আজ ১২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
সামেকের রেডিওলজিতে রসিদ ছাড়াই টাকা আদায় বৃহস্পতিবারের মধ্যেই আসতে পারে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ হাসনাত আবদুল্লাহর দেবহাটায় বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ,নিহত-১ কেশবপুরে চালু লাইনে কাজ, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লেবার ঢাকায় সাতক্ষীরা জেলার বিশেষ তদারকির দায়িত্ব পাওয়ায় আইনমন্ত্রীকে অভিনন্দন বেতনার তীরে ০৭০৯-এর বৃক্ষরোপণ, নদী ও পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ ডুমুরিয়ায় এমপি আলি আসগর লবির রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় ৫৬ বছরের শাহিদা নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার

সামেকের রেডিওলজিতে রসিদ ছাড়াই টাকা আদায়

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"adjust":2},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

স্বল্প খরচে চিকিৎসা পাওয়ার আশায় প্রতিদিন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ (সামেক) হাসপাতালে ভিড় করেন জেলার প্রত্যন্ত এলাকার হাজারো মানুষ। অথচ সেই সরকারি সেবাকেন্দ্রেই রোগীদের কাছ থেকে সরকারি রসিদ ছাড়াই টাকা আদায়, দালালদের দৌরাত্ম্য এবং রাজস্ব ফাঁকির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ করে সামেক হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগকে ঘিরে গড়ে ওঠা কথিত অর্থ আদায়ের সিন্ডিকেট নিয়ে উঠেছে বিস্তর প্রশ্ন। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইনচার্জ) আব্দুল হালিম। ২০১৭ সালে সামেক হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে সরকারি সেবাকে ঘিরে অনিয়মের সুযোগ তৈরি করে আসছেন।

গত সোমবার দুপুরে সামেক হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে সরকারি নিয়মের বাইরে অর্থ আদায়ের অভিযোগের দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়।

দেবহাটা উপজেলার হাড়দহা এলাকা থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রাশিদা নামের এক রোগী সিটি স্ক্যান করানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ইনচার্জ আব্দুল হালিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কামরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে সিটি স্ক্যানের জন্য সরকারি রসিদ ছাড়াই ২ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করেন।

টাকা নেওয়ার বিনিময়ে সরকারি বিল বা চালানের পরিবর্তে দেওয়া হয় একটি সাদা টোকেন। সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকা অর্থ এভাবে কার নির্দেশে এবং কোন নিয়মে নেওয়া হচ্ছে এপ্রশ্নের মুখে পড়লে কামরুল ইসলাম কোনো সদুত্তর না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অভিযোগ, নাকি নিয়মিত অর্থ আদায়ের একটি চিত্র তা তদন্তেই স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেডিওলজি বিভাগের অভিযোগের পাশাপাশি হাসপাতালের অন্যান্য সেবাতেও সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের অভিযোগ, নার্স ও আউটসোর্সিং কর্মীদের মাধ্যমে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করিয়ে ৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

কেন সরকারি রসিদ ছাড়া টাকা নেওয়া হচ্ছে এ প্রশ্ন করা হলে কর্তব্যরত এক নার্স দাবি করেন, তারা বৈধ প্রক্রিয়াতেই টাকা নিচ্ছেন। তবে সেই দাবির পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সরকারি রসিদ বা লিখিত নির্দেশনা দেখাতে পারেননি তিনি। বরং বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করার জন্য ‘যাকে খুশি’ তাকে জানাতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন ওই নার্স।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশে টাকা নেওয়া হচ্ছে এমন দাবিও করেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, যদি টাকা আদায় বৈধই হয়, তাহলে রোগীকে সরকারি রসিদ দেওয়া হচ্ছে না কেন?

 

স্থানীয় সেবাগ্রহীতা ও একাধিক সূত্রের অভিযোগ, প্রতিদিন দুপুরের পর রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরীক্ষার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটে। সরকারি নির্ধারিত ফি’র বিপরীতে অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে চালান বা সরকারি রসিদ ব্যবহারের পরিবর্তে কথিত টোকেন কিংবা নগদ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

আরও গুরুতর অভিযোগ হলো এভাবে আদায় করা অর্থের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে সংশ্লিষ্ট চক্রের সদস্যদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়।

 

আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এবারই প্রথম নয় বলেও দাবি উঠেছে। এর আগে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অর্থনৈতিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, অতীতে অভিযোগ ওঠার পরও যদি কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হয়, তাহলে একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয় কীভাবে?

সরকারি হাসপাতালে রোগীর কাছ থেকে সরকারি রসিদ ছাড়া টাকা নেওয়া হয়ে থাকলে সেটি শুধু অনিয়ম নয় সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও রোগীর অধিকার নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ পেলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, গত কয়েক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা, সরকারি চালান ও রসিদের সঙ্গে আদায়কৃত অর্থের মিল পরীক্ষা এবং কথিত দালালচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা।

 

অভিযোগের বিষয়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইনচার্জ) মো. আব্দুল হালিম বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সঠিক নয় এবং বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালের প্রচলিত নিয়ম ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। কেউ সরকারি নিয়মের বাইরে রোগীর কাছ থেকে অর্থ আদায় করে থাকলে তার দায় ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই খোদা বলেন, সরকারি হাসপাতালে কোনো ধরনের অনিয়ম, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বা সরকারি রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। কেউ সরকারি নিয়মের বাইরে রোগীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকলে বা সরকারি রসিদ ছাড়া অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডকুমেন্টগুলো আমাকে পাঠান। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এখন দেখার বিষয় মন্ত্রীর এমন আশ্বাসের পর সামেক হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে কথিত অর্থ আদায়, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং দালালচক্রের অভিযোগের বিষয়ে সত্যিই কি নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হয়, নাকি অভিযোগের ফাইলও অন্য অনেক অভিযোগের মতোই চাপা পড়ে যায়।

সরকারি হাসপাতালের সেবা কোনো ব্যক্তি বা সিন্ডিকেটের ব্যক্তিগত আয়ের উৎস হতে পারে না। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, সরকারি রাজস্বের হিসাব নিরীক্ষা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

 

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

সামেকের রেডিওলজিতে রসিদ ছাড়াই টাকা আদায়

সামেকের রেডিওলজিতে রসিদ ছাড়াই টাকা আদায়

আপডেট সময়: ০২:৩১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

স্বল্প খরচে চিকিৎসা পাওয়ার আশায় প্রতিদিন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ (সামেক) হাসপাতালে ভিড় করেন জেলার প্রত্যন্ত এলাকার হাজারো মানুষ। অথচ সেই সরকারি সেবাকেন্দ্রেই রোগীদের কাছ থেকে সরকারি রসিদ ছাড়াই টাকা আদায়, দালালদের দৌরাত্ম্য এবং রাজস্ব ফাঁকির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ করে সামেক হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগকে ঘিরে গড়ে ওঠা কথিত অর্থ আদায়ের সিন্ডিকেট নিয়ে উঠেছে বিস্তর প্রশ্ন। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইনচার্জ) আব্দুল হালিম। ২০১৭ সালে সামেক হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে সরকারি সেবাকে ঘিরে অনিয়মের সুযোগ তৈরি করে আসছেন।

গত সোমবার দুপুরে সামেক হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে সরকারি নিয়মের বাইরে অর্থ আদায়ের অভিযোগের দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়।

দেবহাটা উপজেলার হাড়দহা এলাকা থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রাশিদা নামের এক রোগী সিটি স্ক্যান করানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ইনচার্জ আব্দুল হালিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কামরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে সিটি স্ক্যানের জন্য সরকারি রসিদ ছাড়াই ২ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করেন।

টাকা নেওয়ার বিনিময়ে সরকারি বিল বা চালানের পরিবর্তে দেওয়া হয় একটি সাদা টোকেন। সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকা অর্থ এভাবে কার নির্দেশে এবং কোন নিয়মে নেওয়া হচ্ছে এপ্রশ্নের মুখে পড়লে কামরুল ইসলাম কোনো সদুত্তর না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অভিযোগ, নাকি নিয়মিত অর্থ আদায়ের একটি চিত্র তা তদন্তেই স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেডিওলজি বিভাগের অভিযোগের পাশাপাশি হাসপাতালের অন্যান্য সেবাতেও সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের অভিযোগ, নার্স ও আউটসোর্সিং কর্মীদের মাধ্যমে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করিয়ে ৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

কেন সরকারি রসিদ ছাড়া টাকা নেওয়া হচ্ছে এ প্রশ্ন করা হলে কর্তব্যরত এক নার্স দাবি করেন, তারা বৈধ প্রক্রিয়াতেই টাকা নিচ্ছেন। তবে সেই দাবির পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সরকারি রসিদ বা লিখিত নির্দেশনা দেখাতে পারেননি তিনি। বরং বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করার জন্য ‘যাকে খুশি’ তাকে জানাতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন ওই নার্স।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশে টাকা নেওয়া হচ্ছে এমন দাবিও করেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, যদি টাকা আদায় বৈধই হয়, তাহলে রোগীকে সরকারি রসিদ দেওয়া হচ্ছে না কেন?

 

স্থানীয় সেবাগ্রহীতা ও একাধিক সূত্রের অভিযোগ, প্রতিদিন দুপুরের পর রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরীক্ষার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটে। সরকারি নির্ধারিত ফি’র বিপরীতে অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে চালান বা সরকারি রসিদ ব্যবহারের পরিবর্তে কথিত টোকেন কিংবা নগদ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

আরও গুরুতর অভিযোগ হলো এভাবে আদায় করা অর্থের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে সংশ্লিষ্ট চক্রের সদস্যদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়।

 

আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এবারই প্রথম নয় বলেও দাবি উঠেছে। এর আগে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অর্থনৈতিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, অতীতে অভিযোগ ওঠার পরও যদি কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হয়, তাহলে একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয় কীভাবে?

সরকারি হাসপাতালে রোগীর কাছ থেকে সরকারি রসিদ ছাড়া টাকা নেওয়া হয়ে থাকলে সেটি শুধু অনিয়ম নয় সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও রোগীর অধিকার নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ পেলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, গত কয়েক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা, সরকারি চালান ও রসিদের সঙ্গে আদায়কৃত অর্থের মিল পরীক্ষা এবং কথিত দালালচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা।

 

অভিযোগের বিষয়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইনচার্জ) মো. আব্দুল হালিম বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সঠিক নয় এবং বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালের প্রচলিত নিয়ম ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। কেউ সরকারি নিয়মের বাইরে রোগীর কাছ থেকে অর্থ আদায় করে থাকলে তার দায় ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই খোদা বলেন, সরকারি হাসপাতালে কোনো ধরনের অনিয়ম, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বা সরকারি রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। কেউ সরকারি নিয়মের বাইরে রোগীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকলে বা সরকারি রসিদ ছাড়া অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডকুমেন্টগুলো আমাকে পাঠান। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এখন দেখার বিষয় মন্ত্রীর এমন আশ্বাসের পর সামেক হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে কথিত অর্থ আদায়, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং দালালচক্রের অভিযোগের বিষয়ে সত্যিই কি নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হয়, নাকি অভিযোগের ফাইলও অন্য অনেক অভিযোগের মতোই চাপা পড়ে যায়।

সরকারি হাসপাতালের সেবা কোনো ব্যক্তি বা সিন্ডিকেটের ব্যক্তিগত আয়ের উৎস হতে পারে না। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, সরকারি রাজস্বের হিসাব নিরীক্ষা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।