সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি ইটভাটা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে দায়ের হওয়া একাধিক মামলাসহ শিশু হত্যা ও নাশকতা মামলার আসামি গোলাম রব্বানী এবং তার ভাই রকিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ইটভাটার মালিকপক্ষ।
দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের পুষ্পকাটি গ্রামের সরদার বাড়ি মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স বিসমিল্লাহ ব্রিকস’-এর মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট দুপুরে গোলাম রব্বানী ও তার অনুসারীরা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে ইট ভাটাটি দখলের চেষ্টা করেন। তবে তাদের ওই প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। এ উদ্দেশ্যে রকিব সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে অপর পক্ষ। তবে এ বিষয়ে রকিবের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা
ইটভাটাটির দখল ও মালিকানা নিয়ে দায়ের করা মামলায় বাদীপক্ষের অনুকূলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। আদেশে মেসার্স বিসমিল্লাহ ব্রিকসের প্রোপাইটর মো. আব্দুর রবকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ না করা এবং তার শান্তিপূর্ণ দখল বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৪(ক) ও ১৫১ ধারার বিধান অনুসারে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের দাবি
মামলার নথি অনুযায়ী, বিবাদীপক্ষ ইটভাটাটি যৌথ বিনিয়োগ ও মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেছে। এ দাবির পক্ষে তারা নোটারিকৃত চুক্তিপত্র ও হলফনামা আদালতে উপস্থাপন করেন।
অন্যদিকে বাদী মো. আব্দুর রব এসব নথির বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তার দাবি, কথিত চুক্তিপত্রে তার কোনো স্বাক্ষর নেই এবং উপস্থাপিত দলিলগুলো ভিত্তিহীন এবং বিবাদীপক্ষ তাকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি এবং পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।
শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনার সময় আদালতের পর্যবেক্ষণে কথিত কিছু কাগজপত্র মামলা দায়েরের আশপাশের সময়ে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিবাদীদের উপস্থাপিত নথিতে তারা ইটভাটার বৈধ অংশীদার—এমন সুস্পষ্ট লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
পরবর্তী শুনানির অপেক্ষায় মামলা
মামলার নথি, বাদীপক্ষের প্রাথমিক দাবি, সম্ভাব্য অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে পূর্বের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাতিল করা হয়।
এ ছাড়া দেবহাটা থানার ওসিকে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে পরবর্তী নির্ধারিত তারিখের মধ্যে ‘পরিপালন প্রতিবেদন’ দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলাটিতে ১ থেকে ৩ নম্বর বিবাদীর লিখিত জবাবের ওপর শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, ইটভাটার মালিক মো. আব্দুর রব তার প্রতিষ্ঠান ও দখল রক্ষায় সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তির মাধ্যমে আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত গোলাম রব্বানী ও রকিবের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 











