সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিকল্প প্রার্থী নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী। এ আসনে দলের তিন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁরা হলেন শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির শহীদুল ইসলাম (মুকুল) ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাওলানা আবদুর রহমানকে ইতোমধ্যে দলীয়ভাবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তাঁকে প্রার্থী করার পাশাপাশি পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনেও তাঁকে এ আসনের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ অবস্থার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলটির দাবি, তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে।
এর মধ্যে গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় গাজী নজরুলকে গ্রেপ্তার করে চার দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এ ঘটনার পর তাঁর সংসদ সদস্যপদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।
এদিকে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব জানান, গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের বিষয়টি জামায়াত কমিশনকে জানিয়েছে। তবে সংসদ সচিবালয় বা স্পিকারের কাছ থেকে এখনো কোনো চিঠি পায়নি নির্বাচন কমিশন। স্পিকারের চিঠি পাওয়ার পরই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের ৯৭টি কেন্দ্রে গাজী নজরুল ইসলাম ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. মনিরুজ্জামান পান ৮৫ হাজার ৪২৬ ভোট। এর আগে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালেও এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন গাজী নজরুল।
বিশেষ প্রতিনিধি 


















