আজ ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
১৮০ দিনের মূল্যায়ন শেষে মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তনের আভাস শ্যামনগরের উপকূলীয় কৈখালী ভূমি অফিসে জরাজীর্ণ টিন সেটে চলছে দুই ইউনিয়নের ভূমি সেবা আশাশুনির তেতুলিয়া-টিকা সড়কের কোদালশাহ স্লুইস গেটে ধস,প্লাবনের শঙ্কায় ১০ গ্রামের মানুষ দেবহাটা-কালিগঞ্জে সরকারি বরাদ্দের টাকা গিলে খাচ্ছে পিআইও মফিজুর ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ’, মিরাজকে গিলক্রিস্ট ট্রলের ‘লর্ড শান্ত’ এখন সত্যিকারের ‘লর্ড’ সাতক্ষীরায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা, র‍্যালি মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণ সাতক্ষীরায় বল্লী ইউনিয়নে জমিজমা বিরোধের জেরে নারীসহ পরিবারের ওপর হামলায় থানায় লিখিত অভিযোগ চিকিৎসার আশ্বাসে তালায় এনে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় নারীসহ গ্রেপ্তার ২ শ্যামনগরের উপকূলে রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসী ধান রোপন করে প্রতিবাদ

‘গরুর স্কুল’ তকমায় কালিগঞ্জের সোনাটিকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী এখন ২৪ জন

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৫:২১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ১৪২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সোনাটিকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিয়মিত গরু-ছাগল বেঁধে রাখা, গোবর ও আবর্জনা ফেলা এবং পয়োনিষ্কাশনের উন্মুক্ত ড্রেন তৈরির কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী কমতে কমতে বর্তমানে মাত্র ২৪ জনে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। বিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনিক ও পুলিশি হস্তক্ষেপ চেয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর চিঠি দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পরিদর্শন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার একাধিক পরিদর্শন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম নিয়মিত বিদ্যালয়ের সামনে গরু-ছাগল বেঁধে রাখেন। পাশাপাশি মাঠে গোবর, খড়কুটা, গাছের পাতা ও পরিত্যক্ত আসবাবপত্র ফেলে রাখেন। এমনকি তাঁর বাড়ির পয়োনিষ্কাশনের জন্য বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে উন্মুক্ত ড্রেন তৈরি করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নোংরা হয়ে পড়ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষকরা একাধিকবার নিষেধ করলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও পরিদর্শনের সময় তাঁকে সতর্ক করলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরেজমিনে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকার অনেক সচেতন অভিভাবক বিদ্যালয়টিকে ‘গরুর স্কুল’ বলে অভিহিত করেন। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে তাঁরা সন্তানদের ওই বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে আগ্রহী নন। এর প্রভাবেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে বর্তমানে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়সংলগ্ন কয়েকজন বাসিন্দার বাঁশঝাড় বিদ্যালয় ভবন ও শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। শিক্ষকরা বাঁশঝাড় অপসারণের অনুরোধ জানালেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাতে সাড়া দেননি। চিঠিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস উল্লেখ করেছেন, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশি সহায়তা প্রয়োজন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামসহ অন্যদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

১৮০ দিনের মূল্যায়ন শেষে মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তনের আভাস

‘গরুর স্কুল’ তকমায় কালিগঞ্জের সোনাটিকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী এখন ২৪ জন

আপডেট সময়: ০৫:২১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সোনাটিকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিয়মিত গরু-ছাগল বেঁধে রাখা, গোবর ও আবর্জনা ফেলা এবং পয়োনিষ্কাশনের উন্মুক্ত ড্রেন তৈরির কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী কমতে কমতে বর্তমানে মাত্র ২৪ জনে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। বিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনিক ও পুলিশি হস্তক্ষেপ চেয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর চিঠি দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পরিদর্শন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার একাধিক পরিদর্শন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম নিয়মিত বিদ্যালয়ের সামনে গরু-ছাগল বেঁধে রাখেন। পাশাপাশি মাঠে গোবর, খড়কুটা, গাছের পাতা ও পরিত্যক্ত আসবাবপত্র ফেলে রাখেন। এমনকি তাঁর বাড়ির পয়োনিষ্কাশনের জন্য বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে উন্মুক্ত ড্রেন তৈরি করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নোংরা হয়ে পড়ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষকরা একাধিকবার নিষেধ করলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও পরিদর্শনের সময় তাঁকে সতর্ক করলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরেজমিনে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকার অনেক সচেতন অভিভাবক বিদ্যালয়টিকে ‘গরুর স্কুল’ বলে অভিহিত করেন। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে তাঁরা সন্তানদের ওই বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে আগ্রহী নন। এর প্রভাবেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে বর্তমানে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়সংলগ্ন কয়েকজন বাসিন্দার বাঁশঝাড় বিদ্যালয় ভবন ও শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। শিক্ষকরা বাঁশঝাড় অপসারণের অনুরোধ জানালেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাতে সাড়া দেননি। চিঠিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস উল্লেখ করেছেন, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশি সহায়তা প্রয়োজন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামসহ অন্যদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।