আজ ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
‎ডুমুরিয়া হাসপাতালে একদিনে ৬ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি উপকূলীয় অঞ্চলে খাল পুনঃখননে উপকৃত হাজার হাজার কৃষক পরিবার সাতক্ষীরায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইটভাটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ মূল বেতন বাড়বে তিন ধাপে, ২০২৮ থেকে কার্যকর নতুন ভাতা ডুমুরিয়ার, চুকনগরে, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা সাতক্ষীরার আলিপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সামেকের রেডিওলজিতে রসিদ ছাড়াই টাকা আদায় বৃহস্পতিবারের মধ্যেই আসতে পারে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ হাসনাত আবদুল্লাহর দেবহাটায় বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ,নিহত-১

দুই ব্যবসায়ীর ডলার কেলেঙ্কারির অভিযোগে তোলপাড় সাতক্ষীরা,তদন্তের দাবি জোরালো

  • আরাফাত আলী,
  • আপডেট সময়: ০৮:১৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ২২৫ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা শহরে ডলার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে কথিত ডলার বাণিজ্য চক্র। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হলেও প্রতিশ্রুত ডলার বা অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।

এ ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পূর্বে প্রকাশিত অভিযোগের পর আরও কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ভুক্তভোগী দাবি করে যোগাযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, একই কৌশলে কম দামে ডলার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকেও লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে ভয়ে কিংবা সামাজিক কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে আসতে চান না।

এদিকে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নাজির খাজা সাহাবুদ্দিন পুনরায় দাবি করেছেন, ২০ হাজার ডলার দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে নেওয়া ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, দুই বছর ধরে আমি শুধু আশ্বাসই শুনছি টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য বহুবার যোগাযোগ করেছি কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং অন্য ভুক্তভোগীদেরও সামনে এসে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান।

অন্যদিকে অভিযুক্ত আল-আমিন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এবং প্রিয় গোপাল বস্ত্র বিপণীর স্বত্বাধিকারী সত্যজিৎ ঘোষ আগের মতোই একে অপরের বিরুদ্ধে দোষ চাপিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। উভয়েই বলেন, খাজা সাহাবুদ্দিনের পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে সেই দাবির পক্ষে কোনো লিখিত প্রমাণ বা গ্রহণযোগ্য নথি দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়ে খাজা সাহাবুদ্দিন বলেন, তারা টাকা পরিশোধের যে দাবি করছেন সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার পাওনা টাকার এক টাকাও আমি পাইনি। প্রয়োজনে আদালতে সব কাগজপত্র উপস্থাপন করব।

আইনজীবীদের মতে ডলার কেনাবেচার নামে অর্থ গ্রহণ করে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডলার বা টাকা ফেরত না দিলে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা আইনের লঙ্ঘনের বিষয় হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্তকারী সংস্থা ও আদালত।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি শুধু একজন বা দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এর সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। তাই তারা দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

‎ডুমুরিয়া হাসপাতালে একদিনে ৬ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি

দুই ব্যবসায়ীর ডলার কেলেঙ্কারির অভিযোগে তোলপাড় সাতক্ষীরা,তদন্তের দাবি জোরালো

আপডেট সময়: ০৮:১৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরা শহরে ডলার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে কথিত ডলার বাণিজ্য চক্র। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হলেও প্রতিশ্রুত ডলার বা অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।

এ ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পূর্বে প্রকাশিত অভিযোগের পর আরও কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ভুক্তভোগী দাবি করে যোগাযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, একই কৌশলে কম দামে ডলার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকেও লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে ভয়ে কিংবা সামাজিক কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে আসতে চান না।

এদিকে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নাজির খাজা সাহাবুদ্দিন পুনরায় দাবি করেছেন, ২০ হাজার ডলার দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে নেওয়া ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, দুই বছর ধরে আমি শুধু আশ্বাসই শুনছি টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য বহুবার যোগাযোগ করেছি কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং অন্য ভুক্তভোগীদেরও সামনে এসে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান।

অন্যদিকে অভিযুক্ত আল-আমিন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এবং প্রিয় গোপাল বস্ত্র বিপণীর স্বত্বাধিকারী সত্যজিৎ ঘোষ আগের মতোই একে অপরের বিরুদ্ধে দোষ চাপিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। উভয়েই বলেন, খাজা সাহাবুদ্দিনের পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে সেই দাবির পক্ষে কোনো লিখিত প্রমাণ বা গ্রহণযোগ্য নথি দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়ে খাজা সাহাবুদ্দিন বলেন, তারা টাকা পরিশোধের যে দাবি করছেন সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার পাওনা টাকার এক টাকাও আমি পাইনি। প্রয়োজনে আদালতে সব কাগজপত্র উপস্থাপন করব।

আইনজীবীদের মতে ডলার কেনাবেচার নামে অর্থ গ্রহণ করে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডলার বা টাকা ফেরত না দিলে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা আইনের লঙ্ঘনের বিষয় হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্তকারী সংস্থা ও আদালত।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি শুধু একজন বা দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এর সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। তাই তারা দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।