আজ ১০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
ভোমরার হালিম মাস্টারের বিরুদ্ধে মাদক সাম্রাজ্য গড়ার অভিযোগ আশাশুনিতে জলবায়ু সহনশীল উপকূল গড়তে লিডার্সের  উন্নয়ন প্রশিক্ষণ  আশাশুনিতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘরে ঢুকে নারীদের মারপিট  অনিয়ম-দুর্নীতির গ্যাড়াকলে বিপর্যস্ত নলতা আহছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজ সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের ‘বিকৃত প্রচারের’ অভিযোগ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস কালিগঞ্জে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলচেষ্টাও হামলা রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কোথায়? এক মাসের মধ্যে শাখরা-কোমরপুর সেতুর সংস্কারকাজ শুরুর ঘোষণা দিলেন আব্দুর রউফ উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়

কালিগঞ্জে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলচেষ্টাও হামলা রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কোথায়?

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০২:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • ১০৪ বার পড়া হয়েছে

 

স্টাফ রিপোর্টার :সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারুলগাছা গ্রামের একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের খরিদকৃত জমি জবরদখলের চেষ্টা, ফসল নষ্ট, বসতঘেরা ভাঙচুর, নারী-শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা এবং ভারত চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রোকনুজ্জামান রোকনসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের পর এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও প্রশাসনিক কিংবা দলীয় কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে সংখ্যালঘু পরিবারটির জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি জমি ছেড়ে না দিলে প্রাণনাশ, সম্পত্তি জবরদখল এবং ভারত চলে যেতে বাধ্য করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগকারী জগবন্ধু দাস (৬৭) জানান, তিনি ও তার স্বজনরা ২০১৩ সালে দানপত্র দলিলের মাধ্যমে চাঁচাই মৌজার ৫৩ শতক জমি বৈধভাবে নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি ও মিউটেশন সম্পন্ন করেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল করে এলেও একটি প্রভাবশালী মহল তা দখলের চেষ্টা করে আসছে।

এ নিয়ে গত ২১ এপ্রিল কালিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১০৮৮) করা হলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৬ জুন ভোরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে ঘেরাবেড়া ভাঙচুর এবং রোপণকৃত ফসল নষ্ট করে। এতে প্রায় ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একই দিন সকালে অভিযুক্তরা পুনরায় জমিতে প্রবেশ করে পাওয়ার ট্রিলার দিয়ে জমি চাষ শুরু করে। বাধা দিতে গেলে শাহানারা খাতুন (৬৫) ও সাদিকা (১২)-কে মারধর করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। হামলার সময় শাহানারা খাতুনের গলায় থাকা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকে মারধর এবং একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তরা সংখ্যালঘু পরিবারটিকে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রকাশ্যে চাপ সৃষ্টি করছে এবং “ভারতে চলে যাও” বলে হুমকি দিচ্ছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

এ ঘটনায় রেজাউল করিম, রাজ্জাক ঢালী, ইয়াছিন আলী ঢালী, রশিদ ঢালী, তামিম হোসেন, তাসলিমা খাতুন, কাকুলী, জাহাঙ্গীর ঢালী, নীলা রানী দাস, ফিরোজা খাতুন, ইদ্রিস আলী ঢালী, রবিউল ইসলাম কটু, আবু রায়হান ও আয়েশা সিদ্দিকীয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এদিকে, অভিযোগটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। অন্যদিকে, জেলা কৃষক দল গত ১৮ জুন রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করলেও এখন পর্যন্ত সেই নোটিশের কোনো ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।এবিষয়ে জানতে উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের প্রশ্ন, সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল, হামলা ও দেশত্যাগের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কেন নীরব প্রশাসন? দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগের পরও কেন দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই? নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সব অভিযোগই ধামাচাপা পড়ে যাবে?

ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা এবং তাদের জীবন-সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

ভোমরার হালিম মাস্টারের বিরুদ্ধে মাদক সাম্রাজ্য গড়ার অভিযোগ

কালিগঞ্জে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলচেষ্টাও হামলা রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কোথায়?

আপডেট সময়: ০২:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

 

স্টাফ রিপোর্টার :সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারুলগাছা গ্রামের একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের খরিদকৃত জমি জবরদখলের চেষ্টা, ফসল নষ্ট, বসতঘেরা ভাঙচুর, নারী-শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা এবং ভারত চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রোকনুজ্জামান রোকনসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের পর এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও প্রশাসনিক কিংবা দলীয় কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে সংখ্যালঘু পরিবারটির জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি জমি ছেড়ে না দিলে প্রাণনাশ, সম্পত্তি জবরদখল এবং ভারত চলে যেতে বাধ্য করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগকারী জগবন্ধু দাস (৬৭) জানান, তিনি ও তার স্বজনরা ২০১৩ সালে দানপত্র দলিলের মাধ্যমে চাঁচাই মৌজার ৫৩ শতক জমি বৈধভাবে নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি ও মিউটেশন সম্পন্ন করেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল করে এলেও একটি প্রভাবশালী মহল তা দখলের চেষ্টা করে আসছে।

এ নিয়ে গত ২১ এপ্রিল কালিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১০৮৮) করা হলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৬ জুন ভোরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে ঘেরাবেড়া ভাঙচুর এবং রোপণকৃত ফসল নষ্ট করে। এতে প্রায় ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একই দিন সকালে অভিযুক্তরা পুনরায় জমিতে প্রবেশ করে পাওয়ার ট্রিলার দিয়ে জমি চাষ শুরু করে। বাধা দিতে গেলে শাহানারা খাতুন (৬৫) ও সাদিকা (১২)-কে মারধর করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। হামলার সময় শাহানারা খাতুনের গলায় থাকা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকে মারধর এবং একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তরা সংখ্যালঘু পরিবারটিকে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রকাশ্যে চাপ সৃষ্টি করছে এবং “ভারতে চলে যাও” বলে হুমকি দিচ্ছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

এ ঘটনায় রেজাউল করিম, রাজ্জাক ঢালী, ইয়াছিন আলী ঢালী, রশিদ ঢালী, তামিম হোসেন, তাসলিমা খাতুন, কাকুলী, জাহাঙ্গীর ঢালী, নীলা রানী দাস, ফিরোজা খাতুন, ইদ্রিস আলী ঢালী, রবিউল ইসলাম কটু, আবু রায়হান ও আয়েশা সিদ্দিকীয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এদিকে, অভিযোগটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। অন্যদিকে, জেলা কৃষক দল গত ১৮ জুন রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করলেও এখন পর্যন্ত সেই নোটিশের কোনো ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।এবিষয়ে জানতে উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের প্রশ্ন, সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল, হামলা ও দেশত্যাগের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কেন নীরব প্রশাসন? দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগের পরও কেন দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই? নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সব অভিযোগই ধামাচাপা পড়ে যাবে?

ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা এবং তাদের জীবন-সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।