খুলনার ফুলতলা উপজেলায় দেশীয় অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবাসহ যশোর জেলা পুলিশের এক কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করেছে ফুলতলা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশ সদস্যের নাম সৌরভ হোসেন। তিনি যশোর জেলা পুলিশে কর্মরত বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফুলতলা উপজেলার জামিরা ইউনিয়নের জামিরা গ্রামের বিল্লালের বাড়ির সামনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন ফুলতলা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিউজ্জামান। অভিযানের সময় মোটরসাইকেলে অবস্থানরত সৌরভ হোসেনকে তল্লাশি করে একটি দেশীয় শর্টগান, চার রাউন্ড সিসা গুলি এবং ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় সৌরভের সঙ্গে আরও কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, অনুসন্ধানে জানা গেছে যে গ্রেপ্তার হওয়া কনস্টেবল সৌরভ হোসেনের সঙ্গে যশোর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) নুর ইসলামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে সৌরভকে সহযোগিতা করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই নুর ইসলাম বলেন, তিনি শুনেছেন সৌরভ অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ আটক হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, “সৌরভ বেশ কয়েক মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত (গড় হাজির) ছিল। বিষয়টি আমি জেলা পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। সেই ক্ষোভ থেকে হয়তো সে আমার নাম বলতে পারে। তবে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মারগুব তৌহিদ বলেন, “সৌরভ নামে এক ব্যক্তিকে অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ আটক করা হয়েছে। তিনি যশোর জেলা পুলিশের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া সৌরভ হোসেনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত পলাতক ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কর্মরত এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরাফাত আলী, 






















