আজ ০৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
নদী শাসনের অপ-প্রভাব আজ সাতক্ষীরা স্থায়ী জলবদ্ধতা সাতক্ষীরায় এনজিও পরিচালন ব্যবস্থায় সুশাসন জোরদারকরণ” শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ৭ কোটি টাকার সড়কে বালু নিয়ে কারসাজি, ইউএনওকে জানিয়েও বন্ধ হয়নি ড্রেজার ডুমুরিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে তিন যুবকের কারাদণ্ড হাজরাকাটি মডেল কমিউনিটি ক্লিনিকের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ পরিদর্শন পুলিশের উপস্থিতিতে চাঁদা দাবি, বিএনপির দুই নেতার মুক্তি পাটকেলঘাটা ভূমি অফিসে নায়েবের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ সাড়াতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ বন্ধ মৌসুমে সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরার সময় ৪ জেলে আটক বিধবার ২৫ বিঘা চিংড়ি ঘের দখলের অভিযোগ, লুট হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ

নদী শাসনের অপ-প্রভাব আজ সাতক্ষীরা স্থায়ী জলবদ্ধতা

সাতক্ষীরা জেলার বেশীর ভাগ এলাকা বছরের বেশীর ভাগ সময় পানির নীচে থাকে। ভয়াবহ বন্যার অবস্থায় নিমজ্জিত থাকতে হয় মানুষদের। প্রকৃতিক কার্যাদি করার মত স্থান থাকেনা। ময়লা পানির সাথে সাপ পোকা মাকড়ের চলাচল আতংক জনক পরিবেশে মানুষদের বসবাস। একটু বেশী বৃষ্টি হয়েছে তো অবস্থা আরো কষ্টকর হয়ে পড়ে। এলাকার বৃষ্টিপাতের ধারাবহিক গতি দেখলে এটা অতি অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত বলে মনে হয় না। তারপর মানুষদের থাকতে হচ্ছে জলমগ্ন। বিপর্যস্ত অবস্থা সবচেয়ে পৌর সভাসহ সাতক্ষীরা সদরসহ সকল উপজেলা।
বারান্দা পর্যন্ত পানি, চলাচলের সকল রা¯তা গভীর পানির নীচে। রান্না বান্নার জন্য শুষ্ক জায়গা নেই। পাইখানা, পেসাব খানার কোথাও অস্তিত্ব নেই। নারী ও শিশুদের অবস্থা অত্যাšত অমানবিক। মৃতব্যক্তিদের মুসলিম সম্প্রদায় জেলার অন্যত্র কোন আত্নীয়ের উচু বাড়ী অথবা সরকারী গোরস্থানে আর হিন্দুরা পরপর কয়েকটি কলাগাছ দিয়ে উচু ভেলা বানিয়ে সৎকার করতে হয়। সাতক্ষীরার মানুষের এটাই নিয়তি হয়ে গেছে।
সাতক্ষীরা জেলা দক্ষিণ পশ্চিম উপকুলীয় এলাকার শেষ সাগর সংলগ্ন জেলা। জেলার উপর দিয়ে গঙ্গার প্রধান দু শাখার জলধারা (কপোতাক্ষ ও ইছামতি) সাগরে যুক্ত হয়েছে। আবার সাগর সংলগ্ন হওয়ায় জোয়ার ভাটার প্রভাব নদী সমুহকে জীবšত রাখবে এটাই স্বাভাবিক। গঙ্গার পানি সাগরে যাওয়া ও সাগরের জোয়ার ভাটার প্রবাহের কারনে অসংখ নদী খাল ছড়িয়ে রয়েছে জেলার মধ্যে। কিন্তু তারপরও পানিবন্দি হয়ে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা।
সাগর সংলগ্ন জেলা ও অসংখ্য নদী খালের অস্থিত্ব থাকার পরও পানি বের হচ্ছে না কেন ? এর জন্য দায়ী কে ? উত্তর হলো: নদীর উপর অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, জোয়ার-ভাটা বন্ধ করা, নদী-খাল মাছ চাষের নামে লীজ দেওয়া ও অবৈধ দখল হওয়া । পানি নিষ্কাশনের পথ সমুহ ব্যক্তির মুনাফা অর্জনের বাহন বানানো। সবচেয়ে বড় বিষয়টি হলো রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে উন্নয়নের নামে অপ-উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন করা। ক্ষমতা গ্রহনকারীরা তাদের নিবেদিত সৈন্য সামšতদের কিছুটা আর্থিক সুবিধা দিতে ব্যপক ভাবে ভুমি দখলের নামে নদী খাল দখল করে থাকে সকল সরকারের সময়।
৬০ এর দশকে বিশেষ করে ৬২ সালের সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর মাধ্যমে মিষ্টি পানির আধার তৈরী আর কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি তথা সবুজ বিপ্লবের নামে নদী শাসন করার পরিকল্পনায় বাঁধ নির্মানের মাধ্যমে পোল্ডারের সৃষ্টি করা হয় সাতক্ষীরাতে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সমুহ ধ্বংশ করা হয়। সাগরের জোয়ার ভাটার নোনা পানি আর উজানের মিষ্টি পানির সংমিশ্রনে এলকার ভূমি গঠন আদিকাল থেকে হয়ে আসছে। এ সংমিশ্রনের কারনে নদীতে জোয়ার ভাটার প্রভাবে সৃষ্ট শ্রোতে নদীর নব্যতা সৃষ্টি হতো প্রাকৃকিত ভাবে। আবার জোয়ার আসা পলি পড়ে পড়ে ভূমিকে উচু যেমন করতো. তেমনি উর্বতাও শক্তি থাকতো মাটিতে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাধঁ ব্যবস্থাপনা নদী প্রবাহকে নষ্ট করে দেয়। ফলে স্রোত বিহীন নদী আস্তে আস্তে পলি জমে উচু হতে শুরু করে। ভুমি গঠন সম্পূর্ন না হওয়ায় ভুমি ডেবে যাওয়া অব্যহত থাকায় বিল এলাকা নিচু হয়ে পড়ে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রমুখ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের নামে নদীর বুকে নির্মান করে স্থাপনা। জনগনের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ এলাকার জীববৈচিত্র, স্থায়ীত্বশীল জীবন জীবিকার বিষয় অজ্ঞতা হেতু স্থাপনা নির্মানে একের পর এক অনুমতি পত্র প্রদান করেন। সাতক্ষীরার জলবদ্ধতার শুরু আজ থেকে নয়। অনেক আগে থেকে এর পদধ্বনি মানুষ শুনতে পায়। জলবদ্ধতা নিয়ে বিগত কয়েক বছরে কয়েক শত সভা আলোচনা ও কয়েক সহস্র প্রবন্ধ, গবেষনা পত্র প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু তারপরও পাউবোসহ সংশ্লিষ্ঠদের দিয়ে সমাধানের রা¯তা খোজেন নীতিপ্রনেতাবৃন্দ।
সাতক্ষীরার প্রধান প্রধান নদী সমুহ আজ প্রবাহহীন। প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার বরার্দ্দ করা হয় নদী খননের জন্য। বিশাল বিশাল পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু সরকারী টাকা শুধু স্থান পরিবর্তন ছাড়া কাজ কিছু হয় না। বর্ষা আসে, মানুষ জলমগ্ন হয়। ফসল ধ্বংশ, মানুষ কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করে। অধিকাংশ মানুষ সম্পদ হারায় আর অল্প মানুষের হাতে সে সম্পদ চলে যায়। এ যেন একটি অলিখিত কবিতা।
নদীর প্রবাহ না থাকলে নদী মরে যাবে। শুধু এক মুখো পানি সরিয়ে নদী বাঁচিয়ে রাখা যায় না। নদী ধ্বংশের প্রধান কারণ একমুখি স্লুইজ গেট। যেটি পানি উন্নয়ন বোর্ড একের পর একটি করেন। রাস্তা বানানো বিভাগ রা¯তা তৈরীর সময় নদীর প্রস্থতা বিবেচনা না করে নদী অপেক্ষা অনেক ছোট করে স্লুইজ গেট ও পুল নির্মান করে থাকেন। আবার এ পুল গুলোতে এতগুলো পিলার দিয়ে দেন যে নদী দ্রুত মৃত্যুর দিকে এগোয়। সাতক্ষীরার আজ সংকটের জন্য প্রধান অপরাধী পানি উন্নয়ন বোর্ড, দ্বিতীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ঠ নির্মান কতৃপক্ষ। এর সাথে যুক্ত নদী খাল বন্দব¯ত প্রদানকারী কতৃপক্ষ। জনপ্রতিনিধিরাও এর বাইরে নন।
সাতক্ষীরার প্রধান দু নদী কপোতাক্ষ ও ইছামতি। সাতক্ষীরার ভুমি গঠনে এ দু নদীর ভুমিকা প্রধান। আবার সাগর সংলগ্ন হওয়ায় জোয়ার ভাটার প্রভাবও গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখে এ অঞ্চল গঠনে। সাগর যুক্ত নদী গুলো হলো খোলপেটুয়া, রায়মঙ্গল, মালঞ্চ, চুনার, আড়পাংশিয়া প্রভৃতি। কপোতাক্ষ ইছামতির যুক্ত নদীসহ বেতনা, লাবন্যবতি, আদি যমুনা, মরিচ্চাপ ইত্যাদি। এছাড়া বৃটিশ শাষনকালে প্রধানত তিনটি সংযোগ খাল কেটে নদী প্রবাহের সাথে যুক্ত করা হয়, যে গুলো পরবর্তীতে জেলার আন্তঃনদী সংযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। সাতক্ষীরা শহরের মধ্যদিয়ে প্রাণ সায়ের.( বেতনার সাথে মরিচ্চাপন নদীর সংযোগ, কোলকাতার খাল, লাবন্যবতির সাথে এলারচর হয়ে মারচ্চাপ নদীর সাথে যুক্ত), কালিগজ্ঞের কাকশিয়ালী (আদি যমুনা নদী হতে শুরু হয়ে ত্রিমোহনীতে খোলটেয়ার শাখা গণঘেষিয়া নদীর সাথে যুক্ত) এবং শ্যামনগরে চেীদ্দরশি খাল ( খোলপেটুয়া – কপোতাক্ষ সংযোগ) ।
সাতক্ষীরা জেলার সকল খাল নদী সমুহ পরস্পর যুক্ত এবং একে অন্যের পানি কখনও নিজে ধারন করেছে, কখনও বহন করে নিয়ে প্রবাহের ধারা সচল রেখেছে। আবার সাগরের সাথে একাকার হয়ে গেছে। নদী সমুহের পরস্পর সংযুক্ত প্রবাহ সাতক্ষীরাকে অন্য এলাকা থেকে পৃথক বৈশিষ্ঠ দিয়েছে। মিষ্টি ও নোনা পানির সংমিশ্রনে এলাকার প্রতিবেশ ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেছে। ফলে এলাকাতে কোন ধরনের পরিকল্পনা গ্রহন কালে প্রাকৃতিক এ বৈশিষ্ঠ বিবেচনা করা ছিল যুক্তিযুক্ত। যা অবকাঠামো নির্মানকারী দপ্তর, এমনকি নীতি প্রনয়নকারী কতৃপক্ষও বিবেচনায় আনেন নি। ফলে অবিবেচনা প্রসুত গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনার খেসারত আজ দিতে হচ্ছে সাতক্ষীরার মানুষদের।
সাতক্ষীরার উপর দিয়ে প্রবাহিত বর্তমানে একমাত্র প্রবাহমান নদী ইছামতি। উৎপত্তিস্থল ভারতে হওয়ায় বছরের ৭/৮ মাস উজানের পানি প্রবাহ থাকে এই নদীতে। ১৯৭২/৭৩ সালে স্থানীয় জনগণের প্রবল বাধা উপেক্ষা করে ইছামতি-লাবন্যবতির নদীর সংযোগস্থল দেবহাটার শাখরায় ১৫ ভেন্টের একটি স্লুুইস গেট নির্মাণ করা হয়। একই সময়ে ইছামতির ভাতশালা নামক স্থানে সাপমারা নদীর সংযোগ স্থলে আরো একটি স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়। লাবন্যবতি ও সাপমারা নদীর অপর প্রান্তে মরিচ্চাপের সংযোগস্থলে টিকেট, কামালকাটি, শালখালী, বালিথাসহ বিভিন্ন স্থানে আরো অসংখ্য স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়। আর এ কারণেই অল্প দিনের মধ্যেই লাবন্যবতি, সাপমারা, মরিচ্চাপ নদী এবং তার অসংখ্য শাখা খাল অস্তিত্ব হারায়। যার প্রভাবে বেতনা ও খোলপেটুয়া নদীও নাব্যতা হারায়। ফলে নদী-খালগুলো অল্পদিনেই ভরাট হয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিক বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে এসব নদীগুলো। বৃষ্টিপাত একটু হলেই এলাকা প্লাবিত হয় হয়। নদীর প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় রোদে শুকানো ছাড়া পানি কমার পথ খুবই কম।
এমতাবস্থায় গত দুই দশক ধরে সাতক্ষীরার মানুষ ইছামতি নদীর সাথে সাতক্ষীরার অন্যান্য নদীগুলোর পূর্বের ন্যায় জোয়ার-ভাটার সম্পর্ক পূর্র্ণস্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে। কারণ ইছামতির জোয়ারের পানি ভাটি হয়ে নামতো লাবন্যবতি, সাপমারা, মরিচ্চাপ, খোলপেটুয়া, আদি যমুনা নদী দিয়ে। আবার এসব নদীর জোয়ারের পানি ইছামতি নদীতে ভাটি হয়ে নামতো। আর এর সাথে দূরবর্তী হলেও সংযোগ ছিল বেতনা এবং কপোতাক্ষের। ফলে নদীতে পলি জমার কোন সুযোগই ছিল না। কিন্তু স্লূইস গেট নির্মাণ করে সে পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। এখন যত প্রকল্পই নেয়া হোক না কেন জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি ছাড়া সাতক্ষীরার বর্তমান সমস্যা সমাধানের অন্য কোন বিকল্প নেই।
বেতনা একটি শাখা সাতক্ষীরার খেজুর ডাঙ্গি এলাকা হয়ে কদমতলা ঝাউডাংগা হয়ে সোনাই নদীতে যুক্ত হয়। এ নদী থেকে একটি খাল কেটে সাতক্ষীরা শহরের মধ্যদিয়ে এলাচর হয়ে মরিচ্চাপের সাথে যোগ করে দেওয়া হয়। যেটি প্রানসায়ের নামে পরিচিত। বেতনার পানি প্রানসায়ের দিয়ে মরিচ্চাপে ও একই ভাবে সোনাই নদীর পানিও প্রানসায়ের হয়ে চলাচল করায় সাতক্ষীরা সদরের লাবসাসহ সমগ্র এলাকা ছিল অবাধ প্রবাহ যুক্ত এলাকা। এলাকাতে আগে কখনও পানি জমা হয়নি বা জলাবদ্ধতা দেখা দেয়নি। কিন্তু বেতনা ও প্রানসায়ের এই সংযোগ খালের খেজুরডাঙ্গিতে ৬ ভেন্টের ¯ুইজ গেট নির্মানের কয়েক বছরের মধ্যে এলাকাটি স্থায়ী জলবদ্ধতার দিকে এগুতে থাকে। সম্প্রতি জনদাবীর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাণ সায়েরের এলাচর স্লুইজগেট অপসারন করে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রাণ সায়ের নূতন প্রাণ কিছুটা হলেও ফিরে পেয়েছে। যদি বিনেরপোতার ধারের খেজুর ডাঙ্গির স্লুইজ গেট অপসারন কর যেত তা হলে সাতক্ষীরা সদরের জলাবদ্ধতধার ৮০ ভাগ নিরশন ঘটতো। একই সাথে বেতনা নদীর নাব্যতা সৃষ্টি হয়ে প্রবাহময় নদী হতো। যা জেলার জন্য আর্শিবাদ স্বরুপ হয়ে উঠতো।
ইছামতি কালিগজ্ঞের বসšতপুর হয়ে আদি যমুনা নদী নাম নিয়ে শ্যামনগরের মধ্যদিয়ে মাদারনদীর সাথে মিশে প্রবাহময় ছিল। মাদার নদী মালঞ্চ নদী সাগরযুক্ত । পানি উন্নয়ন বোর্ড কালিগজ্ঞের নাজিমগজ্ঞে স্লইজগেট নির্মান করে এবং মাদারনদীর সংযোস্থল প্ররোপুরি আটকে দেওয়ায়া আদি যমুনা প্রবাহহীন হয়ে পড়ে। এলাকাবাসী দুই দশক ধরে আন্দোলন করার ফলে মাদার নদীর সংযোগ স্থলে একটি স্লুইজ নির্মান করা হয়েছে। যদিও মানুষের দাবী ছিল উম্মুক্ত করার। এটিতে আপত্তি মানুষের কিন্তু তারপরও সামান্য হলেও নদীর গতি হয়েছে । এলাকার জলাবদ্ধতা কিছুটা কমেছে। আদি যমুনা নদী কয়েক বারের প্রকল্পে কিছুটা প্রশস্ত হয়েছে। কিন্তু এখনও অনেক এলাকা অবৈধ্য দখলদারদের দখলে। আর ইছামতি- মাদার নদীর প্রবাহ অবাধ কর দরকার।
সাতক্ষীরা পানি নিন্মমুখি হয়ে খোলপেটুয়া নদী দিয়ে সাগরে পড়ার একমাত্র মাধ্যম। সম্প্রতি সেখানে একটি বিশাল চর জেগে উঠছে (শ্যামনগরের কশিমাড়ী ু পদ্মপুকুরের মধ্য)। এ চরটিকে যদি এখনই ড্রেজিংএর মাধ্যমে অপসারিত না করা যায় তা হলে আগামী ১০ বছর পড়ে সাতক্ষীরার পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। যা সমুহ বিপদ ডেকে আনবে সমগ্র এলাকার জন্য।
কপোতাক্ষ নদের যে ধারাটি সাগরের আড়পাংশিয়া নদীর সাথে যুক্ত ছিল। এমনি তেই কপোতাক্ষে র উপরের ধারা বিচ্ছিন্ন ছিল , তারপরও যে প্রবাহটুকু ছিল সেটি সরকারের একটি অপপরিকল্পনায় আশাশুনি-পাইকগাছার মধ্যস্তটি সুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে যায়। ফলে সুন্দরবনাঞ্চেলে মিষ্টি পানি যাওয়ার ধারা অনেক কমে গেছে।
সাতক্ষীরা দক্ষিণকূল শ্যামনগরের মধ্যে সাগরকূলে গড়ে উঠেছে পৃথিবীর বিখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। সাগরকুলে গড়ে উঠা এ বন সুজনে প্রধান ভুমিকা হচ্ছে নোনা ও মিষ্টি পানির সংমিশ্রন। নদী অপরিকল্পিত শাসনের ফলে মিষ্টি পানির উৎস্য কমে যাওয়ায় সুন্দরবনের উপর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এ সুন্দবন এলাকায় ছিল সবচেয়ে বড় মাছের প্রজজন কেন্দ্র। সাগরের অধিকাংশ মাছের ডিম সুন্দরবন এলাকাতে ছাড়তে চলে আসতো। এখানে মিষ্টি পানির প্রভাবে নোনার মাত্রা বেশ কিছুটা হ্রাস পেত। কিন্তু বর্তমানে সেটিও ধ্বংশ হওয়ার উপক্রম।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোর মুন্সিগজ্ঞ এবং খুলনা সাতক্ষীরা সড়ক নির্মান কালে সাতক্ষীরার বেতনা, লাবণ্যবতী, কোলকাতার খাল, প্রাণসায়ের ও আদি যমুনাসহ অসংখ্যা নদী খালের প্রবাহ বাধাগ্রস্থ করে ও কোথাও পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। সড়ক জনপথ বিভাগের নির্মিত সকল ব্রীজই পাউবোর পর নদী সমুহের ধ্বংশ করার কাজটি ত্বরানিত করে।
সামগ্রিক ভাবে সাতক্ষীরাকে রক্ষা করতে ইছামতি নদীর প্রবাহ সাগরে যাওয়া পথ উম্মুক্ত করা আর জোয়ার ভাটার প্রবাহের বাধা অপসারন করা ছাড়া বিকল্প নেই। নদীর স্বাভাবিক গতি পথই তৈরী করতে পারে জলমগ্ন অবস্থা মুক্ত সাতক্ষীরা। আর এটা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন নীতি নির্ধারক মহল তত দ্রুত মানুষ নিস্কৃতি পাবে এ সংকট থেকে। শুধু জনপথ নয় সুন্দরবন রক্ষায় ইছামতি নদী ও কপোতাক্ষ নদের সাগরের সাথে যুক্ত প্রবাহ বাধা মুক্ত করা দরকার। দরকার খোলপেটুয়া নদীর জোয়ার ভাটা স্বাভাবিক রাখ।

 

 

 

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

নদী শাসনের অপ-প্রভাব আজ সাতক্ষীরা স্থায়ী জলবদ্ধতা

নদী শাসনের অপ-প্রভাব আজ সাতক্ষীরা স্থায়ী জলবদ্ধতা

আপডেট সময়: ০৭:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

সাতক্ষীরা জেলার বেশীর ভাগ এলাকা বছরের বেশীর ভাগ সময় পানির নীচে থাকে। ভয়াবহ বন্যার অবস্থায় নিমজ্জিত থাকতে হয় মানুষদের। প্রকৃতিক কার্যাদি করার মত স্থান থাকেনা। ময়লা পানির সাথে সাপ পোকা মাকড়ের চলাচল আতংক জনক পরিবেশে মানুষদের বসবাস। একটু বেশী বৃষ্টি হয়েছে তো অবস্থা আরো কষ্টকর হয়ে পড়ে। এলাকার বৃষ্টিপাতের ধারাবহিক গতি দেখলে এটা অতি অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত বলে মনে হয় না। তারপর মানুষদের থাকতে হচ্ছে জলমগ্ন। বিপর্যস্ত অবস্থা সবচেয়ে পৌর সভাসহ সাতক্ষীরা সদরসহ সকল উপজেলা।
বারান্দা পর্যন্ত পানি, চলাচলের সকল রা¯তা গভীর পানির নীচে। রান্না বান্নার জন্য শুষ্ক জায়গা নেই। পাইখানা, পেসাব খানার কোথাও অস্তিত্ব নেই। নারী ও শিশুদের অবস্থা অত্যাšত অমানবিক। মৃতব্যক্তিদের মুসলিম সম্প্রদায় জেলার অন্যত্র কোন আত্নীয়ের উচু বাড়ী অথবা সরকারী গোরস্থানে আর হিন্দুরা পরপর কয়েকটি কলাগাছ দিয়ে উচু ভেলা বানিয়ে সৎকার করতে হয়। সাতক্ষীরার মানুষের এটাই নিয়তি হয়ে গেছে।
সাতক্ষীরা জেলা দক্ষিণ পশ্চিম উপকুলীয় এলাকার শেষ সাগর সংলগ্ন জেলা। জেলার উপর দিয়ে গঙ্গার প্রধান দু শাখার জলধারা (কপোতাক্ষ ও ইছামতি) সাগরে যুক্ত হয়েছে। আবার সাগর সংলগ্ন হওয়ায় জোয়ার ভাটার প্রভাব নদী সমুহকে জীবšত রাখবে এটাই স্বাভাবিক। গঙ্গার পানি সাগরে যাওয়া ও সাগরের জোয়ার ভাটার প্রবাহের কারনে অসংখ নদী খাল ছড়িয়ে রয়েছে জেলার মধ্যে। কিন্তু তারপরও পানিবন্দি হয়ে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা।
সাগর সংলগ্ন জেলা ও অসংখ্য নদী খালের অস্থিত্ব থাকার পরও পানি বের হচ্ছে না কেন ? এর জন্য দায়ী কে ? উত্তর হলো: নদীর উপর অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, জোয়ার-ভাটা বন্ধ করা, নদী-খাল মাছ চাষের নামে লীজ দেওয়া ও অবৈধ দখল হওয়া । পানি নিষ্কাশনের পথ সমুহ ব্যক্তির মুনাফা অর্জনের বাহন বানানো। সবচেয়ে বড় বিষয়টি হলো রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে উন্নয়নের নামে অপ-উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন করা। ক্ষমতা গ্রহনকারীরা তাদের নিবেদিত সৈন্য সামšতদের কিছুটা আর্থিক সুবিধা দিতে ব্যপক ভাবে ভুমি দখলের নামে নদী খাল দখল করে থাকে সকল সরকারের সময়।
৬০ এর দশকে বিশেষ করে ৬২ সালের সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর মাধ্যমে মিষ্টি পানির আধার তৈরী আর কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি তথা সবুজ বিপ্লবের নামে নদী শাসন করার পরিকল্পনায় বাঁধ নির্মানের মাধ্যমে পোল্ডারের সৃষ্টি করা হয় সাতক্ষীরাতে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সমুহ ধ্বংশ করা হয়। সাগরের জোয়ার ভাটার নোনা পানি আর উজানের মিষ্টি পানির সংমিশ্রনে এলকার ভূমি গঠন আদিকাল থেকে হয়ে আসছে। এ সংমিশ্রনের কারনে নদীতে জোয়ার ভাটার প্রভাবে সৃষ্ট শ্রোতে নদীর নব্যতা সৃষ্টি হতো প্রাকৃকিত ভাবে। আবার জোয়ার আসা পলি পড়ে পড়ে ভূমিকে উচু যেমন করতো. তেমনি উর্বতাও শক্তি থাকতো মাটিতে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাধঁ ব্যবস্থাপনা নদী প্রবাহকে নষ্ট করে দেয়। ফলে স্রোত বিহীন নদী আস্তে আস্তে পলি জমে উচু হতে শুরু করে। ভুমি গঠন সম্পূর্ন না হওয়ায় ভুমি ডেবে যাওয়া অব্যহত থাকায় বিল এলাকা নিচু হয়ে পড়ে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রমুখ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের নামে নদীর বুকে নির্মান করে স্থাপনা। জনগনের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ এলাকার জীববৈচিত্র, স্থায়ীত্বশীল জীবন জীবিকার বিষয় অজ্ঞতা হেতু স্থাপনা নির্মানে একের পর এক অনুমতি পত্র প্রদান করেন। সাতক্ষীরার জলবদ্ধতার শুরু আজ থেকে নয়। অনেক আগে থেকে এর পদধ্বনি মানুষ শুনতে পায়। জলবদ্ধতা নিয়ে বিগত কয়েক বছরে কয়েক শত সভা আলোচনা ও কয়েক সহস্র প্রবন্ধ, গবেষনা পত্র প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু তারপরও পাউবোসহ সংশ্লিষ্ঠদের দিয়ে সমাধানের রা¯তা খোজেন নীতিপ্রনেতাবৃন্দ।
সাতক্ষীরার প্রধান প্রধান নদী সমুহ আজ প্রবাহহীন। প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার বরার্দ্দ করা হয় নদী খননের জন্য। বিশাল বিশাল পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু সরকারী টাকা শুধু স্থান পরিবর্তন ছাড়া কাজ কিছু হয় না। বর্ষা আসে, মানুষ জলমগ্ন হয়। ফসল ধ্বংশ, মানুষ কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করে। অধিকাংশ মানুষ সম্পদ হারায় আর অল্প মানুষের হাতে সে সম্পদ চলে যায়। এ যেন একটি অলিখিত কবিতা।
নদীর প্রবাহ না থাকলে নদী মরে যাবে। শুধু এক মুখো পানি সরিয়ে নদী বাঁচিয়ে রাখা যায় না। নদী ধ্বংশের প্রধান কারণ একমুখি স্লুইজ গেট। যেটি পানি উন্নয়ন বোর্ড একের পর একটি করেন। রাস্তা বানানো বিভাগ রা¯তা তৈরীর সময় নদীর প্রস্থতা বিবেচনা না করে নদী অপেক্ষা অনেক ছোট করে স্লুইজ গেট ও পুল নির্মান করে থাকেন। আবার এ পুল গুলোতে এতগুলো পিলার দিয়ে দেন যে নদী দ্রুত মৃত্যুর দিকে এগোয়। সাতক্ষীরার আজ সংকটের জন্য প্রধান অপরাধী পানি উন্নয়ন বোর্ড, দ্বিতীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ঠ নির্মান কতৃপক্ষ। এর সাথে যুক্ত নদী খাল বন্দব¯ত প্রদানকারী কতৃপক্ষ। জনপ্রতিনিধিরাও এর বাইরে নন।
সাতক্ষীরার প্রধান দু নদী কপোতাক্ষ ও ইছামতি। সাতক্ষীরার ভুমি গঠনে এ দু নদীর ভুমিকা প্রধান। আবার সাগর সংলগ্ন হওয়ায় জোয়ার ভাটার প্রভাবও গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখে এ অঞ্চল গঠনে। সাগর যুক্ত নদী গুলো হলো খোলপেটুয়া, রায়মঙ্গল, মালঞ্চ, চুনার, আড়পাংশিয়া প্রভৃতি। কপোতাক্ষ ইছামতির যুক্ত নদীসহ বেতনা, লাবন্যবতি, আদি যমুনা, মরিচ্চাপ ইত্যাদি। এছাড়া বৃটিশ শাষনকালে প্রধানত তিনটি সংযোগ খাল কেটে নদী প্রবাহের সাথে যুক্ত করা হয়, যে গুলো পরবর্তীতে জেলার আন্তঃনদী সংযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। সাতক্ষীরা শহরের মধ্যদিয়ে প্রাণ সায়ের.( বেতনার সাথে মরিচ্চাপন নদীর সংযোগ, কোলকাতার খাল, লাবন্যবতির সাথে এলারচর হয়ে মারচ্চাপ নদীর সাথে যুক্ত), কালিগজ্ঞের কাকশিয়ালী (আদি যমুনা নদী হতে শুরু হয়ে ত্রিমোহনীতে খোলটেয়ার শাখা গণঘেষিয়া নদীর সাথে যুক্ত) এবং শ্যামনগরে চেীদ্দরশি খাল ( খোলপেটুয়া – কপোতাক্ষ সংযোগ) ।
সাতক্ষীরা জেলার সকল খাল নদী সমুহ পরস্পর যুক্ত এবং একে অন্যের পানি কখনও নিজে ধারন করেছে, কখনও বহন করে নিয়ে প্রবাহের ধারা সচল রেখেছে। আবার সাগরের সাথে একাকার হয়ে গেছে। নদী সমুহের পরস্পর সংযুক্ত প্রবাহ সাতক্ষীরাকে অন্য এলাকা থেকে পৃথক বৈশিষ্ঠ দিয়েছে। মিষ্টি ও নোনা পানির সংমিশ্রনে এলাকার প্রতিবেশ ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেছে। ফলে এলাকাতে কোন ধরনের পরিকল্পনা গ্রহন কালে প্রাকৃতিক এ বৈশিষ্ঠ বিবেচনা করা ছিল যুক্তিযুক্ত। যা অবকাঠামো নির্মানকারী দপ্তর, এমনকি নীতি প্রনয়নকারী কতৃপক্ষও বিবেচনায় আনেন নি। ফলে অবিবেচনা প্রসুত গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনার খেসারত আজ দিতে হচ্ছে সাতক্ষীরার মানুষদের।
সাতক্ষীরার উপর দিয়ে প্রবাহিত বর্তমানে একমাত্র প্রবাহমান নদী ইছামতি। উৎপত্তিস্থল ভারতে হওয়ায় বছরের ৭/৮ মাস উজানের পানি প্রবাহ থাকে এই নদীতে। ১৯৭২/৭৩ সালে স্থানীয় জনগণের প্রবল বাধা উপেক্ষা করে ইছামতি-লাবন্যবতির নদীর সংযোগস্থল দেবহাটার শাখরায় ১৫ ভেন্টের একটি স্লুুইস গেট নির্মাণ করা হয়। একই সময়ে ইছামতির ভাতশালা নামক স্থানে সাপমারা নদীর সংযোগ স্থলে আরো একটি স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়। লাবন্যবতি ও সাপমারা নদীর অপর প্রান্তে মরিচ্চাপের সংযোগস্থলে টিকেট, কামালকাটি, শালখালী, বালিথাসহ বিভিন্ন স্থানে আরো অসংখ্য স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়। আর এ কারণেই অল্প দিনের মধ্যেই লাবন্যবতি, সাপমারা, মরিচ্চাপ নদী এবং তার অসংখ্য শাখা খাল অস্তিত্ব হারায়। যার প্রভাবে বেতনা ও খোলপেটুয়া নদীও নাব্যতা হারায়। ফলে নদী-খালগুলো অল্পদিনেই ভরাট হয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিক বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে এসব নদীগুলো। বৃষ্টিপাত একটু হলেই এলাকা প্লাবিত হয় হয়। নদীর প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় রোদে শুকানো ছাড়া পানি কমার পথ খুবই কম।
এমতাবস্থায় গত দুই দশক ধরে সাতক্ষীরার মানুষ ইছামতি নদীর সাথে সাতক্ষীরার অন্যান্য নদীগুলোর পূর্বের ন্যায় জোয়ার-ভাটার সম্পর্ক পূর্র্ণস্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে। কারণ ইছামতির জোয়ারের পানি ভাটি হয়ে নামতো লাবন্যবতি, সাপমারা, মরিচ্চাপ, খোলপেটুয়া, আদি যমুনা নদী দিয়ে। আবার এসব নদীর জোয়ারের পানি ইছামতি নদীতে ভাটি হয়ে নামতো। আর এর সাথে দূরবর্তী হলেও সংযোগ ছিল বেতনা এবং কপোতাক্ষের। ফলে নদীতে পলি জমার কোন সুযোগই ছিল না। কিন্তু স্লূইস গেট নির্মাণ করে সে পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। এখন যত প্রকল্পই নেয়া হোক না কেন জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি ছাড়া সাতক্ষীরার বর্তমান সমস্যা সমাধানের অন্য কোন বিকল্প নেই।
বেতনা একটি শাখা সাতক্ষীরার খেজুর ডাঙ্গি এলাকা হয়ে কদমতলা ঝাউডাংগা হয়ে সোনাই নদীতে যুক্ত হয়। এ নদী থেকে একটি খাল কেটে সাতক্ষীরা শহরের মধ্যদিয়ে এলাচর হয়ে মরিচ্চাপের সাথে যোগ করে দেওয়া হয়। যেটি প্রানসায়ের নামে পরিচিত। বেতনার পানি প্রানসায়ের দিয়ে মরিচ্চাপে ও একই ভাবে সোনাই নদীর পানিও প্রানসায়ের হয়ে চলাচল করায় সাতক্ষীরা সদরের লাবসাসহ সমগ্র এলাকা ছিল অবাধ প্রবাহ যুক্ত এলাকা। এলাকাতে আগে কখনও পানি জমা হয়নি বা জলাবদ্ধতা দেখা দেয়নি। কিন্তু বেতনা ও প্রানসায়ের এই সংযোগ খালের খেজুরডাঙ্গিতে ৬ ভেন্টের ¯ুইজ গেট নির্মানের কয়েক বছরের মধ্যে এলাকাটি স্থায়ী জলবদ্ধতার দিকে এগুতে থাকে। সম্প্রতি জনদাবীর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাণ সায়েরের এলাচর স্লুইজগেট অপসারন করে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রাণ সায়ের নূতন প্রাণ কিছুটা হলেও ফিরে পেয়েছে। যদি বিনেরপোতার ধারের খেজুর ডাঙ্গির স্লুইজ গেট অপসারন কর যেত তা হলে সাতক্ষীরা সদরের জলাবদ্ধতধার ৮০ ভাগ নিরশন ঘটতো। একই সাথে বেতনা নদীর নাব্যতা সৃষ্টি হয়ে প্রবাহময় নদী হতো। যা জেলার জন্য আর্শিবাদ স্বরুপ হয়ে উঠতো।
ইছামতি কালিগজ্ঞের বসšতপুর হয়ে আদি যমুনা নদী নাম নিয়ে শ্যামনগরের মধ্যদিয়ে মাদারনদীর সাথে মিশে প্রবাহময় ছিল। মাদার নদী মালঞ্চ নদী সাগরযুক্ত । পানি উন্নয়ন বোর্ড কালিগজ্ঞের নাজিমগজ্ঞে স্লইজগেট নির্মান করে এবং মাদারনদীর সংযোস্থল প্ররোপুরি আটকে দেওয়ায়া আদি যমুনা প্রবাহহীন হয়ে পড়ে। এলাকাবাসী দুই দশক ধরে আন্দোলন করার ফলে মাদার নদীর সংযোগ স্থলে একটি স্লুইজ নির্মান করা হয়েছে। যদিও মানুষের দাবী ছিল উম্মুক্ত করার। এটিতে আপত্তি মানুষের কিন্তু তারপরও সামান্য হলেও নদীর গতি হয়েছে । এলাকার জলাবদ্ধতা কিছুটা কমেছে। আদি যমুনা নদী কয়েক বারের প্রকল্পে কিছুটা প্রশস্ত হয়েছে। কিন্তু এখনও অনেক এলাকা অবৈধ্য দখলদারদের দখলে। আর ইছামতি- মাদার নদীর প্রবাহ অবাধ কর দরকার।
সাতক্ষীরা পানি নিন্মমুখি হয়ে খোলপেটুয়া নদী দিয়ে সাগরে পড়ার একমাত্র মাধ্যম। সম্প্রতি সেখানে একটি বিশাল চর জেগে উঠছে (শ্যামনগরের কশিমাড়ী ু পদ্মপুকুরের মধ্য)। এ চরটিকে যদি এখনই ড্রেজিংএর মাধ্যমে অপসারিত না করা যায় তা হলে আগামী ১০ বছর পড়ে সাতক্ষীরার পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। যা সমুহ বিপদ ডেকে আনবে সমগ্র এলাকার জন্য।
কপোতাক্ষ নদের যে ধারাটি সাগরের আড়পাংশিয়া নদীর সাথে যুক্ত ছিল। এমনি তেই কপোতাক্ষে র উপরের ধারা বিচ্ছিন্ন ছিল , তারপরও যে প্রবাহটুকু ছিল সেটি সরকারের একটি অপপরিকল্পনায় আশাশুনি-পাইকগাছার মধ্যস্তটি সুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে যায়। ফলে সুন্দরবনাঞ্চেলে মিষ্টি পানি যাওয়ার ধারা অনেক কমে গেছে।
সাতক্ষীরা দক্ষিণকূল শ্যামনগরের মধ্যে সাগরকূলে গড়ে উঠেছে পৃথিবীর বিখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। সাগরকুলে গড়ে উঠা এ বন সুজনে প্রধান ভুমিকা হচ্ছে নোনা ও মিষ্টি পানির সংমিশ্রন। নদী অপরিকল্পিত শাসনের ফলে মিষ্টি পানির উৎস্য কমে যাওয়ায় সুন্দরবনের উপর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এ সুন্দবন এলাকায় ছিল সবচেয়ে বড় মাছের প্রজজন কেন্দ্র। সাগরের অধিকাংশ মাছের ডিম সুন্দরবন এলাকাতে ছাড়তে চলে আসতো। এখানে মিষ্টি পানির প্রভাবে নোনার মাত্রা বেশ কিছুটা হ্রাস পেত। কিন্তু বর্তমানে সেটিও ধ্বংশ হওয়ার উপক্রম।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোর মুন্সিগজ্ঞ এবং খুলনা সাতক্ষীরা সড়ক নির্মান কালে সাতক্ষীরার বেতনা, লাবণ্যবতী, কোলকাতার খাল, প্রাণসায়ের ও আদি যমুনাসহ অসংখ্যা নদী খালের প্রবাহ বাধাগ্রস্থ করে ও কোথাও পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। সড়ক জনপথ বিভাগের নির্মিত সকল ব্রীজই পাউবোর পর নদী সমুহের ধ্বংশ করার কাজটি ত্বরানিত করে।
সামগ্রিক ভাবে সাতক্ষীরাকে রক্ষা করতে ইছামতি নদীর প্রবাহ সাগরে যাওয়া পথ উম্মুক্ত করা আর জোয়ার ভাটার প্রবাহের বাধা অপসারন করা ছাড়া বিকল্প নেই। নদীর স্বাভাবিক গতি পথই তৈরী করতে পারে জলমগ্ন অবস্থা মুক্ত সাতক্ষীরা। আর এটা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন নীতি নির্ধারক মহল তত দ্রুত মানুষ নিস্কৃতি পাবে এ সংকট থেকে। শুধু জনপথ নয় সুন্দরবন রক্ষায় ইছামতি নদী ও কপোতাক্ষ নদের সাগরের সাথে যুক্ত প্রবাহ বাধা মুক্ত করা দরকার। দরকার খোলপেটুয়া নদীর জোয়ার ভাটা স্বাভাবিক রাখ।