আজ ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ আশাশুনিতে গভীর রাতে বসতঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে থানায় এজহার।। নারীসহ আহত-৪ সাতক্ষীরায় শাপলা প্রতিবন্ধী যুব উন্নয়ন সংস্থার কমিটি গঠন ও নির্বাচন সম্পন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৭ পরিবার পেল ৯৭ লাখ টাকার সহায়তা তালায় প্রতিবন্ধী সনাক্তকরণ জরিপ অনুষ্ঠিত বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তালা সদর ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে চালক ও পথচারী উভয়কেই সচেতন হতে হবে : জেলা প্রশাসক সোহাগ পরিবহনের ধাক্কায় সাতক্ষীরায় গুড় ব্যবসায়ী নিহত দেবহাটায় অনিকেত আলাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪শ পরিবারে লিচুর চারা বিতরণ খর্ণিয়া হাইস্কুলে সভাপতি নির্বাচিত  মোজাহিদ

সাতক্ষীরা পৌরসভার ড্রেন খননে বাড়িঘর ঝুঁকিতে, দুর্ভোগে বাসিন্দারা

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"resize":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

সাতক্ষীরা পৌরসভার ড্রেন ও সড়ক সংস্কারকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে সড়কসংলগ্ন বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়ির প্রাচীর, রান্নাঘর ও গেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে প্রাচীর ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও বাড়ি থেকে বের হতে বাসিন্দাদের ব্যবহার করতে হচ্ছে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো। পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ডে একই চিত্র দেখা গেছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, জার্মান উন্নয়ন সংস্থা কে.এফ.ডব্লিউ প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ১৫ কোটি ৩৬ লাখ ২৩ হাজার ৫১২ টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার আটটি সড়ক ও চারটি ড্রেন নির্মাণের কাজ পায় বনান্তর ট্রেডিং লিমিটেড (জেভি)। ২০২৪ সালের ৫ মে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় মোট ৬ কিলোমিটার সড়ক এবং ১ দশমিক ৮০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের কথা রয়েছে।

বর্তমানে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপাপুকুরপাড় থেকে মানিক ময়রা মোড় এবং কাটিয়া স্কুল থেকে ঝুটিতলা ঈদগাহ পর্যন্ত সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দেড় থেকে দুই বছর আগে কাজ শুরু হলেও শুকনো মৌসুমে কাজ না করে বর্ষাকালে ড্রেন খনন শুরু করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। দীর্ঘদিন খননকাজ ফেলে রাখায় বৃষ্টির পানিতে ড্রেন ভরে মাটি ধসে পড়ছে। এতে অনেক বাড়ির প্রাচীর, রান্নাঘর ও গেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিভর্তি খোলা ড্রেনের কারণে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন এলাকাবাসী।

সরকারপাড়ার বাসিন্দা ও ভ্যানচালক জামাত আলী বলেন, “বাড়ি থেকে ভ্যান বের করতে পারি না। ভ্যান তুলতে তিন-চারজন মানুষের সাহায্য লাগে। একদিন কাজ করতে না পারলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যায়।

কাটিয়া সরকারপাড়ার বাসিন্দা মার্জিয়া বেগম বলেন, “দুই মাস আগে ড্রেন খননের পর সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে বাঁশ দিয়ে বাড়ির প্রধান গেট ও রান্নাঘরের দেয়ালে ঠেকনা দিয়েছিলাম। কিন্তু দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় এবং বৃষ্টির পানিতে ড্রেন ভরে মাটি ধসে পড়ে। এতে বাড়ির প্রাচীর ও রান্নাঘরের দেয়াল ভেঙে যায়। আমি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।

সাতক্ষীরা পৌরসভার উপ-প্রকৌশলী (সিভিল-১) সাগর দেবনাথ বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা রয়েছে। মাসিক সমন্বয় সভায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বনান্তর ট্রেডিং লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ইকবাল জমাদ্দারকে তলব করা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

এবিষয়ে বনান্তর ট্রেডিং লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার আবিদ জমাদ্দার বলেন, “ড্রেন নির্মাণের সময় পৌরসভার ৮ ও ৬ ইঞ্চি পানির পাইপ এবং বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া টানা বৃষ্টির কারণেও কয়েকদিন কাজ বন্ধ ছিল। তবে আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

সাতক্ষীরা পৌরসভার ড্রেন খননে বাড়িঘর ঝুঁকিতে, দুর্ভোগে বাসিন্দারা

আপডেট সময়: ০২:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরা পৌরসভার ড্রেন ও সড়ক সংস্কারকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে সড়কসংলগ্ন বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়ির প্রাচীর, রান্নাঘর ও গেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে প্রাচীর ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও বাড়ি থেকে বের হতে বাসিন্দাদের ব্যবহার করতে হচ্ছে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো। পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ডে একই চিত্র দেখা গেছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, জার্মান উন্নয়ন সংস্থা কে.এফ.ডব্লিউ প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ১৫ কোটি ৩৬ লাখ ২৩ হাজার ৫১২ টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার আটটি সড়ক ও চারটি ড্রেন নির্মাণের কাজ পায় বনান্তর ট্রেডিং লিমিটেড (জেভি)। ২০২৪ সালের ৫ মে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় মোট ৬ কিলোমিটার সড়ক এবং ১ দশমিক ৮০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের কথা রয়েছে।

বর্তমানে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপাপুকুরপাড় থেকে মানিক ময়রা মোড় এবং কাটিয়া স্কুল থেকে ঝুটিতলা ঈদগাহ পর্যন্ত সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দেড় থেকে দুই বছর আগে কাজ শুরু হলেও শুকনো মৌসুমে কাজ না করে বর্ষাকালে ড্রেন খনন শুরু করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। দীর্ঘদিন খননকাজ ফেলে রাখায় বৃষ্টির পানিতে ড্রেন ভরে মাটি ধসে পড়ছে। এতে অনেক বাড়ির প্রাচীর, রান্নাঘর ও গেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিভর্তি খোলা ড্রেনের কারণে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন এলাকাবাসী।

সরকারপাড়ার বাসিন্দা ও ভ্যানচালক জামাত আলী বলেন, “বাড়ি থেকে ভ্যান বের করতে পারি না। ভ্যান তুলতে তিন-চারজন মানুষের সাহায্য লাগে। একদিন কাজ করতে না পারলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যায়।

কাটিয়া সরকারপাড়ার বাসিন্দা মার্জিয়া বেগম বলেন, “দুই মাস আগে ড্রেন খননের পর সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে বাঁশ দিয়ে বাড়ির প্রধান গেট ও রান্নাঘরের দেয়ালে ঠেকনা দিয়েছিলাম। কিন্তু দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় এবং বৃষ্টির পানিতে ড্রেন ভরে মাটি ধসে পড়ে। এতে বাড়ির প্রাচীর ও রান্নাঘরের দেয়াল ভেঙে যায়। আমি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।

সাতক্ষীরা পৌরসভার উপ-প্রকৌশলী (সিভিল-১) সাগর দেবনাথ বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা রয়েছে। মাসিক সমন্বয় সভায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বনান্তর ট্রেডিং লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ইকবাল জমাদ্দারকে তলব করা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

এবিষয়ে বনান্তর ট্রেডিং লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার আবিদ জমাদ্দার বলেন, “ড্রেন নির্মাণের সময় পৌরসভার ৮ ও ৬ ইঞ্চি পানির পাইপ এবং বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া টানা বৃষ্টির কারণেও কয়েকদিন কাজ বন্ধ ছিল। তবে আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।