সাতক্ষীরা শহরের রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে মিসেস রাশিদা জাহান নামে এক স্ট্যাম্প ভেন্ডারের বিরুদ্ধে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অষ্টম শ্রেণি পাস রাশিদা জাহান কীভাবে স্ট্যাম্প ভেন্ডার লাইসেন্স পেয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের দক্ষিণ কাটিয়ার এম এম শাহাজাহানের স্ত্রী রাশিদা জাহানের নামে রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে স্ট্যাম্প ভেন্ডারের লাইসেন্স রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। এ অবস্থায় লাইসেন্স গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো তথ্য গোপন বা জাল সনদ ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, রাশিদা জাহানের স্বামী এম এম শাহাজাহানের বিরুদ্ধেও এর আগে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে দলিল লেখকের লাইসেন্স নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর তার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানের সামনে ‘সাবেক দলিল লেখক’ লেখা সাইনবোর্ডের পাশাপাশি ‘ডিড রাইটার’ লেখা আরেকটি সাইনবোর্ড রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দলিল লেখকের লাইসেন্স না থাকার পরও তিনি নিজেকে দলিল লেখক হিসেবে পরিচয় দিয়ে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে দলিল সম্পাদনের কাজ গ্রহণ করছেন। এছাড়া প্রতারণা ও জাল দলিল সম্পাদনার মতো গুরুতর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
এদিকে রেজিস্ট্রি অফিসের বালামের ভলিউম বইয়ের পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার একটি ঘটনায় কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গাজী শওকত হোসেনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে এম এম শাহাজাহানকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে এম এম শাহাজাহান বলেন, তার স্ত্রী রাশিদা জাহান অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তবে স্ট্যাম্প ভেন্ডার লাইসেন্সের জন্য মাধ্যমিক পাসের প্রয়োজন হয় না। তিনি গাজী শওকতের সঙ্গে আটকের বিষয়টিও স্বীকার করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি যাচাই করে রাশিদা জাহানের লাইসেন্সের বৈধতা এবং এম এম শাহাজাহানের দলিল লেখক হিসেবে কার্যক্রমের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
স্টাফ রিপোর্টার, 






















