আজ ০৬:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
দেবহাটায় অনিকেত আলাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪শ পরিবারে লিচুর চারা বিতরণ খর্ণিয়া হাইস্কুলে সভাপতি নির্বাচিত  মোজাহিদ কুলিয়া ভূমি অফিসে ঘুষের অভিযোগ: এক কর্মকর্তাকে ঘিরে বারবার একই প্রশ্ন, তদন্ত হবে কবে? আশাশুনিতে ২০০ ফুট সড়কেই ৩০–৪০ গর্ত, দ্রুত সংস্কারের দাবি শ্যামনগরে অপহরণের ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন কালিগঞ্জে রিপনকে ঘিরে তোলপাড়, আপত্তিকর অবস্থার ভিডিও ভাইরাল প্রেমের টানে সীমান্ত পাড়ি, দুই বছর ধরে কারাগারে বাদল বিনা চিকিৎসায় আর কারও মৃত্যু দেখতে চাই না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী এল নিনোর প্রভাবে ২০২৭ হতে পারে সবচেয়ে উষ্ণ বছর কাশিমাড়ি শ্রমিক লীগের হাসনাত হাসু’র অত্যাচারে ভূমি দস্যু চাঁদাবাজ নিপীড়ন থেকে রক্ষা পেতে মানববন্ধন

মফিজুর রহমানের ‘খুঁটির জোর’ কোথায়? একের পর এক অভিযোগের পরও কেন নেই দৃশ্যমান ব্যবস্থা

  • আরাফাত আলী,
  • আপডেট সময়: ১০:১৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ১১৬ বার পড়া হয়েছে

একের পর এক কর্মস্থলে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, তথ্য গোপন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ—তবুও প্রশাসনিকভাবে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা হয়নি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। ফলে স্থানীয়দের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—মফিজুর রহমানের খুঁটির জোর কোথায়?

অনুসন্ধানে দেখা যায়, পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে “অফিস খরচ” নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে ভিজিএফ চাল বিতরণ ও প্রকল্প তদারকিতে অনিয়ম নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসে।

পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দকৃত ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণ সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও দৃশ্যমান বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল কালিগঞ্জ উপজেলায় যোগদানের পরও অভিযোগের ধারা থামেনি। বর্তমানে তিনি কালিগঞ্জের পাশাপাশি দেবহাটা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দুই উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের একাংশের অভিযোগ, টিআর, কাবিখা, কাবিটাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিল ছাড়ের আগে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয়।

সম্প্রতি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সরকারি প্রকল্পের তথ্য চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে, অতীতে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের সময়ে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর খুব কাছের মানুষ বলে নিজেকে জাহির করতেন।

সেই সময়েও প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে থাকার পরও তিনি বারবার পার পেয়ে গেছেন।

সুশাসনকর্মী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মস্থলে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ ওঠার পরও যদি কার্যকর তদন্ত ও ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে।

স্থানীয়দের দাবি, মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অতীতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোরও পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

দেবহাটায় অনিকেত আলাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪শ পরিবারে লিচুর চারা বিতরণ

মফিজুর রহমানের ‘খুঁটির জোর’ কোথায়? একের পর এক অভিযোগের পরও কেন নেই দৃশ্যমান ব্যবস্থা

আপডেট সময়: ১০:১৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

একের পর এক কর্মস্থলে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, তথ্য গোপন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ—তবুও প্রশাসনিকভাবে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা হয়নি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। ফলে স্থানীয়দের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—মফিজুর রহমানের খুঁটির জোর কোথায়?

অনুসন্ধানে দেখা যায়, পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে “অফিস খরচ” নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে ভিজিএফ চাল বিতরণ ও প্রকল্প তদারকিতে অনিয়ম নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসে।

পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দকৃত ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণ সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও দৃশ্যমান বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল কালিগঞ্জ উপজেলায় যোগদানের পরও অভিযোগের ধারা থামেনি। বর্তমানে তিনি কালিগঞ্জের পাশাপাশি দেবহাটা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দুই উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের একাংশের অভিযোগ, টিআর, কাবিখা, কাবিটাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিল ছাড়ের আগে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয়।

সম্প্রতি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সরকারি প্রকল্পের তথ্য চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে, অতীতে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের সময়ে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর খুব কাছের মানুষ বলে নিজেকে জাহির করতেন।

সেই সময়েও প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে থাকার পরও তিনি বারবার পার পেয়ে গেছেন।

সুশাসনকর্মী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মস্থলে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ ওঠার পরও যদি কার্যকর তদন্ত ও ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে।

স্থানীয়দের দাবি, মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অতীতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোরও পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।