারের ‘লর্ড’ সাতক্ষীরায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা, র‍্যালি মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণ সাতক্ষীরায় বল্লী ইউনিয়নে জমিজমা বিরোধের জেরে নারীসহ পরিবারের ওপর হামলায় থানায় লিখিত অভিযোগ চিকিৎসার আশ্বাসে তালায় এনে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় নারীসহ গ্রেপ্তার ২ শ্যামনগরের উপকূলে রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসী ধান রোপন করে প্রতিবাদ

সাতক্ষীরার সাবেক ডিসি হুমায়ূন কবীরের কাছে সাড়ে ৪ কোটি টাকার ডলার বিক্রির দাবি দুই ব্যবসায়ীর

  • আরাফাত আলী,
  • আপডেট সময়: ০৬:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ১১৬ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার সাবেক জেলা প্রশাসক ও বর্তমানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) হুমায়ূন কবীর বিভিন্ন সময়ে আল-আমিন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও প্রিয় গোপাল বস্ত্র বিপণীর স্বত্বাধিকারী সত্যজিৎ ঘোষের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ ডলার সংগ্রহ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন ওই দুই ব্যবসায়ী।

জানা যায়, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও সত্যজিৎ ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে ডলারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, ২০২১ সালে সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হুমায়ূন কবীর বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে মোট প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ ডলার নেন।

প্রিয় গোপাল বস্ত্র বিপণীর স্বত্বাধিকারী সত্যজিৎ ঘোষ বলেন, সাবেক জেলা প্রশাসক হুমায়ূন কবীরের জন্য বিভিন্ন সময়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নাজির খাজা সাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে নগদ টাকা পাঠানো হতো। টাকা দেওয়ার কয়েক দিন পর নাজির এসে ডলার নিয়ে যেতেন। তিনি আরও দাবি করেন, ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার স্ট্যাম্পে যে লেনদেনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে, সেটিও মূলত সাবেক জেলা প্রশাসকের পাওনা অর্থের অংশ। তবে টাকা আদান-প্রদান নাজিরের মাধ্যমে হওয়ায় তার নামেই স্ট্যাম্প সম্পাদন করা হয়েছিল।

সত্যজিৎ ঘোষের ভাষ্য, শুধু আব্দুল্লাহ আল মাসুদের কাছ থেকেই সাবেক জেলা প্রশাসক প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার ডলার সংগ্রহ করেছিলেন। তবে এত বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে কেন কোনো লিখিত চুক্তি করা হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাড়ে ৪ কোটি টাকার মধ্যে সর্বশেষ ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার সমপরিমাণ ডলার সরবরাহ করতে না পারায় ওই অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাজিরের নামে স্ট্যাম্প সম্পাদন করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আল-আমিন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, স্বর্ণের ব্যবসার প্রয়োজনে বিদেশ থেকে স্বর্ণ আমদানির জন্য বৈধভাবে ডলারের প্রয়োজন হয়। সে কারণে তিনি বিভিন্ন সময়ে ডলার কেনাবেচা করেছেন। সাবেক জেলা প্রশাসক হুমায়ূন কবীরের কাছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ ডলার বিক্রির বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।

অন্যদিকে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নাজির খাজা সাহাবুদ্দিন বলেন, সাবেক জেলা প্রশাসকের কথিত সাড়ে ৪ কোটি টাকার ডলার কেনাবেচার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, নিজের পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও সত্যজিৎ ঘোষ বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে সাতক্ষীরার সাবেক জেলা প্রশাসক ও বর্তমানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) হুমায়ূন কবীর বলেন, সাতক্ষীরায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার ডলার লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কোনো লেনদেন কখনোই হয়নি। কেউ এ ধরনের দাবি করে থাকলে সেটি  হাস্যকর  বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সাতক্ষীরার সচেতন নাগরিকদের মতে, অভিযোগে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন, সরকারি উচ্চপদে দায়িত্ব পালনকারী একজন কর্মকর্তা এবং একাধিক ব্যবসায়ীর সংশ্লিষ্টতার বিষয় উঠে এসেছে। ফলে ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত। তাদের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

১৮০ দিনের মূল্যায়ন শেষে মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তনের আভাস

সাতক্ষীরার সাবেক ডিসি হুমায়ূন কবীরের কাছে সাড়ে ৪ কোটি টাকার ডলার বিক্রির দাবি দুই ব্যবসায়ীর

আপডেট সময়: ০৬:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরার সাবেক জেলা প্রশাসক ও বর্তমানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) হুমায়ূন কবীর বিভিন্ন সময়ে আল-আমিন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও প্রিয় গোপাল বস্ত্র বিপণীর স্বত্বাধিকারী সত্যজিৎ ঘোষের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ ডলার সংগ্রহ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন ওই দুই ব্যবসায়ী।

জানা যায়, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও সত্যজিৎ ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে ডলারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, ২০২১ সালে সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হুমায়ূন কবীর বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে মোট প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ ডলার নেন।

প্রিয় গোপাল বস্ত্র বিপণীর স্বত্বাধিকারী সত্যজিৎ ঘোষ বলেন, সাবেক জেলা প্রশাসক হুমায়ূন কবীরের জন্য বিভিন্ন সময়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নাজির খাজা সাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে নগদ টাকা পাঠানো হতো। টাকা দেওয়ার কয়েক দিন পর নাজির এসে ডলার নিয়ে যেতেন। তিনি আরও দাবি করেন, ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার স্ট্যাম্পে যে লেনদেনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে, সেটিও মূলত সাবেক জেলা প্রশাসকের পাওনা অর্থের অংশ। তবে টাকা আদান-প্রদান নাজিরের মাধ্যমে হওয়ায় তার নামেই স্ট্যাম্প সম্পাদন করা হয়েছিল।

সত্যজিৎ ঘোষের ভাষ্য, শুধু আব্দুল্লাহ আল মাসুদের কাছ থেকেই সাবেক জেলা প্রশাসক প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার ডলার সংগ্রহ করেছিলেন। তবে এত বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে কেন কোনো লিখিত চুক্তি করা হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাড়ে ৪ কোটি টাকার মধ্যে সর্বশেষ ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার সমপরিমাণ ডলার সরবরাহ করতে না পারায় ওই অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাজিরের নামে স্ট্যাম্প সম্পাদন করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আল-আমিন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, স্বর্ণের ব্যবসার প্রয়োজনে বিদেশ থেকে স্বর্ণ আমদানির জন্য বৈধভাবে ডলারের প্রয়োজন হয়। সে কারণে তিনি বিভিন্ন সময়ে ডলার কেনাবেচা করেছেন। সাবেক জেলা প্রশাসক হুমায়ূন কবীরের কাছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ ডলার বিক্রির বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।

অন্যদিকে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নাজির খাজা সাহাবুদ্দিন বলেন, সাবেক জেলা প্রশাসকের কথিত সাড়ে ৪ কোটি টাকার ডলার কেনাবেচার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, নিজের পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও সত্যজিৎ ঘোষ বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে সাতক্ষীরার সাবেক জেলা প্রশাসক ও বর্তমানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) হুমায়ূন কবীর বলেন, সাতক্ষীরায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার ডলার লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কোনো লেনদেন কখনোই হয়নি। কেউ এ ধরনের দাবি করে থাকলে সেটি  হাস্যকর  বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সাতক্ষীরার সচেতন নাগরিকদের মতে, অভিযোগে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন, সরকারি উচ্চপদে দায়িত্ব পালনকারী একজন কর্মকর্তা এবং একাধিক ব্যবসায়ীর সংশ্লিষ্টতার বিষয় উঠে এসেছে। ফলে ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত। তাদের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।