দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ছয় সংসদ সদস্য। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণে মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন। ছয়জন ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত না থাকায় ভোট দিতে পারেননি। পড়া ৩৪৩টি ভোটই বৈধ হয়েছে।
ভোট না দেওয়া ছয় সংসদ সদস্য হলেন—ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির মির্জা আব্বাস, চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, সিলেট-৫ আসনের খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত ও বর্তমানে দল থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। সাদা কাগজে কালো কালিতে ছাপা ব্যালট পেপারে সংসদ সদস্যরা গোপন ব্যালটে ভোট দেন। ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন।
নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
কেন ভোট দেননি
ভোট না দেওয়া ছয় এমপির মধ্যে মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকায় ভোট দিতে পারেননি বলে জানা গেছে। মোস্তফা কামাল পাশার ক্ষেত্রেও বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান সাংগঠনিক কাজে লন্ডনে অবস্থান করায় ভোট দিতে পারেননি বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম অসুস্থতার কারণে ভোট দিতে পারেননি বলে জানা গেছে। তিনি জানিয়েছেন, ভোটের দিন সকালে শারীরিক অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে যেতে হয়েছিল।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অবশ্য রাজনৈতিক কারণে ভোটদানে বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন তাঁর কাছে অর্থহীন ও প্রহসনের মনে হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল বলে মনে করায় তিনি ভোট দেননি।
ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক কেন ভোট দেননি, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৯টি ব্যালট পেপার প্রস্তুত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৪৩টি ব্যালটে ভোট পড়েছে এবং সবগুলোই বৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছে। ছয়জন এমপির ভোট না দেওয়ার কারণে মোট ভোটের হিসাব ৩৪৩-এ দাঁড়ায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















