আজ ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ঘেরের ভেড়ি বাঁধ কেটে মাছ ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আশাশুনিতে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামীসহ গ্রেফতার-৩ সাতক্ষীরায় সারের ডিলারশিপ নিয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ সাতক্ষীরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শ্যামনগরে মুন্ডা নারী ও যুবদের জলবায়ু সহনশীলতা ও ডিজিটাল নেতৃত্ব উন্নয়নে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা আলিপুরে জেলা যুবদল ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধনা সাতক্ষীরায় চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন করলেন জেলা আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল উপজেলা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের সমন্বয় সভা   সাতক্ষীরা সদরের ঝাউডাঙ্গায় ‘নতুনকুঁড়ি ২০২৬-২৭এর ইউনিয়ন পর্যায়ের বাছাই পর্ব সম্পন্ন

সরকারি অফিসেই ‘ব্যক্তিগত বাসা’! বাড়ি ভাড়াও তুলছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ

  • আরাফাত আলী,
  • আপডেট সময়: ১০:৫৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ২৯৫ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে সরকারি অফিস কক্ষকে ব্যক্তিগত আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নিয়মিত বাড়ি ভাড়া উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রতি মাসে ২০ হাজার ২৫৪ টাকা বাড়ি ভাড়া ভাতা গ্রহণ করলেও দীর্ঘদিন ধরে নিজের অফিস কক্ষেই বসবাস করছেন। এমনকি মাঝেমধ্যে তার স্ত্রীও ওই অফিস কক্ষে এসে রাত্রিযাপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ৩ জুন কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে যোগদানের পর থেকেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তার দাপ্তরিক অফিস কক্ষকে কার্যত ব্যক্তিগত আবাসনে পরিণত করেন। চারতলা একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ওই অফিস কক্ষে প্রবেশ করলেই দেখা যায় বিছানাপত্র, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রীসহ বসবাসের নানা আলামত। একই কক্ষে তিনি দাপ্তরিক কার্যক্রমও পরিচালনা করে আসছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, যোগদানের পর থেকেই তিনি নিয়মিত অফিস কক্ষেই রাতযাপন করছেন। মাঝেমধ্যে তার স্ত্রীও গ্রামের বাড়ি থেকে এসে একই কক্ষে অবস্থান করেন। তবে চাকরির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কেউ প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও তারা জানান।
অভিযোগের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, সরকারি অফিস কক্ষকে আবাসিক কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করার পরও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার ২৫৪ টাকা বাড়ি ভাড়া ভাতা গ্রহণ করে আসছেন। এতে সরকারি অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং সরকারি আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগের পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তিকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কাজে লাগানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হুমায়ুন কবির অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে তিনি মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা পান। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, সরকারি অফিস কক্ষে বসবাস বিধিমালা অনুযায়ী অনিয়ম। তবে তার দাবি, প্রতিষ্ঠানে নাইটগার্ড না থাকায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই তিনি রাতে অফিস কক্ষে অবস্থান করেন।
তবে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, যদি শুধুমাত্র নিরাপত্তার প্রয়োজনে অফিসে অবস্থান করাই উদ্দেশ্য হয়, তাহলে একই সময়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নিয়মিত বাড়ি ভাড়া ভাতা গ্রহণের যৌক্তিকতা কী? সরকারি অফিসকে ব্যক্তিগত আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার এবং একই সঙ্গে বাড়ি ভাড়া ভাতা গ্রহণ—দুই বিষয়ই প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের মধ্যে পড়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকরা।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

সরকারি অফিসেই ‘ব্যক্তিগত বাসা’! বাড়ি ভাড়াও তুলছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ

আপডেট সময়: ১০:৫৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে সরকারি অফিস কক্ষকে ব্যক্তিগত আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নিয়মিত বাড়ি ভাড়া উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রতি মাসে ২০ হাজার ২৫৪ টাকা বাড়ি ভাড়া ভাতা গ্রহণ করলেও দীর্ঘদিন ধরে নিজের অফিস কক্ষেই বসবাস করছেন। এমনকি মাঝেমধ্যে তার স্ত্রীও ওই অফিস কক্ষে এসে রাত্রিযাপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ৩ জুন কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে যোগদানের পর থেকেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তার দাপ্তরিক অফিস কক্ষকে কার্যত ব্যক্তিগত আবাসনে পরিণত করেন। চারতলা একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ওই অফিস কক্ষে প্রবেশ করলেই দেখা যায় বিছানাপত্র, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রীসহ বসবাসের নানা আলামত। একই কক্ষে তিনি দাপ্তরিক কার্যক্রমও পরিচালনা করে আসছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, যোগদানের পর থেকেই তিনি নিয়মিত অফিস কক্ষেই রাতযাপন করছেন। মাঝেমধ্যে তার স্ত্রীও গ্রামের বাড়ি থেকে এসে একই কক্ষে অবস্থান করেন। তবে চাকরির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কেউ প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও তারা জানান।
অভিযোগের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, সরকারি অফিস কক্ষকে আবাসিক কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করার পরও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার ২৫৪ টাকা বাড়ি ভাড়া ভাতা গ্রহণ করে আসছেন। এতে সরকারি অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং সরকারি আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগের পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তিকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কাজে লাগানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হুমায়ুন কবির অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে তিনি মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা পান। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, সরকারি অফিস কক্ষে বসবাস বিধিমালা অনুযায়ী অনিয়ম। তবে তার দাবি, প্রতিষ্ঠানে নাইটগার্ড না থাকায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই তিনি রাতে অফিস কক্ষে অবস্থান করেন।
তবে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, যদি শুধুমাত্র নিরাপত্তার প্রয়োজনে অফিসে অবস্থান করাই উদ্দেশ্য হয়, তাহলে একই সময়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নিয়মিত বাড়ি ভাড়া ভাতা গ্রহণের যৌক্তিকতা কী? সরকারি অফিসকে ব্যক্তিগত আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার এবং একই সঙ্গে বাড়ি ভাড়া ভাতা গ্রহণ—দুই বিষয়ই প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের মধ্যে পড়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকরা।