সাতক্ষীরা শহরে ডলার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে কথিত ডলার বাণিজ্য চক্র। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হলেও প্রতিশ্রুত ডলার বা অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পূর্বে প্রকাশিত অভিযোগের পর আরও কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ভুক্তভোগী দাবি করে যোগাযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, একই কৌশলে কম দামে ডলার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকেও লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে ভয়ে কিংবা সামাজিক কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে আসতে চান না।
এদিকে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নাজির খাজা সাহাবুদ্দিন পুনরায় দাবি করেছেন, ২০ হাজার ডলার দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে নেওয়া ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, দুই বছর ধরে আমি শুধু আশ্বাসই শুনছি টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য বহুবার যোগাযোগ করেছি কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং অন্য ভুক্তভোগীদেরও সামনে এসে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান।
অন্যদিকে অভিযুক্ত আল-আমিন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এবং প্রিয় গোপাল বস্ত্র বিপণীর স্বত্বাধিকারী সত্যজিৎ ঘোষ আগের মতোই একে অপরের বিরুদ্ধে দোষ চাপিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। উভয়েই বলেন, খাজা সাহাবুদ্দিনের পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে সেই দাবির পক্ষে কোনো লিখিত প্রমাণ বা গ্রহণযোগ্য নথি দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে খাজা সাহাবুদ্দিন বলেন, তারা টাকা পরিশোধের যে দাবি করছেন সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার পাওনা টাকার এক টাকাও আমি পাইনি। প্রয়োজনে আদালতে সব কাগজপত্র উপস্থাপন করব।
আইনজীবীদের মতে ডলার কেনাবেচার নামে অর্থ গ্রহণ করে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডলার বা টাকা ফেরত না দিলে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা আইনের লঙ্ঘনের বিষয় হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্তকারী সংস্থা ও আদালত।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি শুধু একজন বা দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এর সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। তাই তারা দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আরাফাত আলী, 















