চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় প্রায় ৭০টি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরই মধ্যে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের জন্য ভুক্তভোগী গ্রাহকদের কাছে প্রায় ৮৭ হাজার টাকা দাবি করেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন গ্রামের নিম্নআয়ের মানুষ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার মিরসরাই সদর ইউনিয়নের পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদ গ্রামে এ ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ওয়াজিউল্যাহ জানান, ফজরের নামাজের সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক লোডশেডিং বলে মনে করেছিলেন তাঁরা। পরে সকালে আলো ফুটলে দেখা যায়, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমারটি চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
চুরির পর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তীব্র গরমে গ্রামবাসীর দুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা কামাল পাশা ও মাস্টার আজম বলেন, প্রচণ্ড গরমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদের মুসল্লিদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় বাসাবাড়ির ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা জানান, ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে নতুন ট্রান্সফরমার বরাদ্দের জন্য ৮৭ হাজার টাকা জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা দরিদ্র ও দিনমজুর হওয়ায় হঠাৎ করে এত টাকা সংগ্রহ করা তাঁদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পল্লী বিদ্যুতের প্রচলিত নিয়মে কোনো এলাকায় প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন যন্ত্র স্থাপনের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে মূল্যের অর্ধেক টাকা নেওয়া হয়। একই এলাকায় দ্বিতীয়বার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমারের পুরো মূল্য গ্রাহকদের বহন করতে হয়।
বিদ্যুৎ অফিসের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের দাম প্রায় ৫৩ হাজার টাকা, ১০ কেভিএর দাম প্রায় ৮৩ হাজার টাকা, ১৫ কেভিএর দাম ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা এবং ২৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। ফলে ট্রান্সফরমার চুরির পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি নতুন যন্ত্র স্থাপনের খরচ নিয়েও গ্রাহকদের বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর আওতাধীন জোরারগঞ্জ, ধুম, ওসমানপুর ও মিরসরাই সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে রাতের আঁধারে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আজহার উদ্দিন বলেন, পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদে ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে গ্রাহকেরা দাপ্তরিকভাবে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষ প্রতিনিধি 




















