দলীয় শৃঙ্খলা, আদর্শ ও সাংগঠনিক নীতিমালা পরিপন্থী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আওতাধীন ১২ নং বল্লী ইউনিয়ন যুব ও ক্রীড়া বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ফিরোজ শাহ-কে সংগঠনের সকল সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে ঘটনাটি বিশদ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী প্রমাণিত হলে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৮ জুলাই বুধবার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে সাতক্ষীরা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষিকা সালমা আক্তারের সাথে পরকীয়া করার সময় নিজ স্ত্রীর হাতে হাতেনাতে আটক হন এই জামায়াত নেতা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বল্লী ইউনিয়ন যুব ও ক্রীড়া বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ফিরোজ শাহ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষিকা সালমা আক্তারের সাথে অনৈতিক ও পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। গত ৮ জুলাই বুধবার তারা দুজনে সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে দেখা করতে মিলিত হন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফিরোজ শাহ-এর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের দুজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং চরম অপমান-অপদস্ত করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পার্ক এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এদিকে ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ৯ জুলাই, শিক্ষিকা সালমা আক্তার নিজের এই চরম জঘন্য কুকর্ম ঢাকতে মাঠে নামেন। কিছু ভুঁইফোড় ও সুবিধাবাদী সাংবাদিকদের পরামর্শে তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি সম্পূর্ণ সাজানো ও মনগড়া নাটক মঞ্চস্থ করেন। সেখানে সালমা আক্তার দাবি করেন, তার প্রয়াত স্বামী মোঃ সাইফুল ইসলাম (যিনি পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই-এর সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন) এর রুহের মাগফেরাতের উদ্দেশ্যে উক্ত জামাত নেতার মাধ্যমে কিছু অর্থ দান করার জন্যই তিনি শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে দেখা করতে গিয়েছিলেন! এবং সেখানে নাকি জামায়াত নেতার স্ত্রী দ্বারা তিনি বিনা কারণে অপদস্ত হয়েছেন। তবে সচেতন মহল ও গভীর অনুসন্ধানে এই দানের গল্প সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও আইওয়াশ বলে প্রমাণিত হয়েছে।
গভীর অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সাতক্ষীরা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের রসায়ন বিভাগের এই শিক্ষিকা সালমা আক্তারের চারিত্রিক কলঙ্ক এটাই প্রথম নয়। তিনি ইতিপূর্বেও একাধিক পরকীয়া ও অনৈতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন বলে জোর দাবি উঠেছে। এই চারিত্রিক স্খলনের কারণেই তিনি ইতিপূর্বে নিজের শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হন। আরও মর্মান্তিক তথ্য হলো, শিক্ষিকা সালমা আক্তারের এই অনৈতিক ও পরকীয়ার জঘন্য কুকর্ম সইতে না পেরেই তার স্বামী তীব্র মানসিক আঘাতে (স্ট্রোকজনিত কারণে) মৃত্যুবরণ করেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
এই অনৈতিক কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পরপরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় জামায়াত নেতৃত্ব। জেলা সংগঠনের নির্দেশক্রমে ১২ নং বল্লী ইউনিয়ন শাখার আমীর মোঃ মিজানুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দলীয় শৃঙ্খলা, আদর্শ ও সাংগঠনিক নীতিমালা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ফিরোজ শাহ-এর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাকে ১২ নং বল্লী ইউনিয়ন যুব ও ক্রীড়া বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি পদসহ সংগঠনের সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং বিশদ তদন্ত সাপেক্ষে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সকল দায়িত্বশীল, সদস্য, সহযোগী ও শুভানুধ্যায়ীদের এই বিষয়ে অবগত থেকে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে সমাজে সত্য, ন্যায়, শৃঙ্খলা ও আদর্শের ওপর অটল থাকার আহ্বান জানানো হয়। একজন শিক্ষিকা এবং একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার এমন অনৈতিক ও ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডে সাতক্ষীরার সুধী সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফিরোজ শাহ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ঘটনাটি নিয়ে একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি বিষয়টি সম্পর্কে আমার বক্তব্য সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে ধরেছি। প্রয়োজনে আইনগতভাবেও বিষয়টির মোকাবিলা করব।
সাতক্ষীরা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষিকা সালমা আক্তারের ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
মোহাম্মদ মুজাহিদ, 








