আজ ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
আলিপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন ধানদিয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী তৎপরতা ও গণসংযোগ করেছেন আলহাজ্ব মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ সাতক্ষীরার কালারোয়ায় মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, আগুন আতঙ্কে দিন কাটছে এক পরিবারের। সাতক্ষীরায় আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের প্রস্তুতি সভা তালায় ১৯টি দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতা ও তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ মো. রেজাউল ইসলাম রেজা তামাকমুক্ত সাতক্ষীরা পৌরসভা গড়তে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্যসেবায় যত্নের ছোঁয়া: সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে সার্ভিস উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষকের পদায়নপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ সাতক্ষীরায় আধুনিক চিকিৎসাসেবায় আস্থার ঠিকানা ইনমাস সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত উদ্যোগ, সাতক্ষীরায় নিরাপদ সড়ক দিবসের প্রস্তুতি সভা

তালার খড়ের ডাঙ্গা বিলে দুই দশক ধরে মৎস্যচাষ, এক ফসলি জমিতে বাড়ছে উৎপাদন ও আয়

  • তালা প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময়: ০৫:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২২ বার পড়া হয়েছে

ছবিঃ তালার খড়ের ডাঙ্গা বিল

তালা সদর ইউনিয়নের মাঝিয়াড়া এলাকার খড়ের ডাঙ্গা-বাঁশখালী বিলে প্রায় ৫০ বিঘা এক ফসলি জমিতে দুই দশক ধরে মৎস্যচাষ হয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ঘের পরিচালনা করলেও বর্তমানে কামরুল গাজী মৎস্যচাষ করছেন। স্থানীয় জমির মালিকদের দাবি, মৎস্যচাষের কারণে বছরের বড় একটি সময় পতিত থাকা জমি অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগছে। তারা পাচ্ছেন নিয়মিত হারির টাকা, পাশাপাশি বছরে একবার ধান চাষের সুযোগও থাকছে। এতে এলাকায় মৎস্য উৎপাদনের পাশাপাশি জমির মালিকদের আয় ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে।
স্থানীয় জমির মালিক আব্দুল গফুর জানান, খড়ের ডাঙ্গা বিলে তাদের প্রায় ১০ বিঘা জমি রয়েছে। ঘের মালিক নিয়মিতভাবে জমির হারি পরিশোধ করেন। পাশাপাশি বছরে একবার ধান চাষ করে ফসল ঘরে তোলার সুযোগ রয়েছে। ফলে জমি থেকে হারির অর্থ পাওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও করা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ঘের না থাকলে বর্ষা মৌসুমে মাঠে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকত। পানি নেমে যাওয়ার পরও শ্যাওলা ও আবর্জনা জমে থাকায় জমি পরিষ্কার করতে অতিরিক্ত অর্থ ও শ্রম ব্যয় হতো। অনেক সময় জমি প্রস্তুতের খরচও উঠে আসত না। মৎস্যচাষের কারণে বর্তমানে জমির একটি অংশ মাছ উৎপাদনে এবং মৌসুমে ধান চাষে ব্যবহার করা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহুপ জানান, খড়ের ডাঙ্গা বিলে পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি গেট রয়েছে। অতিরিক্ত পানি প্রবেশ করলে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় পানি বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে বর্তমানে পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী গেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন করা যায় বলে জানান তিনি।
বর্তমান ঘের মালিক কামরুল গাজী জানান, প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে ৫৫ জন জমির মালিকের জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৫২ জন জমির মালিক মৎস্যচাষের জন্য জমি দিয়েছেন। জমির অবস্থান অনুযায়ী প্রতিবিঘা বছরে ৮ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হারি দেওয়া হয়। পাশাপাশি জমির মালিকদের বছরে একবার ধান চাষের সুযোগ রয়েছে।
কামরুল গাজীর দাবি, ঘেরটি পরিচালনায় কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন। ঘেরে গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলা, ভেড়ি কেটে দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে ক্ষয়ক্ষতির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি তার। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা যায়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘেরটির চারপাশে ভেড়ি নির্মাণ করে মৎস্যচাষ করা হচ্ছে। ঘেরে বর্তমানে অল্প পরিমাণ পানি রয়েছে। পরিদর্শনের সময় ঘেরের পানি উপচে আশপাশের জমি বা সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে—এমন কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি।
স্থানীয় জমির মালিকরা বলছেন, এক ফসলি জমি হওয়ায় বছরের একটি বড় সময় এসব জমি চাষের বাইরে থাকত। বর্তমানে মৎস্যচাষের পাশাপাশি বছরে একবার ধান উৎপাদনের সুযোগ থাকায় জমির ব্যবহার বেড়েছে। একই সঙ্গে জমির মালিকরা নিয়মিত হারির অর্থ পাওয়ায় তাদের আয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের মৎস্যচাষের ফলে একদিকে এলাকার মাছের উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে জমির মালিকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তবে এ ধরনের মৎস্যচাষে পানি চলাচল ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য এবং আশপাশের মানুষের স্বার্থ নিশ্চিত করা জরুরি। এসব বিষয় সমন্বয়ের মাধ্যমে মৎস্যচাষ অব্যাহত থাকলে এক ফসলি ও মৌসুমি অনাবাদি জমির উৎপাদনশীল ব্যবহার আরও বাড়ানো সম্ভব।
ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

আলিপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন

তালার খড়ের ডাঙ্গা বিলে দুই দশক ধরে মৎস্যচাষ, এক ফসলি জমিতে বাড়ছে উৎপাদন ও আয়

আপডেট সময়: ০৫:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তালা সদর ইউনিয়নের মাঝিয়াড়া এলাকার খড়ের ডাঙ্গা-বাঁশখালী বিলে প্রায় ৫০ বিঘা এক ফসলি জমিতে দুই দশক ধরে মৎস্যচাষ হয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ঘের পরিচালনা করলেও বর্তমানে কামরুল গাজী মৎস্যচাষ করছেন। স্থানীয় জমির মালিকদের দাবি, মৎস্যচাষের কারণে বছরের বড় একটি সময় পতিত থাকা জমি অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগছে। তারা পাচ্ছেন নিয়মিত হারির টাকা, পাশাপাশি বছরে একবার ধান চাষের সুযোগও থাকছে। এতে এলাকায় মৎস্য উৎপাদনের পাশাপাশি জমির মালিকদের আয় ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে।
স্থানীয় জমির মালিক আব্দুল গফুর জানান, খড়ের ডাঙ্গা বিলে তাদের প্রায় ১০ বিঘা জমি রয়েছে। ঘের মালিক নিয়মিতভাবে জমির হারি পরিশোধ করেন। পাশাপাশি বছরে একবার ধান চাষ করে ফসল ঘরে তোলার সুযোগ রয়েছে। ফলে জমি থেকে হারির অর্থ পাওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও করা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ঘের না থাকলে বর্ষা মৌসুমে মাঠে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকত। পানি নেমে যাওয়ার পরও শ্যাওলা ও আবর্জনা জমে থাকায় জমি পরিষ্কার করতে অতিরিক্ত অর্থ ও শ্রম ব্যয় হতো। অনেক সময় জমি প্রস্তুতের খরচও উঠে আসত না। মৎস্যচাষের কারণে বর্তমানে জমির একটি অংশ মাছ উৎপাদনে এবং মৌসুমে ধান চাষে ব্যবহার করা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহুপ জানান, খড়ের ডাঙ্গা বিলে পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি গেট রয়েছে। অতিরিক্ত পানি প্রবেশ করলে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় পানি বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে বর্তমানে পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী গেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন করা যায় বলে জানান তিনি।
বর্তমান ঘের মালিক কামরুল গাজী জানান, প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে ৫৫ জন জমির মালিকের জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৫২ জন জমির মালিক মৎস্যচাষের জন্য জমি দিয়েছেন। জমির অবস্থান অনুযায়ী প্রতিবিঘা বছরে ৮ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হারি দেওয়া হয়। পাশাপাশি জমির মালিকদের বছরে একবার ধান চাষের সুযোগ রয়েছে।
কামরুল গাজীর দাবি, ঘেরটি পরিচালনায় কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন। ঘেরে গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলা, ভেড়ি কেটে দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে ক্ষয়ক্ষতির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি তার। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা যায়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘেরটির চারপাশে ভেড়ি নির্মাণ করে মৎস্যচাষ করা হচ্ছে। ঘেরে বর্তমানে অল্প পরিমাণ পানি রয়েছে। পরিদর্শনের সময় ঘেরের পানি উপচে আশপাশের জমি বা সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে—এমন কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি।
স্থানীয় জমির মালিকরা বলছেন, এক ফসলি জমি হওয়ায় বছরের একটি বড় সময় এসব জমি চাষের বাইরে থাকত। বর্তমানে মৎস্যচাষের পাশাপাশি বছরে একবার ধান উৎপাদনের সুযোগ থাকায় জমির ব্যবহার বেড়েছে। একই সঙ্গে জমির মালিকরা নিয়মিত হারির অর্থ পাওয়ায় তাদের আয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের মৎস্যচাষের ফলে একদিকে এলাকার মাছের উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে জমির মালিকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তবে এ ধরনের মৎস্যচাষে পানি চলাচল ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য এবং আশপাশের মানুষের স্বার্থ নিশ্চিত করা জরুরি। এসব বিষয় সমন্বয়ের মাধ্যমে মৎস্যচাষ অব্যাহত থাকলে এক ফসলি ও মৌসুমি অনাবাদি জমির উৎপাদনশীল ব্যবহার আরও বাড়ানো সম্ভব।