শাহ জাহান আলী মিটন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন, হয়রানি এবং মিথ্যা মামলায় একটি পরিবারকে বিপর্যস্ত করার অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন নাসিমা খাতুন।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি এসব অভিযোগ করেন। নাসিমা খাতুন কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা ও মো. রেজাউল ইসলামের ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার স্বামী মো. রেজাউল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। ২০১৮ সালে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান কে. এম. মোশাররফ হোসেন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর থেকেই বর্তমান চেয়ারম্যান ও নিহত চেয়ারম্যানের কন্যা সাফিয়া পারভীন তাদের পরিবারকে সন্দেহের চোখে দেখে আসছেন। সেই ঘটনার পর থেকে নানাভাবে তাদের পরিবারের ওপর নির্যাতন ও হয়রানি চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাসিমা খাতুন দাবি করেন, গত পাঁচ বছর ধরে তাদের পরিবার এলাকায় স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছে না। নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীন তার স্বামীকে একের পর এক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় জড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশের পর রেজাউল ইসলামের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মামলা দেওয়া শুরু হয়। বর্তমানে একটি মামলায় তিনি প্রায় চার মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীনের বিরুদ্ধে প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগও তোলা হয়। তার সহযোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন অপকর্ম সংঘটিত হলেও সেসব ঘটনার দায় রেজাউল ইসলামের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন নাসিমা খাতুন।
এ সময় এস.এম. নাসির নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়। নাসিমা খাতুনের ভাষ্য, তাদের পরিবারকে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে নাসিমা খাতুন বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে মুক্তি চাই। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।”
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীন বা অভিযুক্ত অন্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
রিপোর্টার 













