আজ ০৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
ভোমরার হালিম মাস্টারের বিরুদ্ধে মাদক সাম্রাজ্য গড়ার অভিযোগ আশাশুনিতে জলবায়ু সহনশীল উপকূল গড়তে লিডার্সের  উন্নয়ন প্রশিক্ষণ  আশাশুনিতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘরে ঢুকে নারীদের মারপিট  অনিয়ম-দুর্নীতির গ্যাড়াকলে বিপর্যস্ত নলতা আহছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজ সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের ‘বিকৃত প্রচারের’ অভিযোগ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস কালিগঞ্জে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলচেষ্টাও হামলা রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কোথায়? এক মাসের মধ্যে শাখরা-কোমরপুর সেতুর সংস্কারকাজ শুরুর ঘোষণা দিলেন আব্দুর রউফ উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়

ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ, এসিল্যান্ড রাশেদের বাবার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৫:১৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৯৩ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় কর্মরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও নানা প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত ১৮ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তার বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাসিন্দা মো. জাবেদ আলম। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, রাশেদ হোসাইন ২০২১ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সাধারণ জমির মালিকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে আসছেন। অভিযোগকারীর দাবি, শ্যামনগর ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় প্রায় সাত শতাংশ জমির ওপর কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ছয়তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, ভবনটি পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাশেদ হোসাইনের নামে ও বেনামে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জমি ও সম্পত্তি রয়েছে, যা তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মোতালেব বলেন, শফিপুর এলাকায় প্রায় সাত শতাংশ জমির ওপর একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণের বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। তবে পৌরসভা থেকে এ জন্য কোনো ধরনের অনুমোদন বা প্ল্যান পাস নেওয়া হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাশেদ হোসাইন নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে দাবি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে একই উপজেলায় দীর্ঘদিন কর্মরত রয়েছেন। তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, তাঁর পিতা প্রকৃতপক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন তাঁরা। কালিয়াকৈর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আক্তার হোসেন বলেন, সফিপুর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল হোসেন (পিতা ইসহাক) নামে কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে আমি চিনি না।” একই এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আহাদ আলী বলেন, “এখানে বাইরে থেকে এসে অনেকেই বসবাস করেন। এই নামে কোনো মুক্তিযোদ্ধা আছেন কি না, নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অবৈধ অর্থের মাধ্যমে রাশেদ হোসাইন নিজ পৈত্রিক সম্পত্তির পাশাপাশি এলাকার এক প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখল করেন এবং সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাবে তারা প্রতিবাদ করতে পারছেন না। অভিযোগকারী মো. জাবেদ আলম বলেন, রাশেদ হোসাইনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। এলাকাবাসী নিরুপায় হয়ে আমাকে দিয়ে অভিযোগ করিয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা চাই। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, শ্যামনগর ভূমি অফিসে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের দাবি, টাকা ছাড়া নামজারি, খারিজ কিংবা মিসকেস-সংক্রান্ত কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘুষ দেওয়ার পরও কাজ না হওয়া, নথিপত্র গায়েব হওয়া এবং জাল দলিলের মাধ্যমে জমি অন্যের নামে নামজারি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন বলেন, বাড়িটি পারিবারিকভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে পরিবারের সবার অর্থ রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান। অভিযোগকারীদের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে এবং ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

ভোমরার হালিম মাস্টারের বিরুদ্ধে মাদক সাম্রাজ্য গড়ার অভিযোগ

ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ, এসিল্যান্ড রাশেদের বাবার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন

আপডেট সময়: ০৫:১৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় কর্মরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও নানা প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত ১৮ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তার বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাসিন্দা মো. জাবেদ আলম। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, রাশেদ হোসাইন ২০২১ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সাধারণ জমির মালিকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে আসছেন। অভিযোগকারীর দাবি, শ্যামনগর ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় প্রায় সাত শতাংশ জমির ওপর কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ছয়তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, ভবনটি পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাশেদ হোসাইনের নামে ও বেনামে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জমি ও সম্পত্তি রয়েছে, যা তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মোতালেব বলেন, শফিপুর এলাকায় প্রায় সাত শতাংশ জমির ওপর একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণের বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। তবে পৌরসভা থেকে এ জন্য কোনো ধরনের অনুমোদন বা প্ল্যান পাস নেওয়া হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাশেদ হোসাইন নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে দাবি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে একই উপজেলায় দীর্ঘদিন কর্মরত রয়েছেন। তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, তাঁর পিতা প্রকৃতপক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন তাঁরা। কালিয়াকৈর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আক্তার হোসেন বলেন, সফিপুর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল হোসেন (পিতা ইসহাক) নামে কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে আমি চিনি না।” একই এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আহাদ আলী বলেন, “এখানে বাইরে থেকে এসে অনেকেই বসবাস করেন। এই নামে কোনো মুক্তিযোদ্ধা আছেন কি না, নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অবৈধ অর্থের মাধ্যমে রাশেদ হোসাইন নিজ পৈত্রিক সম্পত্তির পাশাপাশি এলাকার এক প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখল করেন এবং সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাবে তারা প্রতিবাদ করতে পারছেন না। অভিযোগকারী মো. জাবেদ আলম বলেন, রাশেদ হোসাইনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। এলাকাবাসী নিরুপায় হয়ে আমাকে দিয়ে অভিযোগ করিয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা চাই। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, শ্যামনগর ভূমি অফিসে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের দাবি, টাকা ছাড়া নামজারি, খারিজ কিংবা মিসকেস-সংক্রান্ত কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘুষ দেওয়ার পরও কাজ না হওয়া, নথিপত্র গায়েব হওয়া এবং জাল দলিলের মাধ্যমে জমি অন্যের নামে নামজারি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন বলেন, বাড়িটি পারিবারিকভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে পরিবারের সবার অর্থ রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান। অভিযোগকারীদের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে এবং ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।