আজ ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ঘেরের ভেড়ি বাঁধ কেটে মাছ ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আশাশুনিতে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামীসহ গ্রেফতার-৩ সাতক্ষীরায় সারের ডিলারশিপ নিয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ সাতক্ষীরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শ্যামনগরে মুন্ডা নারী ও যুবদের জলবায়ু সহনশীলতা ও ডিজিটাল নেতৃত্ব উন্নয়নে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা আলিপুরে জেলা যুবদল ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধনা সাতক্ষীরায় চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন করলেন জেলা আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল উপজেলা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের সমন্বয় সভা   সাতক্ষীরা সদরের ঝাউডাঙ্গায় ‘নতুনকুঁড়ি ২০২৬-২৭এর ইউনিয়ন পর্যায়ের বাছাই পর্ব সম্পন্ন

ভোমরার হালিম মাস্টারের বিরুদ্ধে মাদক সাম্রাজ্য গড়ার অভিযোগ

  • সাইফুল আজম খান,
  • আপডেট সময়: ০৪:১৪:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • ১৭২ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা সীমান্ত এলাকার আলোচিত ব্যক্তি হালিম মাস্টারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপথে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একসময় হোটেলে মেসিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও বর্তমানে তিনি শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার নামে সাতক্ষীরা শহর ও আশপাশে একাধিক বাড়ি, জমিজমা এবং অন্যান্য সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, হালিম মাস্টার ভোমরা এলাকার পুরাতন মাদক ব্যবসায়ী আরশাদ আলী ওরফে ‘ভদু’র জামাতা এবং আলোচিত মাদক কারবারি শামিম হোসেনের শ্যালক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, ঢাকা ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে প্রায় আটটি মাদক মামলা রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভোমরা স্থলবন্দর এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সীমান্তে নজরদারি বাড়লেও বিভিন্ন কৌশলে মাদক পাচার অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সদর উপজেলার ভোমরা, হাড়দ্দহা, লক্ষ্মীদাড়ি, ঘোষপাড়া ও ঘোনা-গাজীপুর এলাকার বিভিন্ন চোরাপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে মাদক দেশে প্রবেশ করছে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় সীমান্তের কয়েকজন চোরাকারবারির কাছ থেকে কোরেক্সসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করেন হালিম মাস্টার।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সীমান্ত এলাকায় মাদক পারাপারের তৎপরতা বেড়ে যায়। হালিম মাস্টারের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সীমান্তজুড়ে সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে তার নিয়োজিত কয়েকজন ব্যক্তি খুচরা পর্যায়ে মাদক বিক্রি করে থাকেন এবং তাদের নিয়মিত পারিশ্রমিক প্রদান করা হয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, ভোমরা টাওয়ার মোড় এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসা থেকেই তিনি পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন। তার সহযোগীদের মাধ্যমে খুচরা ও পাইকারি উভয় পর্যায়ে মাদক সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় তার চারটি বাড়ি রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। একাধিক মামলা থাকার পরও প্রশাসনের চোখের সামনে কীভাবে তার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এছাড়া সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থে হালিম মাস্টার ও তার পরিবারের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হালিম মাস্টারের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ভোমরার হালিম মাস্টারের বিরুদ্ধে মাদক সাম্রাজ্য গড়ার অভিযোগ

আপডেট সময়: ০৪:১৪:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা সীমান্ত এলাকার আলোচিত ব্যক্তি হালিম মাস্টারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপথে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একসময় হোটেলে মেসিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও বর্তমানে তিনি শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার নামে সাতক্ষীরা শহর ও আশপাশে একাধিক বাড়ি, জমিজমা এবং অন্যান্য সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, হালিম মাস্টার ভোমরা এলাকার পুরাতন মাদক ব্যবসায়ী আরশাদ আলী ওরফে ‘ভদু’র জামাতা এবং আলোচিত মাদক কারবারি শামিম হোসেনের শ্যালক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, ঢাকা ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে প্রায় আটটি মাদক মামলা রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভোমরা স্থলবন্দর এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সীমান্তে নজরদারি বাড়লেও বিভিন্ন কৌশলে মাদক পাচার অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সদর উপজেলার ভোমরা, হাড়দ্দহা, লক্ষ্মীদাড়ি, ঘোষপাড়া ও ঘোনা-গাজীপুর এলাকার বিভিন্ন চোরাপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে মাদক দেশে প্রবেশ করছে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় সীমান্তের কয়েকজন চোরাকারবারির কাছ থেকে কোরেক্সসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করেন হালিম মাস্টার।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সীমান্ত এলাকায় মাদক পারাপারের তৎপরতা বেড়ে যায়। হালিম মাস্টারের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সীমান্তজুড়ে সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে তার নিয়োজিত কয়েকজন ব্যক্তি খুচরা পর্যায়ে মাদক বিক্রি করে থাকেন এবং তাদের নিয়মিত পারিশ্রমিক প্রদান করা হয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, ভোমরা টাওয়ার মোড় এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসা থেকেই তিনি পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন। তার সহযোগীদের মাধ্যমে খুচরা ও পাইকারি উভয় পর্যায়ে মাদক সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় তার চারটি বাড়ি রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। একাধিক মামলা থাকার পরও প্রশাসনের চোখের সামনে কীভাবে তার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এছাড়া সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থে হালিম মাস্টার ও তার পরিবারের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হালিম মাস্টারের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।