সাতক্ষীরার সাবেক জেলা প্রশাসক ও বর্তমানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) হুমায়ূন কবীর বিভিন্ন সময়ে আল-আমিন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও প্রিয় গোপাল বস্ত্র বিপণীর স্বত্বাধিকারী সত্যজিৎ ঘোষের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ ডলার সংগ্রহ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন ওই দুই ব্যবসায়ী।
জানা যায়, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও সত্যজিৎ ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে ডলারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, ২০২১ সালে সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হুমায়ূন কবীর বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে মোট প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ ডলার নেন।
প্রিয় গোপাল বস্ত্র বিপণীর স্বত্বাধিকারী সত্যজিৎ ঘোষ বলেন, সাবেক জেলা প্রশাসক হুমায়ূন কবীরের জন্য বিভিন্ন সময়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নাজির খাজা সাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে নগদ টাকা পাঠানো হতো। টাকা দেওয়ার কয়েক দিন পর নাজির এসে ডলার নিয়ে যেতেন। তিনি আরও দাবি করেন, ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার স্ট্যাম্পে যে লেনদেনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে, সেটিও মূলত সাবেক জেলা প্রশাসকের পাওনা অর্থের অংশ। তবে টাকা আদান-প্রদান নাজিরের মাধ্যমে হওয়ায় তার নামেই স্ট্যাম্প সম্পাদন করা হয়েছিল।
সত্যজিৎ ঘোষের ভাষ্য, শুধু আব্দুল্লাহ আল মাসুদের কাছ থেকেই সাবেক জেলা প্রশাসক প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার ডলার সংগ্রহ করেছিলেন। তবে এত বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে কেন কোনো লিখিত চুক্তি করা হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাড়ে ৪ কোটি টাকার মধ্যে সর্বশেষ ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার সমপরিমাণ ডলার সরবরাহ করতে না পারায় ওই অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাজিরের নামে স্ট্যাম্প সম্পাদন করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আল-আমিন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, স্বর্ণের ব্যবসার প্রয়োজনে বিদেশ থেকে স্বর্ণ আমদানির জন্য বৈধভাবে ডলারের প্রয়োজন হয়। সে কারণে তিনি বিভিন্ন সময়ে ডলার কেনাবেচা করেছেন। সাবেক জেলা প্রশাসক হুমায়ূন কবীরের কাছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ ডলার বিক্রির বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।
অন্যদিকে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নাজির খাজা সাহাবুদ্দিন বলেন, সাবেক জেলা প্রশাসকের কথিত সাড়ে ৪ কোটি টাকার ডলার কেনাবেচার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, নিজের পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও সত্যজিৎ ঘোষ বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে সাতক্ষীরার সাবেক জেলা প্রশাসক ও বর্তমানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) হুমায়ূন কবীর বলেন, সাতক্ষীরায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার ডলার লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কোনো লেনদেন কখনোই হয়নি। কেউ এ ধরনের দাবি করে থাকলে সেটি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে সাতক্ষীরার সচেতন নাগরিকদের মতে, অভিযোগে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন, সরকারি উচ্চপদে দায়িত্ব পালনকারী একজন কর্মকর্তা এবং একাধিক ব্যবসায়ীর সংশ্লিষ্টতার বিষয় উঠে এসেছে। ফলে ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত। তাদের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আরাফাত আলী, 













