আজ ১১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ আশাশুনিতে গভীর রাতে বসতঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে থানায় এজহার।। নারীসহ আহত-৪ সাতক্ষীরায় শাপলা প্রতিবন্ধী যুব উন্নয়ন সংস্থার কমিটি গঠন ও নির্বাচন সম্পন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৭ পরিবার পেল ৯৭ লাখ টাকার সহায়তা তালায় প্রতিবন্ধী সনাক্তকরণ জরিপ অনুষ্ঠিত বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তালা সদর ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে চালক ও পথচারী উভয়কেই সচেতন হতে হবে : জেলা প্রশাসক সোহাগ পরিবহনের ধাক্কায় সাতক্ষীরায় গুড় ব্যবসায়ী নিহত দেবহাটায় অনিকেত আলাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪শ পরিবারে লিচুর চারা বিতরণ খর্ণিয়া হাইস্কুলে সভাপতি নির্বাচিত  মোজাহিদ

আশাশুনিতে গভীর রাতে বসতঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে থানায় এজহার।। নারীসহ আহত-৪

আশাশুনিতে পূর্ববিরোধের জেরে গভীর রাতে বসতঘরে ঢুকে একই পরিবারের নারী-পুরুষসহ চারজনকে মারধর,ঘরবাড়ি ভাঙচুর,স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলেয়া খাতুন বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে আশাশুনি থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের চেউটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়,চেউটিয়া গ্রামের আলেয়া খাতুনের বাড়ির পাশেই অভিযুক্ত সোহরাব হোসেনসহ অন্যদের বসবাস। বর্ষা মৌসুমে বসতবাড়ির পানি নিষ্কাশনের ক্যানেল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে ঘটনার রাতে সোহরাব হোসেনসহ ৭-৮ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আলেয়া খাতুনের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় প্রাণভয়ে আলেয়া খাতুন ও তার স্বামী সিরাজুল ঘরের দরজা বন্ধ করে খাটের নিচে আশ্রয় নেন। অভিযোগে বলা হয়,হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে সিরাজুলকে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। তার মাথা,হাত,পিঠ ও কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয়দের সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে,হামলাকারীরা আলেয়া খাতুনকে মারধর করে পরনের পোশাক টানাটানি ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে এবং তার গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আলেয়ার মেয়ে শারমিন খাতুনকেও মারধর করা হয়। তার গলার স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া এবং পোশাক টানাটানি করে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময় আলেয়ার শাশুড়ি সাহিদা খাতুন বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে,হামলাকারীরা বসতঘরের পালঙ্ক,ড্রেসিং টেবিল,দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করেছে।
চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে আলেয়া খাতুন,তার স্বামী সিরাজুল ও শাশুড়ি সাহিদা খাতুন বর্তমানে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

আশাশুনিতে গভীর রাতে বসতঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে থানায় এজহার।। নারীসহ আহত-৪

আপডেট সময়: ০৩:১২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
আশাশুনিতে পূর্ববিরোধের জেরে গভীর রাতে বসতঘরে ঢুকে একই পরিবারের নারী-পুরুষসহ চারজনকে মারধর,ঘরবাড়ি ভাঙচুর,স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলেয়া খাতুন বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে আশাশুনি থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের চেউটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়,চেউটিয়া গ্রামের আলেয়া খাতুনের বাড়ির পাশেই অভিযুক্ত সোহরাব হোসেনসহ অন্যদের বসবাস। বর্ষা মৌসুমে বসতবাড়ির পানি নিষ্কাশনের ক্যানেল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে ঘটনার রাতে সোহরাব হোসেনসহ ৭-৮ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আলেয়া খাতুনের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় প্রাণভয়ে আলেয়া খাতুন ও তার স্বামী সিরাজুল ঘরের দরজা বন্ধ করে খাটের নিচে আশ্রয় নেন। অভিযোগে বলা হয়,হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে সিরাজুলকে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। তার মাথা,হাত,পিঠ ও কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয়দের সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে,হামলাকারীরা আলেয়া খাতুনকে মারধর করে পরনের পোশাক টানাটানি ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে এবং তার গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আলেয়ার মেয়ে শারমিন খাতুনকেও মারধর করা হয়। তার গলার স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া এবং পোশাক টানাটানি করে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময় আলেয়ার শাশুড়ি সাহিদা খাতুন বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে,হামলাকারীরা বসতঘরের পালঙ্ক,ড্রেসিং টেবিল,দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করেছে।
চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে আলেয়া খাতুন,তার স্বামী সিরাজুল ও শাশুড়ি সাহিদা খাতুন বর্তমানে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।