আজ ১২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
সাতক্ষীরায় দলিল লেখক মিজানের ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার নামজারি বাণিজ্য আশাশুনি প্রেসক্লাবের দ্বিতল ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি মুহাদ্দিস রবিউল বাশার মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে চিরকুট, নালিতাবাড়ীতে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষা—বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা গণপিটুনিতে মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন সফর সংক্ষিপ্ত, কূটনৈতিক কর্মসূচি বিস্তৃত: নিউইয়র্কে তারেক রহমান অষ্টম শ্রেণি পাসের সনদে স্ট্যাম্প ভেন্ডার! সাতক্ষীরায় প্রশ্নের মুখে লাইসেন্স প্রক্রিয়া নারীর হাতে সেলাই মেশিন, পাহাড়ি পরিবারে সচ্ছলতার প্রত্যাশা ডাকসু আর্কাইভে ইতিহাসের মুখোমুখি নতুন প্রজন্ম সাতক্ষীরায় তিন দিনব্যাপী ইয়ুথ লিডারশিপ ট্রেনিং অনুষ্ঠিত

পাটকেলঘাটা ভূমি অফিসে নায়েবের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"resize":1,"adjust":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) তারক চন্দ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে তিনি একটি দালালচক্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, দালালদের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সাতক্ষীরা শহরে নায়েবের ভাড়া বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

             নামজারিতে ঘুষের অভিযোগ

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, নামজারি (মিউটেশন) মামলার কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও ১ থেকে ২ হাজার টাকা না দিলে ফাইলে স্বাক্ষর করতে গড়িমসি করা হয়। কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি থাকলে অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় মামলা খারিজ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বড় কাশিপুর গ্রামের রফিকুল শেখ অভিযোগ করেন, ওয়ারিশ সূত্রে জমির নামজারি করতে গেলে নায়েবকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে ফাইলে স্বাক্ষর করা হয় না বলে দাবি তাঁর।

  খাজনা আদায়েও অতিরিক্ত অর্থের অভিযোগ

সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগও করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।

সরুলিয়া ইউনিয়নের শেখ রুবেল ইসলাম জানান, তাঁর বাবার জমির খাজনা দিতে গেলে নায়েব ২০ হাজার টাকা খরচের হিসাব দেন। ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অফিসের অন্য এক কর্মচারীর মাধ্যমে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় খাজনা পরিশোধ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

কুমিরা ইউনিয়নের নাজমুল অভিযোগ করেন, নিজ জমির খাজনা দেওয়ার জন্য কাগজপত্র একজনের মাধ্যমে পাঠালে তাঁর কাছে ৯ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি নিজে অফিসে গেলে অন্য এক কর্মচারীর মাধ্যমে ৮৩৫ টাকায় খাজনা পরিশোধ করতে সক্ষম হন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভূমি অফিসে সরকারি নির্ধারিত ফি ও প্রকৃত খরচ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় সাধারণ মানুষ দালালদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। তারা দ্রুত তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে তালা উপজেলা প্রশাসন ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সেবাগ্রহীতা ও এলাকাবাসী।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডল অভিযোগগুলো মিথ্যা দাবি করে বলেন, নামজারি বাবদ সরকারের নির্ধারিত ফির বাইরে তিনি কোনো টাকা গ্রহণ করেন না।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

সাতক্ষীরায় দলিল লেখক মিজানের ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার নামজারি বাণিজ্য

পাটকেলঘাটা ভূমি অফিসে নায়েবের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময়: ১২:০৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) তারক চন্দ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে তিনি একটি দালালচক্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, দালালদের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সাতক্ষীরা শহরে নায়েবের ভাড়া বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

             নামজারিতে ঘুষের অভিযোগ

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, নামজারি (মিউটেশন) মামলার কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও ১ থেকে ২ হাজার টাকা না দিলে ফাইলে স্বাক্ষর করতে গড়িমসি করা হয়। কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি থাকলে অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় মামলা খারিজ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বড় কাশিপুর গ্রামের রফিকুল শেখ অভিযোগ করেন, ওয়ারিশ সূত্রে জমির নামজারি করতে গেলে নায়েবকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে ফাইলে স্বাক্ষর করা হয় না বলে দাবি তাঁর।

  খাজনা আদায়েও অতিরিক্ত অর্থের অভিযোগ

সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগও করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।

সরুলিয়া ইউনিয়নের শেখ রুবেল ইসলাম জানান, তাঁর বাবার জমির খাজনা দিতে গেলে নায়েব ২০ হাজার টাকা খরচের হিসাব দেন। ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অফিসের অন্য এক কর্মচারীর মাধ্যমে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় খাজনা পরিশোধ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

কুমিরা ইউনিয়নের নাজমুল অভিযোগ করেন, নিজ জমির খাজনা দেওয়ার জন্য কাগজপত্র একজনের মাধ্যমে পাঠালে তাঁর কাছে ৯ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি নিজে অফিসে গেলে অন্য এক কর্মচারীর মাধ্যমে ৮৩৫ টাকায় খাজনা পরিশোধ করতে সক্ষম হন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভূমি অফিসে সরকারি নির্ধারিত ফি ও প্রকৃত খরচ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় সাধারণ মানুষ দালালদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। তারা দ্রুত তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে তালা উপজেলা প্রশাসন ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সেবাগ্রহীতা ও এলাকাবাসী।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডল অভিযোগগুলো মিথ্যা দাবি করে বলেন, নামজারি বাবদ সরকারের নির্ধারিত ফির বাইরে তিনি কোনো টাকা গ্রহণ করেন না।