আজ ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
১৮০ দিনের মূল্যায়ন শেষে মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তনের আভাস শ্যামনগরের উপকূলীয় কৈখালী ভূমি অফিসে জরাজীর্ণ টিন সেটে চলছে দুই ইউনিয়নের ভূমি সেবা আশাশুনির তেতুলিয়া-টিকা সড়কের কোদালশাহ স্লুইস গেটে ধস,প্লাবনের শঙ্কায় ১০ গ্রামের মানুষ দেবহাটা-কালিগঞ্জে সরকারি বরাদ্দের টাকা গিলে খাচ্ছে পিআইও মফিজুর ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ’, মিরাজকে গিলক্রিস্ট ট্রলের ‘লর্ড শান্ত’ এখন সত্যিকারের ‘লর্ড’ সাতক্ষীরায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা, র‍্যালি মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণ সাতক্ষীরায় বল্লী ইউনিয়নে জমিজমা বিরোধের জেরে নারীসহ পরিবারের ওপর হামলায় থানায় লিখিত অভিযোগ চিকিৎসার আশ্বাসে তালায় এনে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় নারীসহ গ্রেপ্তার ২ শ্যামনগরের উপকূলে রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসী ধান রোপন করে প্রতিবাদ

মফিজুর রহমানের ‘খুঁটির জোর’ কোথায়? একের পর এক অভিযোগের পরও কেন নেই দৃশ্যমান ব্যবস্থা

  • আরাফাত আলী,
  • আপডেট সময়: ১০:১৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৯৮ বার পড়া হয়েছে

একের পর এক কর্মস্থলে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, তথ্য গোপন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ—তবুও প্রশাসনিকভাবে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা হয়নি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। ফলে স্থানীয়দের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—মফিজুর রহমানের খুঁটির জোর কোথায়?

অনুসন্ধানে দেখা যায়, পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে “অফিস খরচ” নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে ভিজিএফ চাল বিতরণ ও প্রকল্প তদারকিতে অনিয়ম নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসে।

পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দকৃত ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণ সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও দৃশ্যমান বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল কালিগঞ্জ উপজেলায় যোগদানের পরও অভিযোগের ধারা থামেনি। বর্তমানে তিনি কালিগঞ্জের পাশাপাশি দেবহাটা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দুই উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের একাংশের অভিযোগ, টিআর, কাবিখা, কাবিটাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিল ছাড়ের আগে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয়।

সম্প্রতি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সরকারি প্রকল্পের তথ্য চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে, অতীতে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের সময়ে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর খুব কাছের মানুষ বলে নিজেকে জাহির করতেন।

সেই সময়েও প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে থাকার পরও তিনি বারবার পার পেয়ে গেছেন।

সুশাসনকর্মী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মস্থলে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ ওঠার পরও যদি কার্যকর তদন্ত ও ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে।

স্থানীয়দের দাবি, মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অতীতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোরও পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

১৮০ দিনের মূল্যায়ন শেষে মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তনের আভাস

মফিজুর রহমানের ‘খুঁটির জোর’ কোথায়? একের পর এক অভিযোগের পরও কেন নেই দৃশ্যমান ব্যবস্থা

আপডেট সময়: ১০:১৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

একের পর এক কর্মস্থলে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, তথ্য গোপন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ—তবুও প্রশাসনিকভাবে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা হয়নি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। ফলে স্থানীয়দের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—মফিজুর রহমানের খুঁটির জোর কোথায়?

অনুসন্ধানে দেখা যায়, পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে “অফিস খরচ” নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে ভিজিএফ চাল বিতরণ ও প্রকল্প তদারকিতে অনিয়ম নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসে।

পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দকৃত ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণ সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও দৃশ্যমান বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল কালিগঞ্জ উপজেলায় যোগদানের পরও অভিযোগের ধারা থামেনি। বর্তমানে তিনি কালিগঞ্জের পাশাপাশি দেবহাটা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দুই উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের একাংশের অভিযোগ, টিআর, কাবিখা, কাবিটাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিল ছাড়ের আগে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয়।

সম্প্রতি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সরকারি প্রকল্পের তথ্য চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে, অতীতে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের সময়ে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর খুব কাছের মানুষ বলে নিজেকে জাহির করতেন।

সেই সময়েও প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে থাকার পরও তিনি বারবার পার পেয়ে গেছেন।

সুশাসনকর্মী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মস্থলে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ ওঠার পরও যদি কার্যকর তদন্ত ও ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে।

স্থানীয়দের দাবি, মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অতীতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোরও পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।