আজ ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
তীব্র গরমে লোডশেডিং, শেষ ভরসা বাঁশবাগান ভোমরা স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় আজ শুরু বৃত্তি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে ৮৫০২ শিক্ষার্থী শ্যামনগরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে বাধা, চাঁদাদাবি ও হুমকির অভিযোগ বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাতক্ষীরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত সাতক্ষীরায় নববর্ষের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এমপি না হয়েও শাখরা–কোমরপুর ব্রিজ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রাখলেন আব্দুর রউফ সাতক্ষীরায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উদযাপন শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও উপস্থিতিতি বাড়াতে প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগে মিড-ডে মিল সাতক্ষীরা স্কলার হাবের উদ্যোগে ইতালিতে স্কলারশিপে পড়ার সুযোগ

নির্বাচনী প্রচারণায় কী কী করতে পারবেন প্রার্থীরা

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৬:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০০ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইদিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা। প্রার্থীরা প্রচারণার জন্য সময় পাচ্ছেন ২০ দিন। অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার কার্যক্রম চালানো যাবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রার্থীরা প্রচারণায় কী করতে পারবেন এবং কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যা করতে পারবেন:

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীরা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবেন। জনসভা, পথসভা ও সমাবেশ আয়োজন করা যাবে। তবে সভা-সমাবেশের দিন, তারিখ ও সময় অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। একজন প্রার্থী তার নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। তবে কোনো বিলবোর্ডের দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট ও প্রস্থ ৯ ফুটের বেশি হতে পারবে না।

ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে, তবে সেগুলো হতে হবে সাদা-কালো। ব্যানারের সর্বোচ্চ মাপ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। লিফলেট বা হ্যান্ডবিল এ-ফোর আকারের বেশি নয় এবং ফেস্টুনের মাপ সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি।

প্রচারসামগ্রীতে প্রার্থীর প্রতীক ও নিজের পোর্ট্রেট ছবি ছাড়া অন্য কারও ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। প্রার্থীর ছবি সর্বোচ্চ ৬০ সেন্টিমিটার বাই ৪৫ সেন্টিমিটার হতে হবে। তবে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট বা প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চালাতে পারবেন। তবে প্রচার শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজ, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ সব তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।

যা করা যাবে না:

এবারের নির্বাচনে পোস্টার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে—যা দেশে প্রথমবারের মতো। কোনো প্রচারসামগ্রীতে পলিথিন বা রেক্সিন ব্যবহার করা যাবে না।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না।

সড়ক, মহাসড়ক বা জনপথে জনসভা বা পথসভা করলে ব্যবস্থা নেবে ইসি। বিদেশে প্রার্থীর পক্ষে কোনো সভা-সমাবেশ আয়োজনের সুযোগ নেই।

বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহন ব্যবহার করে মিছিল, শোডাউন বা জনসভা করা যাবে না। মশাল মিছিলও নিষিদ্ধ।

তোরণ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি বা প্রতীক ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কেউ হেলিকপ্টার বা আকাশযান ব্যবহার করতে পারবেন না।

এআই ও সামাজিক মাধ্যমে সতর্কতা:

অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা যাবে না। মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, অশ্লীল বা মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি বা শেয়ার করলে তা নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

শাস্তির বিধান:

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। দলের ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। গুরুতর ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতাও রয়েছে নির্বাচন কমিশনের হাতে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

তীব্র গরমে লোডশেডিং, শেষ ভরসা বাঁশবাগান

নির্বাচনী প্রচারণায় কী কী করতে পারবেন প্রার্থীরা

আপডেট সময়: ০৬:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইদিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা। প্রার্থীরা প্রচারণার জন্য সময় পাচ্ছেন ২০ দিন। অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার কার্যক্রম চালানো যাবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রার্থীরা প্রচারণায় কী করতে পারবেন এবং কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যা করতে পারবেন:

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীরা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবেন। জনসভা, পথসভা ও সমাবেশ আয়োজন করা যাবে। তবে সভা-সমাবেশের দিন, তারিখ ও সময় অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। একজন প্রার্থী তার নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। তবে কোনো বিলবোর্ডের দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট ও প্রস্থ ৯ ফুটের বেশি হতে পারবে না।

ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে, তবে সেগুলো হতে হবে সাদা-কালো। ব্যানারের সর্বোচ্চ মাপ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। লিফলেট বা হ্যান্ডবিল এ-ফোর আকারের বেশি নয় এবং ফেস্টুনের মাপ সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি।

প্রচারসামগ্রীতে প্রার্থীর প্রতীক ও নিজের পোর্ট্রেট ছবি ছাড়া অন্য কারও ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। প্রার্থীর ছবি সর্বোচ্চ ৬০ সেন্টিমিটার বাই ৪৫ সেন্টিমিটার হতে হবে। তবে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট বা প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চালাতে পারবেন। তবে প্রচার শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজ, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ সব তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।

যা করা যাবে না:

এবারের নির্বাচনে পোস্টার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে—যা দেশে প্রথমবারের মতো। কোনো প্রচারসামগ্রীতে পলিথিন বা রেক্সিন ব্যবহার করা যাবে না।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না।

সড়ক, মহাসড়ক বা জনপথে জনসভা বা পথসভা করলে ব্যবস্থা নেবে ইসি। বিদেশে প্রার্থীর পক্ষে কোনো সভা-সমাবেশ আয়োজনের সুযোগ নেই।

বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহন ব্যবহার করে মিছিল, শোডাউন বা জনসভা করা যাবে না। মশাল মিছিলও নিষিদ্ধ।

তোরণ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি বা প্রতীক ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কেউ হেলিকপ্টার বা আকাশযান ব্যবহার করতে পারবেন না।

এআই ও সামাজিক মাধ্যমে সতর্কতা:

অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা যাবে না। মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, অশ্লীল বা মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি বা শেয়ার করলে তা নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

শাস্তির বিধান:

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। দলের ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। গুরুতর ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতাও রয়েছে নির্বাচন কমিশনের হাতে।