আজ ০২:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
সাংবাদিক মেহেদী হাসান মারুফকে মিথ্যা মামলা মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি  ২৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ টি চীনা যুদ্ধবিমান ক্রয় ২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ আশাশুনিতে গভীর রাতে বসতঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে থানায় এজহার।। নারীসহ আহত-৪ সাতক্ষীরায় শাপলা প্রতিবন্ধী যুব উন্নয়ন সংস্থার কমিটি গঠন ও নির্বাচন সম্পন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৭ পরিবার পেল ৯৭ লাখ টাকার সহায়তা তালায় প্রতিবন্ধী সনাক্তকরণ জরিপ অনুষ্ঠিত বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তালা সদর ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে চালক ও পথচারী উভয়কেই সচেতন হতে হবে : জেলা প্রশাসক সোহাগ পরিবহনের ধাক্কায় সাতক্ষীরায় গুড় ব্যবসায়ী নিহত

‎সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত: রাজনীতির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"resize":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

রাজনীতি কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার প্রতিযোগিতা নয়; এটি সময়কে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার শিল্প। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, অসংখ্য শক্তিশালী দল ও নেতা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে জনসমর্থন হারিয়েছেন। আবার অনেক নেতা ও রাজনৈতিক শক্তি কেবল একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছেন।

তাই রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, জনমতের স্রোত বুঝতে পারা এবং পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির গতিপথ অনুধাবন করা।

‎সঠিক সময়ে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত কখনও একটি রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয়। একইভাবে, ভুল সময়ে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিনের অর্জনকে মুহূর্তেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। রাজনীতিতে প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। সেই সময়কে উপেক্ষা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনেক সময় জনবিচ্ছিন্নতা, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

‎রাজনীতির মূল শক্তি জনগণ। তাই জনমানুষের প্রত্যাশা, আবেগ, ক্ষোভ, স্বপ্ন এবং চাহিদার পরিবর্তন বুঝতে না পারলে কোনো রাজনৈতিক শক্তিই দীর্ঘদিন সফল থাকতে পারে না। জনগণ সব সময় পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের প্রত্যাশা বদলায়। যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই পরিবর্তনের ভাষা বুঝতে পারে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে এবং সময়োপযোগী বার্তা দিতে পারে, জনগণ শেষ পর্যন্ত তাদের ওপরই আস্থা রাখে।

‎বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও এর বাস্তব উদাহরণ রয়েছে। দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগও এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে জনগণের একটি অংশ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, জনমতের পরিবর্তন যথাযথভাবে অনুধাবন করতে না পারা এবং সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ হওয়াই দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। তবে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে কোনো দলই চিরদিনের জন্য অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায় না। যদি কোনো রাজনৈতিক দল অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা, জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই রায় জনগণই দেয়।

‎শুধু বর্তমান পরিস্থিতি নয়, ভবিষ্যতের গতিপথও বুঝতে হয়। সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিবর্তন প্রতিনিয়ত নতুন বাস্তবতা তৈরি করে। একজন দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই পরিবর্তনের আগাম ইঙ্গিত উপলব্ধি করে কৌশল নির্ধারণ করেন। যারা অতীতের সাফল্য নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগেন এবং পরিবর্তিত বাস্তবতাকে অস্বীকার করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারাই পিছিয়ে পড়েন।

‎রাজনীতিতে আবেগের স্থান আছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত হতে হবে বাস্তবতা ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, অহংকার কিংবা অন্ধ আনুগত্য কখনোই সুস্থ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি হতে পারে না। গণমানুষের কল্যাণ, সাংগঠনিক শক্তি, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।

‎ইতিহাসের প্রতিটি সফল রাজনৈতিক আন্দোলনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের সাফল্যের পেছনে ছিল সময়ের দাবি বোঝার সক্ষমতা এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাহস। বিপরীতে, যেসব দল বা নেতৃত্ব সময়ের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা ধীরে ধীরে জনসমর্থন হারিয়ে ইতিহাসের প্রান্তে চলে গেছে।

‎লেখক, ‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা (স্বপ্নদ্রষ্টা: গাজী বাজার)

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

সাংবাদিক মেহেদী হাসান মারুফকে মিথ্যা মামলা মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি 

‎সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত: রাজনীতির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি

আপডেট সময়: ০৫:০৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

রাজনীতি কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার প্রতিযোগিতা নয়; এটি সময়কে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার শিল্প। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, অসংখ্য শক্তিশালী দল ও নেতা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে জনসমর্থন হারিয়েছেন। আবার অনেক নেতা ও রাজনৈতিক শক্তি কেবল একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছেন।

তাই রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, জনমতের স্রোত বুঝতে পারা এবং পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির গতিপথ অনুধাবন করা।

‎সঠিক সময়ে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত কখনও একটি রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয়। একইভাবে, ভুল সময়ে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিনের অর্জনকে মুহূর্তেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। রাজনীতিতে প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। সেই সময়কে উপেক্ষা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনেক সময় জনবিচ্ছিন্নতা, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

‎রাজনীতির মূল শক্তি জনগণ। তাই জনমানুষের প্রত্যাশা, আবেগ, ক্ষোভ, স্বপ্ন এবং চাহিদার পরিবর্তন বুঝতে না পারলে কোনো রাজনৈতিক শক্তিই দীর্ঘদিন সফল থাকতে পারে না। জনগণ সব সময় পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের প্রত্যাশা বদলায়। যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই পরিবর্তনের ভাষা বুঝতে পারে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে এবং সময়োপযোগী বার্তা দিতে পারে, জনগণ শেষ পর্যন্ত তাদের ওপরই আস্থা রাখে।

‎বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও এর বাস্তব উদাহরণ রয়েছে। দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগও এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে জনগণের একটি অংশ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, জনমতের পরিবর্তন যথাযথভাবে অনুধাবন করতে না পারা এবং সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ হওয়াই দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। তবে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে কোনো দলই চিরদিনের জন্য অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায় না। যদি কোনো রাজনৈতিক দল অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা, জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই রায় জনগণই দেয়।

‎শুধু বর্তমান পরিস্থিতি নয়, ভবিষ্যতের গতিপথও বুঝতে হয়। সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিবর্তন প্রতিনিয়ত নতুন বাস্তবতা তৈরি করে। একজন দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই পরিবর্তনের আগাম ইঙ্গিত উপলব্ধি করে কৌশল নির্ধারণ করেন। যারা অতীতের সাফল্য নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগেন এবং পরিবর্তিত বাস্তবতাকে অস্বীকার করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারাই পিছিয়ে পড়েন।

‎রাজনীতিতে আবেগের স্থান আছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত হতে হবে বাস্তবতা ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, অহংকার কিংবা অন্ধ আনুগত্য কখনোই সুস্থ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি হতে পারে না। গণমানুষের কল্যাণ, সাংগঠনিক শক্তি, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।

‎ইতিহাসের প্রতিটি সফল রাজনৈতিক আন্দোলনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের সাফল্যের পেছনে ছিল সময়ের দাবি বোঝার সক্ষমতা এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাহস। বিপরীতে, যেসব দল বা নেতৃত্ব সময়ের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা ধীরে ধীরে জনসমর্থন হারিয়ে ইতিহাসের প্রান্তে চলে গেছে।

‎লেখক, ‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা (স্বপ্নদ্রষ্টা: গাজী বাজার)