আজ ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
যশোরের শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৮টি স্বর্ণের বার সহ ১ জন আটক। এসিল্যান্ড অফিসের নাকের ডগায় সংস্কারের নামে নতুন দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ সাতক্ষীরার কালারোয়ায় মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, আগুন আতঙ্কে দিন কাটছে এক পরিবারের। আলিপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন ধানদিয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী তৎপরতা ও গণসংযোগ করেছেন আলহাজ্ব মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ সাতক্ষীরার কালারোয়ায় মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, আগুন আতঙ্কে দিন কাটছে এক পরিবারের। সাতক্ষীরায় আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের প্রস্তুতি সভা তালায় ১৯টি দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতা ও তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ মো. রেজাউল ইসলাম রেজা তামাকমুক্ত সাতক্ষীরা পৌরসভা গড়তে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্যসেবায় যত্নের ছোঁয়া: সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে সার্ভিস উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত

আপত্তিকর ভিডিও বিতর্ক বহিষ্কার হলেন গাজী নজরুল, এমপি পদ কি থাকবে?

নৈতিক  স্খলনের অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

তিনি জানান, রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারার আওতায় তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

এছাড়া, গাজী নজরুল ইসলামের বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত দুই দিন ধরে মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। এরই মধ্যে নিজ নির্বাচনী এলাকায় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ঝাড়ু মিছিল, বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনাও ঘটেছে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাহলে কি তার সংসদ সদস্য পদও কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে?

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকের উল্লাহ বলেন, শুধুমাত্র কোনও ভিডিও ভাইরাল হওয়া, নৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হওয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার কারণে একজন সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হওয়ার কোনও সাংবিধানিক বিধান নেই।
তিনি জানান, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনও সংসদ সদস্য তখনই সদস্যপদ হারান, যদি তিনি নিজ দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেন। এছাড়া ফৌজদারি মামলায় এমন দণ্ডিত হলে, যা সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাকে সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য করে তোলে, সেক্ষেত্রে নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে।

সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার প্রশ্ন দেখা দিলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
অর্থাৎ, জামায়াত যদি গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারও করেছে, শুধু সেই কারণেই তার সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না। তবে তিনি যদি নিজে দল থেকে পদত্যাগ করেন বা আইনি কারণে অযোগ্য ঘোষিত হন, তখন সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী তার সদস্য পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

দলীয় একটি সূত্র জানায়, জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নৈতিক স্খলন বা সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হলে প্রথমে সদস্যপদ বাতিল এবং পরবর্তীতে চূড়ান্ত বহিষ্কারের বিধান রয়েছে।

অন্যদিকে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন,  তিনি যদি সত্যিই অপরাধ করে থাকেন, তাহলে আদালত বিষয়টি দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম যদি নিজেই দল থেকে পদত্যাগ করেন, তাহলে তার আসন শূন্য হবে এবং সে ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

যশোরের শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৮টি স্বর্ণের বার সহ ১ জন আটক।

আপত্তিকর ভিডিও বিতর্ক বহিষ্কার হলেন গাজী নজরুল, এমপি পদ কি থাকবে?

আপডেট সময়: ১১:৩৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

নৈতিক  স্খলনের অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

তিনি জানান, রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারার আওতায় তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

এছাড়া, গাজী নজরুল ইসলামের বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত দুই দিন ধরে মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। এরই মধ্যে নিজ নির্বাচনী এলাকায় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ঝাড়ু মিছিল, বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনাও ঘটেছে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাহলে কি তার সংসদ সদস্য পদও কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে?

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকের উল্লাহ বলেন, শুধুমাত্র কোনও ভিডিও ভাইরাল হওয়া, নৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হওয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার কারণে একজন সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হওয়ার কোনও সাংবিধানিক বিধান নেই।
তিনি জানান, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনও সংসদ সদস্য তখনই সদস্যপদ হারান, যদি তিনি নিজ দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেন। এছাড়া ফৌজদারি মামলায় এমন দণ্ডিত হলে, যা সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাকে সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য করে তোলে, সেক্ষেত্রে নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে।

সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার প্রশ্ন দেখা দিলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
অর্থাৎ, জামায়াত যদি গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারও করেছে, শুধু সেই কারণেই তার সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না। তবে তিনি যদি নিজে দল থেকে পদত্যাগ করেন বা আইনি কারণে অযোগ্য ঘোষিত হন, তখন সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী তার সদস্য পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

দলীয় একটি সূত্র জানায়, জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নৈতিক স্খলন বা সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হলে প্রথমে সদস্যপদ বাতিল এবং পরবর্তীতে চূড়ান্ত বহিষ্কারের বিধান রয়েছে।

অন্যদিকে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন,  তিনি যদি সত্যিই অপরাধ করে থাকেন, তাহলে আদালত বিষয়টি দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম যদি নিজেই দল থেকে পদত্যাগ করেন, তাহলে তার আসন শূন্য হবে এবং সে ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।