দেশের চলমান জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি ও লোডশেডিং নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারের সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের হতাশা রয়েছে। ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তিনি বলেন, ‘দুষ্টু লোকে বলেন, ভালো লোকে বলেন না—টুকু আসে, টুকু যায়। এই আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে, তা নাকি বোঝা যায় না।’
জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ছে, বিদ্যুতের জন্য মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এবং অনেক এলাকায় গ্যাসের সংকট রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অথচ ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং নয় শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে কি না এবং বিদ্যমান চাকরিগুলো কতদিন টিকে থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা—এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নানা বক্তব্য দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, দেশের ৬৪ জেলায় যদি ৬৪ জন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী থাকতেন, তাহলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভালো হতে পারত।
এদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়েও সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ডিমের দাম কয়েক দফা বেড়েছে, পাশাপাশি চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে মিনিকেট চালের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় তিনি টিসিবির পণ্য কিনতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর বিষয়টিও উল্লেখ করেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষ প্রতিনিধি: 























