আজ ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
আশাশুনি কৌচুয়া রেকর্ডিও সম্পত্তি যবর দখলের পায়তারা , থানায় অভিযোগ সাতক্ষীরায় ১০ হাজার অসহায় মানুষের বাড়িতে গিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন ডা. বলরাম বিশ্বাস। ৭ নভেম্বর উপলক্ষে সাতক্ষীরার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচি সাতক্ষীরায় সপ্তাহব্যাপী যুব দিবসের কর্মসূচিতে পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ প্রথম আলোর সেরা প্রতিনিধি নির্বাচিত হ‌লেন ইমতিয়াজ, সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের অভিনন্দন শ্যামনগরে বিএনপি নেতা মরহুম তরিকুল ইসলামের স্মরণে আলোচনা সভা ও খাবার বিতরণ সাতক্ষীরায় পূর্ব শত্রুতার জেরে মুদি ও চায়ের দোকানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আশাশুনিতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মাসে ঘুষ বাণিজ্যে ৬-৭ লাখ টাকা  পাটকেলঘাটায় পারিবারিক কলহের জেরে যুবকের আত্মহত্যা* কেশবপুরে পরকীয়া প্রেমের দৃশ্য দেখে ফেলায় স্বামী-স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা-অতঃপর ২আটক।
ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত, ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড

মাদকসেবনের দায়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনস্টেবলের কারাদণ্ড

  • বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময়: ০২:৪৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২১৫ বার পড়া হয়েছে

গ্রেপ্তার রুবেল হোসেন। ছবি: কালবেলা

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনস্টেবল রুবেল হোসেনকে মাদকসেবনের দায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। ডোপ টেস্টে তার শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে এ দণ্ড দেওয়া হয়।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বরগুনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রুবেল হোসেনের ডোপ টেস্ট করা হয়। পরীক্ষায় তার শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরে তাকে বরগুনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরগুনার বেতাগী উপজেলার চান্দখালী এলাকা থেকে রুবেল হোসেনকে আটক করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। বরগুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হামিমুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রুবেল হোসেন বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নম্বর কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক এলাকার হামিদ মৃধার ছেলে। তিনি বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মাদক সরবরাহে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। বরগুনায় মাদক সরবরাহের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর বেশ কিছুদিন ধরে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়। পরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করে অধিদপ্তর।

সূত্রটি আরও জানায়, রোববার রুবেল হোসেন ঢাকা থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে বরগুনায় আসছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে বেতাগীর চান্দখালী বাজারের কাছে চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে রুবেলকে থামানোর চেষ্টা করা হলে তিনি একটি সরু গলি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে পালানোর সময় ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়।

তবে আটকের সময় তার সঙ্গে থাকা একটি ছোট ব্যাগ পাওয়া যায়নি। ওই ব্যাগে মাদক ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল নিজে ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

পরে সোমবার সকালে তাকে বরগুনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কনস্টেবল পদে যোগ দেওয়ার পর বরিশাল ও বরগুনায় রুবেল ও তার পরিবারের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত চার বছরে তাদের সম্পদের পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা। তবে এসব সম্পদের মালিকানা ও উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বরগুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হামিমুর রশিদ বলেন, রুবেল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত—এমন তথ্য তাদের কাছে ছিল। যাচাই-বাছাইয়ের পর তারা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করেন। রোববার ঢাকা থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে তার বরগুনায় আসার তথ্য পেয়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছিল। আটকের সময় তার কাছে থাকা একটি ছোট ব্যাগ পাওয়া যায়নি। পরে ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

তিনি আরও জানান, রুবেল হোসেনের মামলার বিষয়টি ইতোমধ্যে অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

আশাশুনি কৌচুয়া রেকর্ডিও সম্পত্তি যবর দখলের পায়তারা , থানায় অভিযোগ

ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত, ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড

মাদকসেবনের দায়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনস্টেবলের কারাদণ্ড

আপডেট সময়: ০২:৪৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনস্টেবল রুবেল হোসেনকে মাদকসেবনের দায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। ডোপ টেস্টে তার শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে এ দণ্ড দেওয়া হয়।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বরগুনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রুবেল হোসেনের ডোপ টেস্ট করা হয়। পরীক্ষায় তার শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরে তাকে বরগুনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরগুনার বেতাগী উপজেলার চান্দখালী এলাকা থেকে রুবেল হোসেনকে আটক করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। বরগুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হামিমুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রুবেল হোসেন বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নম্বর কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক এলাকার হামিদ মৃধার ছেলে। তিনি বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মাদক সরবরাহে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। বরগুনায় মাদক সরবরাহের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর বেশ কিছুদিন ধরে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়। পরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করে অধিদপ্তর।

সূত্রটি আরও জানায়, রোববার রুবেল হোসেন ঢাকা থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে বরগুনায় আসছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে বেতাগীর চান্দখালী বাজারের কাছে চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে রুবেলকে থামানোর চেষ্টা করা হলে তিনি একটি সরু গলি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে পালানোর সময় ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়।

তবে আটকের সময় তার সঙ্গে থাকা একটি ছোট ব্যাগ পাওয়া যায়নি। ওই ব্যাগে মাদক ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল নিজে ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

পরে সোমবার সকালে তাকে বরগুনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কনস্টেবল পদে যোগ দেওয়ার পর বরিশাল ও বরগুনায় রুবেল ও তার পরিবারের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত চার বছরে তাদের সম্পদের পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা। তবে এসব সম্পদের মালিকানা ও উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বরগুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হামিমুর রশিদ বলেন, রুবেল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত—এমন তথ্য তাদের কাছে ছিল। যাচাই-বাছাইয়ের পর তারা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করেন। রোববার ঢাকা থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে তার বরগুনায় আসার তথ্য পেয়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছিল। আটকের সময় তার কাছে থাকা একটি ছোট ব্যাগ পাওয়া যায়নি। পরে ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

তিনি আরও জানান, রুবেল হোসেনের মামলার বিষয়টি ইতোমধ্যে অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।