আজ ০৪:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
আশাশুনি কৌচুয়া রিকার্ডিও সম্পত্তি যবর দখলের পায়তারা , থানায় অভিযোগ ,  সাতক্ষীরায় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে স্বপন দাসের স্ত্রীর ওপর হামলার অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রত্না দাস জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা জাসাসের বর্ণাঢ্য র‍্যালি সাতক্ষীরায় মরহুম আলহাজ্ব তোফায়েল হকের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত শ্যামনগরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত বাঁশের মই বসিয়েছেন স্থানীয়রা সেতুতে নেই উঠানামার সংযোগ সড়ক ভোগান্তিতে এলাকাবাসী আশাশুনি সরকারি কলেজে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত মধুবাগ আবাসিক এলাকা উন্নয়ন কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত আশাশুনি কৌচুয়া রেকর্ডিও সম্পত্তি যবর দখলের পায়তারা , থানায় অভিযোগ সাতক্ষীরায় ১০ হাজার অসহায় মানুষের বাড়িতে গিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন ডা. বলরাম বিশ্বাস।

বাঁশের মই বসিয়েছেন স্থানীয়রা সেতুতে নেই উঠানামার সংযোগ সড়ক ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

শ্যামনগর:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর একপাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে সেতুতে বাঁশের মই বসিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

এ চিত্র শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামের দাউদ গাজীর বাড়ির সামনে সীমানা-সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত সেতুর। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানাগেছে ২৪-২৫ অর্থ বছরের সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়।নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিফ এন্টারপ্রাইজ। তবে সেতুর সংযোগ সড়ক ও খালের মাটি অপরিকল্পিতভাবে কাটার ফলে ভাঙনের মুখে পড়েছে স্থানীয় মোহাম্মদ গাজীর বসতভিটা। ধসেও গেছে চলাচলের পাকা রাস্তাটি, যা বর্তমানে খালে বিলীন হওয়ার পথে। দীর্ঘদিন পার হলেও ঠিকাদার কাজ শেষ না করায় হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের একপাশের সংযোগ সড়কটির কোনো অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। মাটি ধসে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, এবং খালের পাড় ধরে থাকা স্থানীয় একজন মানুষের ঘরও ধসে পড়েছে।

মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জামাত ইসলামী আমির গাজী আবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ৭নং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন ও রমজাননগরের টেংরাখালি সেতুটি দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় আছে। এখানে ঠিকাদার তার পরিকল্পনাহীন কাজের মাধ্যমে জন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে আছে। এখান থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাটি বিক্রি করা হয়।পরবর্তীতে মাটি না পেয়ে সেতুটি এইভাবে অবহেলিত ভাবে পড়ে রয়েছে।ব্রিজটি করার সময় ইঞ্জিনিয়ারদের নকশা এবং নিয়মকানুন তোয়াক্কা না করে ঠিকাদার নিজের সুবিধামতো খাল ও রাস্তার পাশ থেকে ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে মাটি কেটেছেন। যার ফলে প্রথম বর্ষাতেই রাস্তার মাটি ধসে নিচে নেমে গেছে।এবিষয়ে আমরা ইউএনও মহোদয় ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বরাবর দরখাস্ত করেছিলাম কিন্তু আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ভূমিকা দেখতে পায়নি। আমাদের দাবি দ্রুত এই সেতু সংযোগ সড়ক সহ মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের রাস্তাটি পাইলিং করে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ব্রিজ দিয়ে আমাদের উপকার হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ঠিকাদারের উল্টাপাল্টা মাটি কাটার কারণে আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙনের মুখে পড়েছে। রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় এখন আমরা ঠিকমতো চলাচলও করতে পারছি না। গভীর করে মাটি কাটার কারণে আমার রেকর্ডিং এর সম্পত্তির ওপরে ঘরটা ভেঙ্গে গেছে এরপরও কোন ব্যবস্থা করছে না আমার।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, সরকারি এই প্রকল্পের কাজ একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ করে রেখেছে। ব্রিজের মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও এক পাশের সংযোগ সড়ক সঠিকভাবে না করায় এটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাতে চলাচলের সময় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পথচারীরা।
মীরগাং জামে মসজিদের সেক্রেটারি রুহুল আমিন বলেন ঠিকাদারের গাফিলতি এবং স্থানীয় তদারকি কর্মকর্তার উদাসীনতার কারণেই সরকারের এত বড় একটি উন্নয়ন প্রকল্প আজ সাধারণ মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙা ঘর পুনর্নির্মাণ ও অতি দ্রুত সংযোগ সড়ক শেষ করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ সাধারণ গ্রামবাসী।

রমজাননগর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে ইপি সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন ব্রিজটির সংযোগ সড়ক করার জন্য বারবার ঠিকাদারের বলার পরও কোন কর্ণপাত করছে না।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) মিরাজ হোসেন বলেন আমি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে চিঠি করেছি দ্রুত ব্রিজের সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করার জন্য এবং আমি ১-২ দিনের মধ্যে সরজমিনে এসে তদন্তপূর্বক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক বলেন বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে দেখবো এবং পিআইও সাথে কথা বলছি দ্রুত ব্রিজের কাজ সম্পূর্ণ এবং সংযোগ সড়ক করার জন্য।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

আশাশুনি কৌচুয়া রিকার্ডিও সম্পত্তি যবর দখলের পায়তারা , থানায় অভিযোগ , 

বাঁশের মই বসিয়েছেন স্থানীয়রা সেতুতে নেই উঠানামার সংযোগ সড়ক ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

আপডেট সময়: ০৫:০০:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

শ্যামনগর:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর একপাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে সেতুতে বাঁশের মই বসিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

এ চিত্র শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামের দাউদ গাজীর বাড়ির সামনে সীমানা-সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত সেতুর। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানাগেছে ২৪-২৫ অর্থ বছরের সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়।নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিফ এন্টারপ্রাইজ। তবে সেতুর সংযোগ সড়ক ও খালের মাটি অপরিকল্পিতভাবে কাটার ফলে ভাঙনের মুখে পড়েছে স্থানীয় মোহাম্মদ গাজীর বসতভিটা। ধসেও গেছে চলাচলের পাকা রাস্তাটি, যা বর্তমানে খালে বিলীন হওয়ার পথে। দীর্ঘদিন পার হলেও ঠিকাদার কাজ শেষ না করায় হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের একপাশের সংযোগ সড়কটির কোনো অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। মাটি ধসে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, এবং খালের পাড় ধরে থাকা স্থানীয় একজন মানুষের ঘরও ধসে পড়েছে।

মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জামাত ইসলামী আমির গাজী আবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ৭নং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন ও রমজাননগরের টেংরাখালি সেতুটি দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় আছে। এখানে ঠিকাদার তার পরিকল্পনাহীন কাজের মাধ্যমে জন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে আছে। এখান থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাটি বিক্রি করা হয়।পরবর্তীতে মাটি না পেয়ে সেতুটি এইভাবে অবহেলিত ভাবে পড়ে রয়েছে।ব্রিজটি করার সময় ইঞ্জিনিয়ারদের নকশা এবং নিয়মকানুন তোয়াক্কা না করে ঠিকাদার নিজের সুবিধামতো খাল ও রাস্তার পাশ থেকে ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে মাটি কেটেছেন। যার ফলে প্রথম বর্ষাতেই রাস্তার মাটি ধসে নিচে নেমে গেছে।এবিষয়ে আমরা ইউএনও মহোদয় ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বরাবর দরখাস্ত করেছিলাম কিন্তু আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ভূমিকা দেখতে পায়নি। আমাদের দাবি দ্রুত এই সেতু সংযোগ সড়ক সহ মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের রাস্তাটি পাইলিং করে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ব্রিজ দিয়ে আমাদের উপকার হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ঠিকাদারের উল্টাপাল্টা মাটি কাটার কারণে আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙনের মুখে পড়েছে। রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় এখন আমরা ঠিকমতো চলাচলও করতে পারছি না। গভীর করে মাটি কাটার কারণে আমার রেকর্ডিং এর সম্পত্তির ওপরে ঘরটা ভেঙ্গে গেছে এরপরও কোন ব্যবস্থা করছে না আমার।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, সরকারি এই প্রকল্পের কাজ একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ করে রেখেছে। ব্রিজের মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও এক পাশের সংযোগ সড়ক সঠিকভাবে না করায় এটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাতে চলাচলের সময় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পথচারীরা।
মীরগাং জামে মসজিদের সেক্রেটারি রুহুল আমিন বলেন ঠিকাদারের গাফিলতি এবং স্থানীয় তদারকি কর্মকর্তার উদাসীনতার কারণেই সরকারের এত বড় একটি উন্নয়ন প্রকল্প আজ সাধারণ মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙা ঘর পুনর্নির্মাণ ও অতি দ্রুত সংযোগ সড়ক শেষ করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ সাধারণ গ্রামবাসী।

রমজাননগর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে ইপি সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন ব্রিজটির সংযোগ সড়ক করার জন্য বারবার ঠিকাদারের বলার পরও কোন কর্ণপাত করছে না।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) মিরাজ হোসেন বলেন আমি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে চিঠি করেছি দ্রুত ব্রিজের সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করার জন্য এবং আমি ১-২ দিনের মধ্যে সরজমিনে এসে তদন্তপূর্বক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক বলেন বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে দেখবো এবং পিআইও সাথে কথা বলছি দ্রুত ব্রিজের কাজ সম্পূর্ণ এবং সংযোগ সড়ক করার জন্য।