আজ ১২:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
বেসরকারি শিক্ষকদের উৎসব ভাতা শতভাগ করার আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর দেবহাটায় অক্সিজেন সংকটে মৎস্য ঘেরে মাছ নিধন, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী সাতক্ষীরায় হযরত বিলাল (রাঃ) জামে মসজিদে শিশুদের কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম চালু ভারতে ৩–৭ বছর আশ্রিত থাকার পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফিরল ২৮ বাংলাদেশি শিশু না ফেরার দেশে অস্কারজয়ী অভিনেতা রবার্ট ডুভল সাতক্ষীরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের নির্দেশ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেন আব্দুর রউফ সাতক্ষীরার উন্নয়নে প্রতিটি কাজ দায়িত্বশীলতার সাথে করবো: মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক গণভোটে জনগণ সংস্কার ও পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে : আলী রীয়াজ সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটাবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানালেন আব্দুর রউফ

ভারতে ৩–৭ বছর আশ্রিত থাকার পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফিরল ২৮ বাংলাদেশি শিশু

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৩:২৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শেল্টার হোমে ৩ থেকে ৭ বছর আশ্রিত থাকার পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছে ২৮ বাংলাদেশি শিশু। ফেরত আসা এসব শিশুর বয়স ৮ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। তাদের অধিকাংশের পিতা অথবা মাতা বর্তমানে ভারতে কারাগারে সাজাভোগ করছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এসব শিশুকে বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং দুই দেশের মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ফেরত আসাদের মধ্যে ২০ জন ছেলে ও ৮ জন মেয়ে রয়েছে।

ফেরত আসা শিশুদের পরিবারের বাড়ি কুড়িগ্রাম, রংপুর, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, যশোর, বাগেরহাট, নড়াইল, নাটোর, কুমিল্লা, খুলনা ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকায়। বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, ভালো কাজের আশায় দালালদের মাধ্যমে এসব শিশু তাদের পিতা-মাতার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ভারতে যায়। পরে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে এবং পিতা-মাতাদের কারাগারে পাঠায়। আদালতের রায়ে পিতা-মাতাদের সাজা হলে শিশুদের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শেল্টার হোমে রাখা হয়। দীর্ঘ ৩ থেকে ৭ বছর সেখানে থাকার পর দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয়ে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা দেশে ফেরার সুযোগ পায়। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

বেনাপোল পোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক খায়রুল ইসলাম জানান, থানার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে শিশুদের তিনটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে রাইটস যশোর ১০ জন, মহিলা আইনজীবী সমিতি ৮ জন এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ১০ জন শিশুকে গ্রহণ করেছে। রাইটস যশোরের কো-অর্ডিনেটর তৌফিকুর রহমান জানান, এসব শিশুদের যশোরে তাদের শেল্টার হোমে রাখা হবে। পরে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচাই-বাছাই শেষে অভিভাবকদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হবে।

মানবাধিকার কর্মীরা জানান, দালালদের প্রলোভনে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অনেক পরিবার বিপদে পড়ে এবং শিশুদের দীর্ঘ সময় বিদেশে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হয়। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

বেসরকারি শিক্ষকদের উৎসব ভাতা শতভাগ করার আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

ভারতে ৩–৭ বছর আশ্রিত থাকার পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফিরল ২৮ বাংলাদেশি শিশু

আপডেট সময়: ০৩:২৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শেল্টার হোমে ৩ থেকে ৭ বছর আশ্রিত থাকার পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছে ২৮ বাংলাদেশি শিশু। ফেরত আসা এসব শিশুর বয়স ৮ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। তাদের অধিকাংশের পিতা অথবা মাতা বর্তমানে ভারতে কারাগারে সাজাভোগ করছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এসব শিশুকে বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং দুই দেশের মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ফেরত আসাদের মধ্যে ২০ জন ছেলে ও ৮ জন মেয়ে রয়েছে।

ফেরত আসা শিশুদের পরিবারের বাড়ি কুড়িগ্রাম, রংপুর, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, যশোর, বাগেরহাট, নড়াইল, নাটোর, কুমিল্লা, খুলনা ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকায়। বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, ভালো কাজের আশায় দালালদের মাধ্যমে এসব শিশু তাদের পিতা-মাতার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ভারতে যায়। পরে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে এবং পিতা-মাতাদের কারাগারে পাঠায়। আদালতের রায়ে পিতা-মাতাদের সাজা হলে শিশুদের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শেল্টার হোমে রাখা হয়। দীর্ঘ ৩ থেকে ৭ বছর সেখানে থাকার পর দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয়ে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা দেশে ফেরার সুযোগ পায়। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

বেনাপোল পোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক খায়রুল ইসলাম জানান, থানার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে শিশুদের তিনটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে রাইটস যশোর ১০ জন, মহিলা আইনজীবী সমিতি ৮ জন এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ১০ জন শিশুকে গ্রহণ করেছে। রাইটস যশোরের কো-অর্ডিনেটর তৌফিকুর রহমান জানান, এসব শিশুদের যশোরে তাদের শেল্টার হোমে রাখা হবে। পরে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচাই-বাছাই শেষে অভিভাবকদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হবে।

মানবাধিকার কর্মীরা জানান, দালালদের প্রলোভনে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অনেক পরিবার বিপদে পড়ে এবং শিশুদের দীর্ঘ সময় বিদেশে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হয়। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।