আজ ১১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় সাতক্ষীরায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এর জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা নিখোঁজের ১৫ বছর: আবু সেলিমের সন্ধান কামনায় সাতক্ষীরায় দোয়া মাহফিল আলিপুর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি পুকুরের ঘাট নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন সত্য ও সাহসের আলোকযাত্রায় ১১ বছরে দক্ষিণের মশাল প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬: সাতক্ষীরায় সেরাদের জয়গান সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে ডিসির প্রেস ব্রিফিং বর্জন ‘যে রইদ দের, পানি কমাইয়া দিলে মাইনসে কিছু ধান আনতো পারলোনে’

নতুন বইয়ের গন্ধে সাতক্ষীরার শিশুরা

  • আব্দুর রহমান
  • আপডেট সময়: ০৯:২৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৮৩ বার পড়া হয়েছে

নতুন বছরের প্রথম সকাল। শীতের হালকা কুয়াশা ভেদ করে সাতক্ষীরার গ্রাম-শহরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে জমেছে উৎসবের আমেজ। রঙিন ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুল প্রাঙ্গণে ছুটে এসেছে শিশুরা। শিক্ষক ও অভিভাবকদের কোলাহলের মাঝে একে একে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে নতুন বই- নতুন স্বপ্নের সঙ্গী। বইয়ের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে পড়ছে কালি ও কাগজের চেনা গন্ধ, যা বহু শিশুর কাছে বছরের প্রথম আনন্দ। সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ১ হাজার ৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪৭ কপি পাঠ্যবইয়ের চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বই বিতরণ নিশ্চিত হয়েছে। বাংলা মাধ্যমের পাশাপাশি ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীরাও নতুন বছরের প্রথম দিনেই সম্পূর্ণ বই পেয়েছে।
সদর উপজেলার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি নতুন বই বুকে জড়িয়ে বলল, “এবার আমি নিজে নিজে পড়তে শিখব।” পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার মা জানান, বছরের প্রথম দিনেই বই পেয়ে সন্তানদের আগ্রহ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। শিক্ষকরা বলছেন, সময়মতো বই পাওয়ায় পাঠদান কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত স্কুলে আসার আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনি প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের পথও আরও মজবুত হচ্ছে। নতুন বছরের প্রথম দিনে সাতক্ষীরার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তাই শুধু বই বিতরণ হয়নি- বিতরণ হয়েছে স্বপ্ন, আশা আর আগামী দিনের আলোকিত ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমীন বলেন, “নতুন বই শিশুদের মনে নতুন স্বপ্ন ও অফুরন্ত আনন্দ জাগায়। তাদের কল্পনার জগৎকে প্রসারিত করে এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা জোগায়। নতুন ক্লাসের উত্তেজনা ও বইয়ের ঘ্রাণ মিলে শিশুদের মধ্যে এক অসাধারণ অনুভূতির সৃষ্টি হয়, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং নতুন কিছু শেখার প্রেরণা দেয়।” তিনি আরও বলেন, নতুন বছরের প্রথম দিনেই শিশুদের হাতে শতভাগ নতুন বই তুলে দেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

নতুন বইয়ের গন্ধে সাতক্ষীরার শিশুরা

আপডেট সময়: ০৯:২৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন বছরের প্রথম সকাল। শীতের হালকা কুয়াশা ভেদ করে সাতক্ষীরার গ্রাম-শহরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে জমেছে উৎসবের আমেজ। রঙিন ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুল প্রাঙ্গণে ছুটে এসেছে শিশুরা। শিক্ষক ও অভিভাবকদের কোলাহলের মাঝে একে একে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে নতুন বই- নতুন স্বপ্নের সঙ্গী। বইয়ের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে পড়ছে কালি ও কাগজের চেনা গন্ধ, যা বহু শিশুর কাছে বছরের প্রথম আনন্দ। সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ১ হাজার ৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪৭ কপি পাঠ্যবইয়ের চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বই বিতরণ নিশ্চিত হয়েছে। বাংলা মাধ্যমের পাশাপাশি ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীরাও নতুন বছরের প্রথম দিনেই সম্পূর্ণ বই পেয়েছে।
সদর উপজেলার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি নতুন বই বুকে জড়িয়ে বলল, “এবার আমি নিজে নিজে পড়তে শিখব।” পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার মা জানান, বছরের প্রথম দিনেই বই পেয়ে সন্তানদের আগ্রহ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। শিক্ষকরা বলছেন, সময়মতো বই পাওয়ায় পাঠদান কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত স্কুলে আসার আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনি প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের পথও আরও মজবুত হচ্ছে। নতুন বছরের প্রথম দিনে সাতক্ষীরার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তাই শুধু বই বিতরণ হয়নি- বিতরণ হয়েছে স্বপ্ন, আশা আর আগামী দিনের আলোকিত ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমীন বলেন, “নতুন বই শিশুদের মনে নতুন স্বপ্ন ও অফুরন্ত আনন্দ জাগায়। তাদের কল্পনার জগৎকে প্রসারিত করে এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা জোগায়। নতুন ক্লাসের উত্তেজনা ও বইয়ের ঘ্রাণ মিলে শিশুদের মধ্যে এক অসাধারণ অনুভূতির সৃষ্টি হয়, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং নতুন কিছু শেখার প্রেরণা দেয়।” তিনি আরও বলেন, নতুন বছরের প্রথম দিনেই শিশুদের হাতে শতভাগ নতুন বই তুলে দেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য।