আজ ১১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
ভোমরার হালিম মাস্টারের বিরুদ্ধে মাদক সাম্রাজ্য গড়ার অভিযোগ আশাশুনিতে জলবায়ু সহনশীল উপকূল গড়তে লিডার্সের  উন্নয়ন প্রশিক্ষণ  আশাশুনিতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘরে ঢুকে নারীদের মারপিট  অনিয়ম-দুর্নীতির গ্যাড়াকলে বিপর্যস্ত নলতা আহছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজ সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের ‘বিকৃত প্রচারের’ অভিযোগ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস কালিগঞ্জে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলচেষ্টাও হামলা রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কোথায়? এক মাসের মধ্যে শাখরা-কোমরপুর সেতুর সংস্কারকাজ শুরুর ঘোষণা দিলেন আব্দুর রউফ উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের ‘বিকৃত প্রচারের’ অভিযোগ

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের একটি বক্তব্যের অংশবিশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে জেলায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসকের দাবি, তার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যদিকে বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ওলামা মাশায়েখ পরিষদ, সাতক্ষীরা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের একটি অংশ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাঁকে ‘সাতক্ষীরায় ধর্মান্ধতা চলে এসেছে’এমন মন্তব্য করতে দেখা যায়। পরে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্টও দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত ক্লাব ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। এতে জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতুল্লাহ (পলাশ) এবং সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলুসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, আমি বারবার সব জায়গায় বলছি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকাতেও খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দিতে হবে। আপনারা যারা ক্রীড়ামোদী ও ক্রীড়া সংগঠক আছেন, তারা ক্রীড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কাজ করবেন। অনেকেই বলে সাতক্ষীরায় যে ধর্মান্ধতা চলে এসেছে। তাহলে সেটা আর বলবে না।

এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কিছু অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা দুঃখজনক। জেলা প্রশাসক ‘ধর্মান্ধ’ শব্দটি কোনো ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে হেয় করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি। বরং খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রসারের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বক্তব্যের আংশিক ও বিকৃত উপস্থাপনার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বক্তব্যকে তার প্রকৃত প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে ভিন্নভাবে প্রচার করা দায়িত্বশীলতার পরিপন্থী। জেলা বিএনপি এ ধরনের অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় এবং সবাইকে বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানায়।

এদিকে বুধবার বিকেলে শহরের নিউমার্কেট মোড়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ওলামা মাশায়েখ পরিষদ, সাতক্ষীরা জেলা শাখা।

সমাবেশে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আলেম-ওলামা, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের বক্তব্য সাতক্ষীরার ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং জেলার মানুষের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে।

জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একজন অসাম্প্রদায়িক কবি। তার স্মরণে এ বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও শিল্পকলা একাডেমিকে সঙ্গে নিয়ে আমরা নজরুল বর্ষের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, আমার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হয়েছে। পুরো বক্তব্য দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

ভোমরার হালিম মাস্টারের বিরুদ্ধে মাদক সাম্রাজ্য গড়ার অভিযোগ

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের ‘বিকৃত প্রচারের’ অভিযোগ

আপডেট সময়: ০২:৫১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের একটি বক্তব্যের অংশবিশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে জেলায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসকের দাবি, তার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যদিকে বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ওলামা মাশায়েখ পরিষদ, সাতক্ষীরা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের একটি অংশ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাঁকে ‘সাতক্ষীরায় ধর্মান্ধতা চলে এসেছে’এমন মন্তব্য করতে দেখা যায়। পরে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্টও দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত ক্লাব ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। এতে জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতুল্লাহ (পলাশ) এবং সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলুসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, আমি বারবার সব জায়গায় বলছি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকাতেও খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দিতে হবে। আপনারা যারা ক্রীড়ামোদী ও ক্রীড়া সংগঠক আছেন, তারা ক্রীড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কাজ করবেন। অনেকেই বলে সাতক্ষীরায় যে ধর্মান্ধতা চলে এসেছে। তাহলে সেটা আর বলবে না।

এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কিছু অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা দুঃখজনক। জেলা প্রশাসক ‘ধর্মান্ধ’ শব্দটি কোনো ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে হেয় করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি। বরং খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রসারের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বক্তব্যের আংশিক ও বিকৃত উপস্থাপনার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বক্তব্যকে তার প্রকৃত প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে ভিন্নভাবে প্রচার করা দায়িত্বশীলতার পরিপন্থী। জেলা বিএনপি এ ধরনের অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় এবং সবাইকে বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানায়।

এদিকে বুধবার বিকেলে শহরের নিউমার্কেট মোড়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ওলামা মাশায়েখ পরিষদ, সাতক্ষীরা জেলা শাখা।

সমাবেশে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আলেম-ওলামা, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের বক্তব্য সাতক্ষীরার ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং জেলার মানুষের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে।

জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একজন অসাম্প্রদায়িক কবি। তার স্মরণে এ বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও শিল্পকলা একাডেমিকে সঙ্গে নিয়ে আমরা নজরুল বর্ষের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, আমার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হয়েছে। পুরো বক্তব্য দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।