আজ ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবকের কাণ্ড ২ হাজার টাকা না দেয়ায় নারীকে মারধর, জোর করে টাকা আদায়  শ্যামনগরে রাতের আঁধারে কৃষকের ৩০০ কুমড়াগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১০২ ডুমুরিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় মা-ছেলে আহত বৈরী আবহাওয়ায়ও নেতা-কর্মীদের নিয়ে আব্দুর রউফের বিশাল র‍্যালি নবম পে-স্কেলে দ্বিগুণ বেতন, স্বস্তিতে সরকারি চাকরিজীবীরা; মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা বেসরকারি চাকরিজীবীদের ‎ডুমুরিয়া হাসপাতালে একদিনে ৬ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি উপকূলীয় অঞ্চলে খাল পুনঃখননে উপকৃত হাজার হাজার কৃষক পরিবার সাতক্ষীরায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইটভাটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ মূল বেতন বাড়বে তিন ধাপে, ২০২৮ থেকে কার্যকর নতুন ভাতা

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবকের কাণ্ড ২ হাজার টাকা না দেয়ায় নারীকে মারধর, জোর করে টাকা আদায় 

  • আরাফাত আলী
  • আপডেট সময়: ০৩:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"adjust":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (সামেক) ছাড়পত্র নিতে গিয়ে দাবি করা দুই হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক নারীকে কিল, চড় ও ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে এক স্বেচ্ছাসেবকের বিরুদ্ধে। এসময় ওই নারীর হাতে থাকা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে।

পরে জোর করে ওই নারীর কাছ থেকে  ৫০০ টাকা আদায় করে নবজাতককে ছাড়পত্র দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সামেকের ছয়তলা শিশু ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার নারী তানজিলা বেগম শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা এলাকার মারুফ হাসানের স্ত্রী।

তানজিলা বেগমের অভিযোগ, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত নকিপুর গ্রামের খাদেম হোসেনের তিন দিনের নবজাতককে চিকিৎসার জন্য তারা সামেকে নিয়ে আসেন। বুধবার বিকেলে শিশুটিকে রিলিজ করানোর সময় ছয়তলা শিশু ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক সাঈদ হোসেন ছাড়পত্রের জন্য তার কাছে দুই হাজার টাকা দাবি করেন।

তানজিলা বলেন, দুই হাজার টাকা কেন দিতে হবে জানতে চাইলে সাঈদ আমার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে কিল, চড় ও ঘুষি মারতে থাকে। আমার হাতে থাকা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটিও আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, মারধরের পরও নবজাতককে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। পরে তার কাছ থেকে জোর করে ৫০০ টাকা আদায় করা হয়। টাকা নেওয়ার পরই নবজাতককে ছাড়পত্র দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় সামেকের অন্য রোগীদের স্বজনরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে জানান তিনি।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সামেকের ওয়ার্ড মাস্টার হালিমুর রহমান (হালিম) অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই নারীর কাছে দুই হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় স্বেচ্ছাসেবক কর্মী সাঈদ তাকে মারধর করেছে। তার কাছ থেকে ৫০০ টাকাও জোর করে আদায় করা হয়েছে। ওই নারীর মোবাইল ফোনও আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ওই স্বেচ্ছাসেবক কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাঈদ হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে সামেকের পরিচালক ডা. কুদরত-ই-খোদার বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সামেকের মতো একটি সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ছাড়পত্রের নামে অর্থ দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় রোগীর স্বজনকে মারধর এবং পরে টাকা আদায়ের অভিযোগে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবকের কাণ্ড ২ হাজার টাকা না দেয়ায় নারীকে মারধর, জোর করে টাকা আদায় 

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবকের কাণ্ড ২ হাজার টাকা না দেয়ায় নারীকে মারধর, জোর করে টাকা আদায় 

আপডেট সময়: ০৩:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (সামেক) ছাড়পত্র নিতে গিয়ে দাবি করা দুই হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক নারীকে কিল, চড় ও ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে এক স্বেচ্ছাসেবকের বিরুদ্ধে। এসময় ওই নারীর হাতে থাকা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে।

পরে জোর করে ওই নারীর কাছ থেকে  ৫০০ টাকা আদায় করে নবজাতককে ছাড়পত্র দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সামেকের ছয়তলা শিশু ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার নারী তানজিলা বেগম শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা এলাকার মারুফ হাসানের স্ত্রী।

তানজিলা বেগমের অভিযোগ, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত নকিপুর গ্রামের খাদেম হোসেনের তিন দিনের নবজাতককে চিকিৎসার জন্য তারা সামেকে নিয়ে আসেন। বুধবার বিকেলে শিশুটিকে রিলিজ করানোর সময় ছয়তলা শিশু ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক সাঈদ হোসেন ছাড়পত্রের জন্য তার কাছে দুই হাজার টাকা দাবি করেন।

তানজিলা বলেন, দুই হাজার টাকা কেন দিতে হবে জানতে চাইলে সাঈদ আমার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে কিল, চড় ও ঘুষি মারতে থাকে। আমার হাতে থাকা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটিও আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, মারধরের পরও নবজাতককে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। পরে তার কাছ থেকে জোর করে ৫০০ টাকা আদায় করা হয়। টাকা নেওয়ার পরই নবজাতককে ছাড়পত্র দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় সামেকের অন্য রোগীদের স্বজনরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে জানান তিনি।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সামেকের ওয়ার্ড মাস্টার হালিমুর রহমান (হালিম) অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই নারীর কাছে দুই হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় স্বেচ্ছাসেবক কর্মী সাঈদ তাকে মারধর করেছে। তার কাছ থেকে ৫০০ টাকাও জোর করে আদায় করা হয়েছে। ওই নারীর মোবাইল ফোনও আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ওই স্বেচ্ছাসেবক কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাঈদ হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে সামেকের পরিচালক ডা. কুদরত-ই-খোদার বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সামেকের মতো একটি সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ছাড়পত্রের নামে অর্থ দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় রোগীর স্বজনকে মারধর এবং পরে টাকা আদায়ের অভিযোগে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।