সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ ও অনিয়মের খবর প্রকাশ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিতে চরম উত্তেজনা ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ সাতক্ষীরা অঞ্চলের মানুষকে নিয়ে তার একটি কুরুচিপূর্ণ ও বিতর্কিত অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বর্তমানে তিনি লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে গত দুই দিন ধরে কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে বের হচ্ছেন না বলে জানা গেছে। গত ২২ জুন রাতে কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের একটি গ্রুপে একটি অডিও রেকর্ড ভাইরাল হয়। উক্ত অডিওতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীরকে বলতে শোনা যায়, সাতক্ষীরার মানুষ ভালো না। জামায়াতে ইসলামী ছাড়া বাদবাকি যারা আছে সব বেজন্মা। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা এই অডিওর বিষয়ে অধ্যক্ষের মুখোমুখি হলে তিনি দাবি করেন, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অডিওটি বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার দাবি জানালে অধ্যক্ষ কোনো সদুত্তর না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং যেকোনো সময় তিনি গণধোলাইয়ের শিকার হতে পারেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। লাগাতার সংবাদ প্রকাশ এবং দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রায় সকল শিক্ষক ও কর্মচারীকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। এই সন্দেহের বশবর্তী হয়ে আজ ২৪ জুন (বুধবার) অত্র প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি, যা নাগরিকের ব্যক্তিগত অধিকার ও গোপনীয়তার চরম লঙ্ঘন বলে শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আর্থিক দুর্নীতির নতুন অভিযোগের পাহাড় এবং সমস্ত প্রমাণ ফাঁসের দ্বারপ্রান্তে থাকায় গত ২৩ জুন (মঙ্গলবার) রাতে অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর আত্মহত্যার একটি নাটক মঞ্চস্থ করেন বলে জানা গেছে। তবে এর পরপরই তিনি আবার চাঙ্গা হয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী নানাবিধ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিজের পক্ষে সাফাই গাইতে এবং বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে দুই সাংবাদিককে প্রায় ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জোরপূর্বক ভিডিও বক্তব্য দিতে বাধ্য করেন। সরকারি তহবিল থেকে এই ২০ হাজার টাকা অফিসের হিসাবরক্ষক নয়ন বিল্লাহ দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ইতিপূর্বে যেসব টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, সেইসব কেনাকাটার পণ্যগুলো যেকোনো সময় রাতের অন্ধকারে প্রতিষ্ঠানে ঢুকিয়ে প্রমাণ লোপাটের জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন অভিযুক্ত অধ্যক্ষ। বর্তমানে কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে এক চরম ভয়ভীতি, শঙ্কা ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। ইতিপূর্বে একাদশ শ্রেণির ছাত্রদের গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়া (শারীরিক নির্যাতন), আর্থিক অনিয়ম, আঞ্চলিক বিদ্বেষ ছড়ানোসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত এই বিতর্কিত অধ্যক্ষের দ্রুত অপসারণ দাবি করেছেন ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। তাদের মতে, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে স্থানীয় জনগণের ক্ষোভ ও লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা করতে তাকে অবিলম্বে এই প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে নেওয়া জরুরি।এবিষয়ে বক্তব্য জানতে কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর আমি একটি প্রতিবাদলিপি পত্রিকায় দিয়েছি, সেটি নিশ্চয়ই দেখেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কলেজে এসে সরাসরি কথা বলুন। তবে মোবাইল ফোনে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (ভোকেশনাল) প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওঠা যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় অধিদপ্তর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানাই।
সংবাদ শিরোনাম:
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস
-
মোহাম্মদ মুজাহিদ - আপডেট সময়: ০২:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- ১১ বার পড়া হয়েছে
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"remove":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}
ট্যাগস:
জনপ্রিয়











