সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া লস্করপাড়া এলাকার চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ ইনা পারভীন চন্দনা (৩৫) গুমের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ও তার স্বামী রবিউল ইসলাম রবি (ভেন্ডার রবি) কে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোররাতে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছে।
নিখোঁজ চন্দনা সাতক্ষীরা শহরের রবিউল ইসলাম রবির দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তালা উপজেলার শিবপুর গ্রামের মহিউদ্দীন শেখের মেয়ে।
মামলার অভিযোগ ও চন্দনার পরিবারের দাবি, প্রায় দুই মাস ২২ দিন আগে সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া লস্করপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন চন্দনা। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, চন্দনাকে পরিকল্পিতভাবে গুম করা হয়ে থাকতে পারে এবং এ ঘটনায় তার স্বামী রবিউল ইসলাম রবি জড়িত থাকতে পারেন।
চন্দনা নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা মহিউদ্দীন শেখ সাতক্ষীরা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরিবারের অভিযোগ, পরবর্তীতে গুমের অভিযোগ থেকে নিজেকে আড়াল করতে রবিউল ইসলাম রবি চন্দনা ও তার বাবার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় চন্দনার পরিবার বিপাকে পড়ায় তারা থানায় মামলা করতে না পেরে আদালতের দ্বারস্থ হন।
চন্দনার বাবা মহিউদ্দীন শেখ আদালতে রবিউল ইসলাম রবিকে প্রধান আসামি করে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা নথিভুক্ত এবং আসামিদের আটকের নির্দেশ দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভোররাতে পুলিশ রবিউল ইসলাম রবিকে আটক করে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, “আদালতের নির্দেশে গৃহবধূ চন্দনা গুম মামলার প্রধান আসামি রবিউল ইসলাম রবিকে আটক করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চন্দনা গুমের ঘটনায় রবিউল ইসলাম রবি জড়িত কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে চন্দনার দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। গৃহবধূ চন্দনা কোথায় আছেন, তিনি জীবিত না মৃত এবং তার নিখোঁজের নেপথ্যে প্রকৃত ঘটনা কী এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে এ রহস্যের জট খুলবে বলে আশা করছেন স্বজনরা।
আরাফাত আলী, 














