আজ ১২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় সাতক্ষীরায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এর জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা নিখোঁজের ১৫ বছর: আবু সেলিমের সন্ধান কামনায় সাতক্ষীরায় দোয়া মাহফিল আলিপুর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি পুকুরের ঘাট নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন সত্য ও সাহসের আলোকযাত্রায় ১১ বছরে দক্ষিণের মশাল প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬: সাতক্ষীরায় সেরাদের জয়গান সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে ডিসির প্রেস ব্রিফিং বর্জন ‘যে রইদ দের, পানি কমাইয়া দিলে মাইনসে কিছু ধান আনতো পারলোনে’ সাতক্ষীরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত

সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে ডিসির প্রেস ব্রিফিং বর্জন

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৭:৫৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • ১০৮ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা জেলার নবাগত জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের প্রেস ব্রিফিং বর্জন করেছেন জেলায় কর্মরত প্রায় ৬০ জন সাংবাদিক। বুধবার (১৩ মে) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রম উপলক্ষে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত হলেও সম্মেলন কক্ষে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা ছিল না। এতে অনেক সাংবাদিককে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সাংবাদিকদের দাবি, সম্মেলন কক্ষে পেশাদার সাংবাদিকদের তুলনায় অপসাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যক্তিদের উপস্থিতি বেশি ছিল। ফলে মূলধারার অনেক সাংবাদিক বসার জায়গা পাননি। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে ব্রিফিংটি দ্বিতীয় ধাপে আয়োজনের অনুরোধ জানান। এ সময় জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, দ্বিতীয়বার প্রোগ্রাম করার সুযোগ নেই; আগে এলে বসার জায়গা পাওয়া যেত।

এ বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে একযোগে সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। পরে জেলা তথ্য অফিসার জাহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি আবুল কাশেম বলেন, “সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসক অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এর প্রতিবাদেই আমরা প্রেস ব্রিফিং বর্জন করেছি।” তিনি জানান, সেখানে প্রায় ৬০ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপ্পি বলেন, “একজন জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। তিনি নিজেই নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধাঘণ্টা পরে সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করেছেন, অথচ সাংবাদিকদেরই দোষারোপ করেছেন।”

সাংবাদিক নেতারা আরও বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম সম্মান ও বসার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

প্রেস ব্রিফিং বর্জন করে বেরিয়ে আসা সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যানার্জি, আরটিভির রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, দক্ষিণের মশালের সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেকী ইলাহী, নির্বাহী সম্পাদক শেখ হাসান গফুর, বার্তা সম্পাদক আব্দুর রহমান, এটিএন বাংলার এম কামরুজ্জামান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি আবুল কাশেম, বাংলাভিশনের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান, ডিবিসি নিউজের এম বেলাল হোসেন, এখন টেলিভিশনের আহসান রাজিব, যমুনা টেলিভিশনের আকরামুল ইসলাম, এশিয়ান টিভির মশিউর রহমান ফিরোজ, নাগরিক টিভির কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি, স্টার নিউজের গাজী ফরহাদ, এনপিবির হোসেন আলী, টাইমস টুডে ও বাংলাদেশ বুলেটিনের মিলন বিশ্বাস, ঢাকা পোস্টের ইব্রাহিম খলিলসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়

সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে ডিসির প্রেস ব্রিফিং বর্জন

আপডেট সময়: ০৭:৫৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা জেলার নবাগত জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের প্রেস ব্রিফিং বর্জন করেছেন জেলায় কর্মরত প্রায় ৬০ জন সাংবাদিক। বুধবার (১৩ মে) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রম উপলক্ষে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত হলেও সম্মেলন কক্ষে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা ছিল না। এতে অনেক সাংবাদিককে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সাংবাদিকদের দাবি, সম্মেলন কক্ষে পেশাদার সাংবাদিকদের তুলনায় অপসাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যক্তিদের উপস্থিতি বেশি ছিল। ফলে মূলধারার অনেক সাংবাদিক বসার জায়গা পাননি। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে ব্রিফিংটি দ্বিতীয় ধাপে আয়োজনের অনুরোধ জানান। এ সময় জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, দ্বিতীয়বার প্রোগ্রাম করার সুযোগ নেই; আগে এলে বসার জায়গা পাওয়া যেত।

এ বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে একযোগে সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। পরে জেলা তথ্য অফিসার জাহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি আবুল কাশেম বলেন, “সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসক অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এর প্রতিবাদেই আমরা প্রেস ব্রিফিং বর্জন করেছি।” তিনি জানান, সেখানে প্রায় ৬০ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপ্পি বলেন, “একজন জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। তিনি নিজেই নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধাঘণ্টা পরে সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করেছেন, অথচ সাংবাদিকদেরই দোষারোপ করেছেন।”

সাংবাদিক নেতারা আরও বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম সম্মান ও বসার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

প্রেস ব্রিফিং বর্জন করে বেরিয়ে আসা সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যানার্জি, আরটিভির রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, দক্ষিণের মশালের সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেকী ইলাহী, নির্বাহী সম্পাদক শেখ হাসান গফুর, বার্তা সম্পাদক আব্দুর রহমান, এটিএন বাংলার এম কামরুজ্জামান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি আবুল কাশেম, বাংলাভিশনের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান, ডিবিসি নিউজের এম বেলাল হোসেন, এখন টেলিভিশনের আহসান রাজিব, যমুনা টেলিভিশনের আকরামুল ইসলাম, এশিয়ান টিভির মশিউর রহমান ফিরোজ, নাগরিক টিভির কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি, স্টার নিউজের গাজী ফরহাদ, এনপিবির হোসেন আলী, টাইমস টুডে ও বাংলাদেশ বুলেটিনের মিলন বিশ্বাস, ঢাকা পোস্টের ইব্রাহিম খলিলসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা।