আজ ১২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
গাজী নজরুলের এমপি পদ বাতিলের দাবিতে উত্তাল শ্যামনগর, মানববন্ধন-বিক্ষোভ অব্যাহত মাদার নদীর উপর বাঁশের সাঁকোর স্থলে সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন সম্পাদক-পত্নীর মৃত্যুতে দৈনিক দক্ষিণের মশাল পরিবারের গভীর শোক সম্পাদক আশেক-ই-এলাহীর সহধর্মিণীর ইন্তেকালে দৈনিক দক্ষিণের মশাল পরিবারের গভীর শোক আপত্তিকর ভিডিও বিতর্ক বহিষ্কার হলেন গাজী নজরুল, এমপি পদ কি থাকবে? সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার অভিযানে মাদক মামলার আসামিসহ ৯ জন আটক সাতক্ষীরার সাবেক ডিসি হুমায়ূন কবীরের কাছে সাড়ে ৪ কোটি টাকার ডলার বিক্রির দাবি দুই ব্যবসায়ীর প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ দুই ব্যবসায়ীর ডলার কেলেঙ্কারির অভিযোগে তোলপাড় সাতক্ষীরা,তদন্তের দাবি জোরালো আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে চার জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

 ছাত্র আন্দোলনের মুখে ভোর রাতে কলেজ ছাড়লেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ 

  • আরাফাত আলী,
  • আপডেট সময়: ১২:৫১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ১৬৬ বার পড়া হয়েছে

নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিক্ষার্থী-জনসাধারণকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে চলমান ছাত্র আন্দোলনের মুখে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর ভোর রাতে গোপনে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, শিক্ষার্থীদের হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে তিনি কলেজ ত্যাগ করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, কলেজ ত্যাগের সময় তার সঙ্গে শিক্ষক জাহিদ হাসান ও আইটি শিক্ষক শিমুল হোসেন ছিলেন। পরে তারা কালিগঞ্জ থানায় গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানা গেছে। এরপর বেলা ১১টার দিকে হুমায়ুন কবীর ইমাদ পরিবহনের একটি বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অনুপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তারা সমাবেশ ও স্লোগান কর্মসূচি পালন করে অধ্যক্ষের অপসারণ, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, সকালে কলেজে এসে তারা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কক্ষ তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জরুরি বৈঠক করে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করে তা কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক, পরিচালক ও মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সর্বশেষ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যসংবলিত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

কলেজের সচেতন অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (ভোকেশনাল) প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক বলেন, “কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা বা অপেশাদার আচরণের সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি আমাদের কাছে উপস্থাপিত হলে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানাই।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

গাজী নজরুলের এমপি পদ বাতিলের দাবিতে উত্তাল শ্যামনগর, মানববন্ধন-বিক্ষোভ অব্যাহত

 ছাত্র আন্দোলনের মুখে ভোর রাতে কলেজ ছাড়লেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ 

আপডেট সময়: ১২:৫১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিক্ষার্থী-জনসাধারণকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে চলমান ছাত্র আন্দোলনের মুখে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর ভোর রাতে গোপনে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, শিক্ষার্থীদের হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে তিনি কলেজ ত্যাগ করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, কলেজ ত্যাগের সময় তার সঙ্গে শিক্ষক জাহিদ হাসান ও আইটি শিক্ষক শিমুল হোসেন ছিলেন। পরে তারা কালিগঞ্জ থানায় গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানা গেছে। এরপর বেলা ১১টার দিকে হুমায়ুন কবীর ইমাদ পরিবহনের একটি বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অনুপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তারা সমাবেশ ও স্লোগান কর্মসূচি পালন করে অধ্যক্ষের অপসারণ, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, সকালে কলেজে এসে তারা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কক্ষ তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জরুরি বৈঠক করে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করে তা কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক, পরিচালক ও মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সর্বশেষ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যসংবলিত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

কলেজের সচেতন অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (ভোকেশনাল) প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক বলেন, “কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা বা অপেশাদার আচরণের সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি আমাদের কাছে উপস্থাপিত হলে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানাই।