সাতক্ষীরায় জমি নামজারির জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নেওয়া এবং মূল দলিলে উল্লেখিত জমির পরিমাণের চেয়ে বেশি জমি নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে।
সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকার শেখ আবুল কাশেমের স্ত্রী মোছা. শাহিদা খাতুন ও তার স্বামীর দাবি, তাদের একটি দলিলে জমির পরিমাণ উল্লেখ রয়েছে ৩ দশমিক ৩৩ শতক। কিন্তু ওই জমির নামজারি খতিয়ানে জমির পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৪ দশমিক ১৩ শতক। এ নামজারি করিয়ে দেওয়ার জন্য দলিল লেখক মিজানুর রহমান তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়েছেন।
শুধু নামজারি সংক্রান্ত অভিযোগ নয়, স্থানীয়ভাবে দলিল লেখক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জাল মিউটেশন (নামজারি) করারও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করছেন অভিযোগকারীরা। এসব অভিযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া এবং সেই অর্থ দিয়ে সাতক্ষীরা শহরে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র ও কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, মিজানুর রহমানের বাড়ি শ্যামনগর উপজেলায়। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে শ্যামনগর সদরের দেবালয় এলাকায় শ্বশুরের জমিতে বাড়ি নির্মাণ করেন। এরপর তিনি ‘নির্ভরতা’ নামে একটি এনজিওর শ্যামনগর শাখায় ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের হিসাব নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা লোপাট করে ঢাকার হেড অফিসসহ সারা বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এসময় এনজিওটির শ্যামনগর শাখার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ওই শাখার ম্যানেজার হওয়ার সুবাদে গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা লোপাট করার সুযোগ পান মিজানুর রহমান।
কয়েকজন গ্রাহকের অভিযোগ, তারা প্রতিষ্ঠানে জমা দেওয়া টাকার একটি অংশ ফেরত পাননি।
পরবর্তীতে মিজানুর রহমান শ্যামনগর থেকে আত্ন গোপন করে সাতক্ষীরা শহরে চলে আসেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে তিনি জেলা রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় দলিল লেখার কাজে যুক্ত হন। প্রায় আট বছর আগে তিনি দলিল লেখকের লাইসেন্স পান বলে জানা গেছে। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে দলিল ও নামজারি সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
নামজারি সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে শাহিদা খাতুন ও তার স্বামী বলেন, “দলিল লেখক মিজানুর রহমানকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে আমাদের জমি নামজারি করিয়েছি। কিন্তু আমাদের মূল দলিলে জমির পরিমাণ ৩ দশমিক ৩৩ শতক থাকলেও নামজারি হয়েছে ৪ দশমিক ১৩ শতক।
অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মিজানুর রহমান বলেন,
শাহিদা ও তার স্বামী আমার নিকট আত্মীয়। এজন্য টাকা নিয়ে তাদের নামজারি করিয়ে দিয়েছি। তবে নায়েবকে টাকা দিয়ে মিউটেশন করিয়ে নিতে হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ওঠা জাল দলিল, জাল মিউটেশন, অর্থ আত্মসাৎ ও সম্পদ গড়ার অভিযোগসহ অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিজানুর রহমান।
স্টাফ রিপোর্টার, 



















